পাকিস্তানের ঘৃণার শরীক কেউ নয়

For Sharing

৭৪তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভায় কাশ্মীর প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক রুপ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রয়াস পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের ভারতীয়দের তথাকথিত ভাগ্যের বিষয়ে তিনি তারস্বরে প্রচার করেন। তবে সাধারণ সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কথায় কেউ কর্ণপাত করে নি। ইমরান খান যুদ্ধের কথা তোলেন এমনকি “পরমাণু” র  মত শব্দও তিনি উচ্চরণ করেন। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পাকিস্তান প্রায়শঃই এইগুলি ব্যবহার করে থাকে।

পাকিস্তানী নেতা মার্কিন প্রশাসন থেকেও তেমন কোনো সমর্থন পান নি। কাশ্মীরীদের কথা তিনি যেভাবে উত্থাপন করেছেন সেই ভাবে উইঘুরদের কথা উল্লেখ না করার জন্য বস্তুতঃ পক্ষে মার্কিন বিদেশ বিভাগ তাঁর সমালোচনা করেছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী এ্যালিস ওয়েলস কাশ্মীর সম্পর্কে শ্রী খানের মন্তব্যকে সহায়ক নয় বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ করে দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে বেশি বাত-বিতন্ডা উচিত নয়। শ্রীমতী ওয়েলস চীনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী কেন কিছু বলেন নি সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন। চীন লক্ষ লক্ষ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রেখেছেন হ্যান চীনা পরম্পরার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য। পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী আসলে উইঘুরদের ভাগ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন কারণ চীনের সঙ্গে তাদের বিশেষ ধরণের সম্পর্ক বর্তমান।

৭৪তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভায় পাকিস্তানী নেতার ভাষণের ভারতীয় জবাব ছিল পরিপক্ক এবং বাস্তবোচিত। ভারত পাকিস্তানী নেতার পরমাণু হুমকিকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছে।

ভারত বলেছে শ্রী খানের বক্তব্য রাষ্ট্রসংঘে বিভাজন এবং ঘৃণা সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারী শ্রীমতী বিদিশা মৈত্র বলেন সন্ত্রাসবাদের ধাতৃভূমির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খানের সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত যুক্তি নির্লজ্জ এবং উত্তেজনা সৃষ্টিকারী।

তিনি শ্রী খানকে স্মরণ করিয়ে দেন যে পাকিস্তানে কোনো জঙ্গী সংগঠন নেই এটি পরীক্ষা করতে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি তাঁকে রক্ষা করতে হবে। ভারতীয় প্রতিনিধি প্রশ্ন করেন ১৩০জন রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত এবং ২৫জন রাষ্ট্রসংঘ তালিকাভুক্ত জঙ্গী পাকিস্তানে রয়েছে এই বাস্তবতা পাকিস্তানকে স্বীকার করতেই হবে।

সন্ত্রাসবাদ এবং ঘৃণা ছড়ানোর মাধ্যমে পাকিস্তান মানবাধিকারের নতুন প্রবক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। ভারত ১৯৩ সদস্যের রাষ্ট্রসংঘকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা ১৯৪৭এর ২৩ শতাংশের তুলনায় বর্তমানে কমে হয়েছে ৩ শতাংশ।  এছাড়া, খ্রীস্টান, শিখ, আহমাদিয়াস, হিন্দু, শিয়া, পশ্তুন, সিন্ধি এবং বালোচ সম্প্রদায়কে  ঈশ্বর নিন্দা,  পদ্ধতিগত নিপীড়ন,   এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তর সংক্রান্ত কঠোর আইনের শিকার হতে হয়।

ভারত বলেছে, মানবাধিকারের প্রতি পাকিস্তানের এই নতুন আগ্রহ সুনাম অর্জনের প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৯৭১এ নিজের দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে হত্যালীলা চালানোর জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা না করতে ভারত বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের বিষয়ে পাকিস্তানের তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ হল যারা বিরোধীতায় লিপ্ত থাকে তারা কখনও শান্তিকে স্বাগত জানাতে পারে না। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ এবং ঘৃণা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত, অন্যদিকে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদখকে মূল স্রোতে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা এই পরিচয়ই বহন করে যে ভারতীয় গণতন্ত্র বৈচিত্র, বহুত্ববাদ এবং সহিষ্ণুতার  যুগপ্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।

পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলিও রাষ্ট্রসংঘে শ্রী খানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে যে কাশ্মীরের বিষয়ে সমর্থন সংগ্রহ ছাড়াই তিনি খালি হাতে ফিরে এসেছেন। (মূল রচনাঃ কৌশিক রায়)