ভারত-সৌদি আরব সম্পর্ক

For Sharing

ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে যুগপ্রাচীন মৈত্রী সম্পর্ক বিদ্যমান। দুটি দেশ পরস্পরের কৌশলগত অংশীদার ও তারা বহু ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। এই মৈত্রী সম্পর্ক অধিক মজবুত করার লক্ষ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল দু দিনের সফরে সৌদি আরব যান। । এই সফরে  শ্রী ডোভাল,  সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমান’এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুসেদ-বিন আইবান’এর সঙ্গেও কথা বলেছেন। দুটি বৈঠকেই দুই পক্ষের মধ্যে  দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ জড়িত বিষয় ছাড়াও বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচ্য বিষয় সূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ-বিন-সালমানের যুগ্ম পৌরোহিত্যে ভারত-সৌদি -কৌশলগত -অংশীদারিত্ব- পরিষদ গঠনের বিধিনিয়ম রচনার প্রসঙ্গটি  বিশেষ প্রাধান্য পায়।

উল্লেখ করা যেতে পারে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভার ৭৪-তম অধিবেশনে যোগ দেবার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পথে সৌদি আরবে যান। নতুন দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা  বিষয়ক সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদটি বাতিল করার পর  ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রেক্ষিতে পাক প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে বিশেষ কৌতুহল সৃষ্টি হয়। ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপের  বিরুদ্ধে ইমরান খান, তাঁর দেশের অবস্থানের অনুকূলে রিয়াদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যেই যে ওই দেশে যান,তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট।

এই কারণেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ রদ সংক্রান্ত নতুন দিল্লির অবস্থান ও ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত  সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদ সমস্যা  সম্পর্কে সৌদি নেতৃত্বকে অবহিত করতেই ওই দেশ সফরে গেলেন। জম্মু ও কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ; আর  সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্ত যে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির মূল ধারায়  রাজ্যের মানুষকে জড়িত করার জন্য  অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, শ্রী ডোভাল সৌদি নেতৃত্বকে সে বিষয়ে অবহিত করেন। ভারতের মত সৌদি আরবও সন্ত্রাসবাদের শিকার। মাত্র কিছু দিন আগেই ইয়েমেনের সন্দেহভাজন হাঊথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দুটি তেল পরিশোধনাগার  লক্ষ্য করে ড্রোন আক্রমণ চালায়। দেশটি আই এস জঙ্গিদেরও লক্ষ্যবস্তু।  নতুন দিল্লি ও রিয়াধ একযোগে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করছে।  সন্ত্রাসবাদ ও চরম পন্থী ভাবাদর্শের বিরুদ্ধে মুসলিম দুনিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করতে রিয়াধ অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বর্তমান এন ডি এ সরকারের আমলে দুটি দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এ বছরের শুরুতে সৌদি যুবরাজ বিন-সালমানের নতুন দিল্লি সফরের সমাপ্তিতে  জারি করা যৌথ ঘোষণাপত্রে  বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস পরিকাঠামো নির্মূল করতে  দুটি দেশ আহ্বান জানায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ,  এ বছরের জানুয়ারীতে পুলওয়ামা হামলা ও এর আগে ২০১৬’তে পাঠানকোট ও উরিতে জঙ্গি হামলার কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে।

এ মাসের শেষের দিকে আর্থিক ব্যবস্থাগ্রহণ বিষয়ক টাস্ক ফোর্স- FATF’এর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাবের প্রসঙ্গটিও  অজিত ডোভালের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বের আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবাদে ক্রমাগত আর্থিক মদত দানের অপরাধে ২০১৮ তে FATF, ইসলামাবাদকে সতর্ক করে দেয়।  FATF’এর আগামী অধিবেশনে সৌদি আরব, রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিমত ব্যক্ত করলে তা হবে ভারত-সৌদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি ঘটনা।

সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বিগত বছরগুলিতে ক্রমাগত মজবুত হয়ে উঠছে,যার ভিত্তি রচিত হয় ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রিয়াধ সফরে। ওই সফর দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন দিশা দেয়। বর্তমান দিনগুলিতে  দু পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ছাড়াও নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। (মূল রচনাঃ- ডঃ মহম্মদ মুদ্দাসির কামার)