ইমরান খান সরকার এখন কোণঠাসা অবস্থায়

For Sharing

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর প্রসঙ্গে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ায় আশাহত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই মনোভাব ব্যক্ত করলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এর দুটি সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পেয়েছেন। প্রথমত,  আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে হাউডি মোদি অনুষ্ঠানের ওপরেই বেশি লেখালেখি হয়েছে। বিশেষ করে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতির কারণেই তা সংবাদ মাধ্যমের বেশিমাত্রায় নজর কেড়েছে। দ্বিতীয়ত, মালয়েশিয়া ও তুরস্ক বাদে কোনও মুসলিম দেশই ইমরান খানের ভাষণ ও আবেদনে সাড়া দেয় নি।  রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভার  ৭৪-তম অধিবেশনে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে ভাষণ দেন, ভারত  পররাষ্ট্র বিভাগের একজন তরুণ ফাস্ট সেক্রেটারির মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ায় তা ইসলামাবাদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে।  ওই ভাষণে পাক প্রধানমন্ত্রী যে সব কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে তাঁর নিজের দেশে ফলাও  করে প্রচার করা হলেও ওই অধিবেশনে ইমরান খানের সেই ভাষণ ও বিশেষ করে, কাশ্মীর বিষয়ে  ইসলামাবাদের সামগ্রিক নীতি কৌশল ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নানা বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠছে, আর এই কারণেই  দেশে ও দেশের বাইরে ইমরান খানের  সমালোচনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য, কেবল ভাষণেই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা যাবে না। এর জন্য দরকার সরকারের একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও একটি নতুন দীর্ঘকালীন নীতি। প্রধান বিরোধী দল-পাকিস্তান পিপলস পার্টী-PPP’র সভাপতি বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, কিছু হাতে গোনা প্রচার মাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাষ্ট্রসংঘে ইমরান খানের বক্তৃতাকে রঙ চড়িয়ে প্রচার করছে; আসলে ওই বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর পরিস্থিতিকে  ঠিকমত তুলে ধরতেই ব্যর্থ হয়েছেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খানের মধ্যে বৈঠককে পাকিস্তানের স্বার্থের নিরিখে একান্তই নিষ্ফলা বলে অভিহিত করা হয়েছে।

আসলে পাক প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁর দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি আদায় করতে  ও ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাক্রম প্রমাণ করে, এই দুটি বিষয়েই তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।  ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহলে আরও যাতে বিব্রত হতে না হয়, তার জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই সন্ত্রাসবাদে মদতদান বন্ধ করতে হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভার ওই অধিবেশনে তাঁর ভাষণে সুচিন্তিতভাবে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন না করে, পরিবর্তে মানব সভ্যতার সামনে সন্ত্রাসবাদের  বিপদের বিষয়কে তাঁর ভাষণের কেন্দ্রবিন্দু করায় তা, এই মঞ্চে ইমরান খানের বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে। পাকিস্তানে এখন ক্রমশ ধারণা জন্মাচ্ছে, যে  কাশ্মীর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল নতুন দিল্লির পাশে থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি, ইসলামিক দেশ সংগঠন- OIC ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ সৌদি আরবও ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়াতে ইতস্তত করছে।

পাকিস্তানের মধ্যেও ক্ষমতাসীন তেহেরিক-এ-ইনসাফ-PTI সরকার ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। বিরোধী দলগুলি ইমরান খান সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরতে একটি যৌথ প্রতিরোধ আন্দোলন সূচনার পরিকল্পনা করছে। জামাত-উলেমা-ই ইসলাম- Fazal পার্টীর মৌলানা ফজল উর রহমান এ মাসের শেষের দিকে সরকারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

PPP’র সভাপতি বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও সরকারের বিরুদ্ধে জন আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশ ব্যাপী যাত্রার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরেই ইমরান খান সরকারের সময় ভাল যাচ্ছে না। ইসলামাবাদ তার ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে লাগাম না টানলে এবার আর্থিক ব্যবস্থাগ্রহণ সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স- FATF তাকে কালো তালিকাভুক্ত করবে বলে আশংকা রয়েছে। অন্যদিকে,পাকিস্তানে  দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মত যে নানা অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে, তার সমাধান না করলে শীঘ্রই সাধারণ মানুষ ছাড়াও সংঘবদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তীব্র ক্ষোভের সম্মুখীন হতে হবে। (মূল রচনাঃ- ডঃ জয়নাব আখতার)