ভারত অর্থনৈতিক শিখর সম্মেলন অগ্রগতির সংকেত

For Sharing

ভারতের নীতিগত সমাধানের মূলে রয়েছে উৎপাদনমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থায়ী অর্থনীতি যা বিশ্বস্তরে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নত অর্থব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণের পথে এক মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মঞ্চ ডব্লু ই এফ এর সভাপতি বার্জ ব্রেন্ডের বক্তব্যের এটাই ছিল উপসংহার। নতুন দিল্লীতে ভারতীয় শিল্প মহাসঙ্ঘের যৌথভাবে আয়োজিত ভারত অর্থনৈতিক মঞ্চে তিনি তার মতামত ভাগ করে নেন। বিশেষভাবে উল্লেখের বিষয় হল অধিকাংশ বিদেশী এবং অভ্যন্তরীন অংশগ্রহণকারীরা এবং বাণিজ্যিক কার্যনির্বাহীরা এই প্রশংসনীয় বক্তব্যে নিজেদের ভাবনার প্রতিধ্বনি লক্ষ্য করেন। ভারত রোল মডেল স্থাপন করতে পারে এই বিষয়ে সকলে অভিন্ন মত পোষণ করেন। তাছাড়া জটিল আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের সমাধানে ভারত দৃষ্টান্তযোগ্য ভূমিকা পালনের মাধ্যমে বিশ্বের পথ প্রদর্শন করতে সক্ষম।

ডব্লু ই এফ এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সারিতা নায়ার উল্লেখ করেন ব্যাংক সংযুক্তিকরণ এবং কর্পোরেট কর হ্রাসের মত সর্বশেষ সংস্কারগুচ্ছ বিনিয়োগের গন্তব্যস্থান হিসেবে ভারতের প্রতি আকর্ষণ আরো বৃদ্ধি করেছে। কর্পোরেট কর হ্রাসের ফলে অর্থনীতিতে একান্ত প্রয়োজনীয় তেজীভাব আসতে চলেছে। এর ফলে ভারত এখন তার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় অংশীদারদের সঙ্গে সমান তালে চলতে সক্ষম হবে। বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার থাকায় প্রতিযোগিতার সুবিধা ভারতের অনুকূলে।

বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন দক্ষিণ এশিয়া দারিদ্রের মত অভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন, তার মোকাবিলায় তিনি এক সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন। তিনি বলেন আঞ্চলিক জনগোষ্ঠী এবং ভাষাগত বৈচিত্র সত্বেও এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অন্তর্নিহিত শক্তি হল বহুত্ববাদ। তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রীমতী হাসিনা বলেন ঢাকা একসঙ্গে ব্যবসা এবং বিনিয়োগে আগ্রহী। এই ক্ষেত্রে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্প স্থাপন করতে পারে এবং উৎপন্ন সামগ্রী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজগুলি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় দেশগুলিতে রপ্তানী করতে পারে; কারণ আমাদের মধ্যে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। সার্ক আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির অচলাবস্থা দূর করে তাকে আবার সক্রিয় করার জন্য এটি একটি বিবেচনা সম্মত  প্রস্তাব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন নিজেদের রাজনৈতিক কারণে অর্থনৈতিক প্রশ্নে ইসলামাবাদের আগ্রহের অভাবের দরুণ এই চুক্তি কার্যতঃ নিস্ক্রিয় রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.জয়শংকর বলেন যে একজন  ছাড়াই সমস্ত প্রতিবেশীদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বস্তুতঃপক্ষে ভাল কাজ করছে এবং ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য নিরলস প্রয়াস চালিয়ে  যাচ্ছে। একজনকে ছাড়াই বলতে ড. এস জয়শংকর নামোচ্চরণ না করেও  যে পাকিস্তানের কথা উল্লখে করেন তা অনুধাবনে অসুবিধা হবার কথা নয়। তারা অসাফল্যের সঙ্গে কাশ্মীর প্রসঙ্গকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপন করছে; অথচ সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই দেখছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রী ইউল্বার রোজ আশা প্রকাশ করেন যে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি ত্বরায় স্বাক্ষরিত না হবার কোনো কারণ নেই। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পীয়ুষ গোয়েলও অনুরুপ অভিমত পোষণ করেন। এই চুক্তিতে উভয়ের বাজারে অভ্যন্তরীণ পণ্যের সংরক্ষণ সহ জটিল দ্বিপাক্ষিক পশ্নের সমাধানের সংস্থান রয়েছে। মন্ত্রী রোজ বলেন ভারতকে তাদের ক্ষুদ্র খুচরো বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে এবং সেই সঙ্গে বিকাশের গতিকে এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে অপেক্ষাকৃত সস্তা পণ্যে ই-কমার্সের প্রবেশাধিকারও আবশ্যক। শ্রী গোয়েল বলেন ই-কমার্স পরিচালকরা মূল্য নির্ধারণ বা বৃহৎ মূলধন শক্তি ব্যবহার করে ভারতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার নিরাপত্তা নষ্ট করতে পারে না।

নীতি আয়োগের সি ই ও অমিতাভ কান্ত কর্পোরেট কর হ্রাস, সরকারী ক্ষেত্রের বিলগ্নিকরণের মত নানান পদক্ষেপের উল্লেখ করেন  এবং বলেন যে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আরো সংস্কার আনা হচ্ছে। বিশেষ করে   তিনি উল্লক করেন যে ভারতীয় অর্থনীতি গত পাঁচ বছরে প্রায় ৭.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ছে।

দুদিনের ভারত কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভারতের উন্নতি এবং তার নাগরিকের জন্য ধারাবাহিক বিকাশের কথা উল্লেখ করা হয়। এই সম্মেলন সর্বাত্মক বিকাশের লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কারের পথে ভারতের নিরলস প্রয়াসেরও ইঙ্গিত বহন করে। (মূল রচনাঃ জি. শ্রীনিবাসন)