আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনঃ শান্তি ফেরার আশা

For Sharing

আফগানিস্তানের দু বার পিছিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২৮শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কঠোর নিরাপত্তার মাঝে। মোট ১৫জন রাষ্ট্রপতির পদপ্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নেন। সারা দেশে ৪,৯০০ নির্বাচন কেন্দ্র খোলা হয় এবং মোট ভোটদাতার সংখ্যা ৯.৬ মিলিয়ন। তবে, ভোটদানের কমে হয় আগের নির্বাচনের ৬০ শতাংশের তুলনায় মাত্র ২০ শতাংশ। শান্তি স্থাপনের জন্য নির্বাচিত সরকার তালিবানদের সঙ্গে আলোচনার বৈধ অধিকার পাবে।

নির্বাচনের দিন সারা দেশে রকেট এবং বোমা হামলা সহ প্রায় ৪০০র বেশি আক্রমণ হয়। সম্ভবতঃ ভোটদাতাদের ভীতি প্রদর্শনের জন্যই এটি করা হয়েছিল। অনেক ভোটদাতার নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। দুজন প্রধান প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আসরাফ গণিএবং অন্যজন বর্তমান মুখ্য কার্যনির্বাহী ড. আবদুল্লা আবদুল্লা। উল্লেখ করা যেতে পারে যে ২০১৪ সালের গত নির্বাচন ছিল বিতর্কিত  সেই কারণে মোট ভোটের শতকরা একশোভাগ ভোট দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। এক সমঝোতা সূত্রের মাধ্যমে ড. আবদুল্লা আবদুল্লাকে ক্ষমতার অংশীদার করা হয়েছিল।

২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে রয়েছে একটি নির্বাচিত সংসদ। পাশ্চাত্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়  তালিবানরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তারা কাবুলের সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুল বলে অভিহিত করে, তাই তারা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে। দোহায় তালিবান কার্যালয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালানো হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াও একাধিক বৈঠকে তালিবান প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করে। স্থানীয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রাশিয়া গতবছর বহুপাক্ষিক শিখর বৈঠকের আয়োজন করে, তাতে উচ্চ শান্তি পরিষদে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি গনি চারজন সদস্য পাঠান। মস্কো এবছর এপ্রিলে আন্তঃআফগান সম্মেলনের আয়োজন করে।

তালিবানরা চীন এবং পাকিস্তানের সঙ্গেও বৈঠক করে। এই সব মঞ্চে তালিবান প্রতিনিধিদের আফগান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় কোনো আপত্তি ছিল না। জুলাই মাসে দোহায় কাতার এবং জার্মানীর তত্বাবধানে দুদিনের এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়; সেখানে এই প্রথম তালিবান প্রতিনিধিরা আন্তঃআফগান শান্তি আলোচনার অংগ হিসেবে আফগানিস্তানের ৫০সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মিলিত হন। তালিবান এবং আফগান আধিকারিকদের মধ্যে এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযগ।

এর আগে তালিবানরা আলচনার পূর্বে বিদেশী সৈন্যদের প্রস্থান চেয়েছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের ফলে, তারা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়। বৈরী গোষ্ঠীও মেয়েদের শিক্ষা এবং মহিলাদের অধিকারের বিষয়ে নিজেদের অধিকতর উদারবাদী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

কাবুলে NATOর রেসোলিউট সাপোর্ট মিশনের সদরদপ্তরে গাড়ি বোমা আক্রমনের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করার পর আফগানিস্তানে শান্তির ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সদ্য অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিধ্বস্ত এই দেশের জন্য এটাই হল শান্তির চাবিকাঠি।

তবে কম ভোট পড়ায় সরকার গঠনে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। তালিবানরা নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে বলেই মনে হচ্ছে। ড. আবদুল্লা আবদুল্লা ইতিমধ্যেই বলেছেন যে তার সমর্থকরা গতবারের মত নির্বাচনের কারচুপি বরদাস্ত করবে না।

এমতাবস্থায় প্রশ্ন হল সমস্ত পক্ষের কাছে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কি না। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের ফলাফল  ঘোষিত হবার কথা। শান্তি স্থাপনই যেহেতু সব চেয়ে বড় কথা তাই নির্বাচনী ফলাফল আফগানিস্তানে নতুন পথের সন্ধান দেবে বলেই সকলে আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন। নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়ার অন্য কোনো পথ নেই। আফগানিস্তান পুনর্গঠন দপ্তরের বিশেষ ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশের ৫৬ শতাংশ অঞ্চল তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে। তাই নতুন সরকারের সামনে মস্তবড় চ্যালেঞ্জ হল দেশবাসীর রায়কে রুপায়িত করা। (মূল রচনাঃ ড. স্মৃতি এস পট্টনায়েক)