ভারতীয় বিমান বাহিনীতে রাফায়েলের অন্তর্ভুক্তি

For Sharing

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং ফ্রান্সের মেরিগ্নাক এয়ার বেসে ৩৬টি পরমাণূ সক্ষম রাফায়েল জঙ্গী জেট বিমানের প্রথমটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করলেন। এর ফলে, ভারতীয় বিমান বাহিনী শত্রু পক্ষের তুলনায় উন্নত প্রযুক্তি অর্জনে সক্ষম হল। সামরিক শক্তিতে উন্নত সমস্ত দেশ যুদ্ধ ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী হতে সচেষ্ট হয়; তা চিরাচরিত, কৌশলগত বা অ-চিরাচরিত যুদ্ধাস্ত্র যাই হোক না কেন।

ভারত যখন প্রতিবেশী দেশের পরমাণূ হুমকীর সম্মুখিন, তখন  রাফায়েলের এই অন্তর্ভুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা এবং মনোবল বৃদ্ধি করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, সম্ভাব্য শত্রুদের ক্রমবর্ধমান অস্ত্র সংগ্রহ কর্মসূচি এবং সারা বিশ্বে নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তি ও সাজসরঞ্জামের প্রেক্ষিতে ভারতেরও সামরিক সক্ষমতা উন্নত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, পরমাণূ সক্ষম বহু-ভূমিকা বিশিষ্ট জঙ্গী জেট বিমান সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।

জটিল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভারতীয় বিমান বাহিনী ছ’টি বিদেশী চতুর্থ এবং পরবর্তী প্রজন্মের ফাইটার বিমান পরীক্ষা করে। এই প্রক্রিয়ায়  ৬০০ শর্তাবলী তালিকাভুক্ত করা হয় এবং পাসের অংক নির্ধারিত করা হয় ৫৯০। এই কঠিন পরীক্ষায় তার কম অংক পেলে রাফায়েল কোনোভাবেই পাশ হতো না। রাফায়েল হল মাঝারী বহুমুখী-ভূমিকার কমব্যাট বিমান এম এম আর সি এ। এর ফলে আকাশ যুদ্ধে ভারতের প্রাধান্য বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে রাশিয়ার তৈরি সুখয় এস ইউ-৩০এম কে আই এবং মিগ ২৯এর মত জঙ্গী জেট বিমান। সেই সঙ্গে রয়েছে ফরাসী মিরাজ-২০০০ এবং দেশে তৈরি এইচ এ এল এর নির্মিত তেজস।

রাফায়েল সম্পূর্ণরুপে বহু-উদ্দেশ্য সাধক বিমান যা আকাশে অধিক প্রাধান্য পায়, এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক এবং অনেক গভীরে গিয়ে আঘাত হানতে এবং পরমাণূ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন রাফায়েল ভারতীয় বিমান বাহিনীর স্বরূপ বদলে দিতে পারে কারণ শত্রু পক্ষ যাতে তার পরিচালন ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে না পারে সেই ক্ষমতা রাফায়েলের রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের হুমকী সত্বেও ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং সেই উদ্দেশ্যেই প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা একান্ত আবশ্যক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং অন্তর্ভুক্তিকরণ অনুষ্ঠানে যে ভাষন দেন তাতে এই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি বলেন, রাফায়েলের অন্তর্ভুক্তির ফলে রণাঙ্গনে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সেটি প্রতিরোধের ক্ষমতা। শত্রুপক্ষের দুঃসাহস প্রতিরোধের ক্ষমতাই হল সামরিক সক্ষমতা।

ভবিষ্যত লড়াইএ বিমান ক্ষমতা নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা পালন করবে। কার্যকারিতা, দূর পাল্লা, নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ ইত্যাদি বিমান বাহিনীকে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতায় শক্তিশালী করে তোলে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ হল, বিমান ক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা যেতে পারে। গত ফেব্রুয়ারী মাসে বালাকোটে জঙ্গী প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিমান শক্তির সর্বোত্তম প্রয়োগের এক জলন্ত দৃষ্টান্ত। ভারতীয় বিমান বাহিনীকে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্য হল ভারতের জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা।

তাছাড়া, পুরনো ফাইটার স্কোয়াড্রনের পরিবর্তনের আবশ্যকতাও দেখা দিয়েছে। ফাইটার বিমান বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। সংগ্রহ প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ এবং জটিল। এর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বহুসংখ্যক যন্ত্রাংশ এবং ব্যয়সাপেক্ষ কাঁচামালের মধ্যে নিখুঁত সামঞ্জস্য বিধান দরকার হয়। সেই কারণেই বিমান বাহিনীর যুদ্ধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা হ্রাস করা প্রয়োজন।

৩৬ মাসের মধ্যে সরাসরি ৩৬টি রাফায়েল বিমান ক্রয়ের সরকারী সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এক সাহসী পদক্ষেপ। রাফায়েলের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধ ক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি করবে এবং  ভবিষ্যতে যুদ্ধ পরিহার করতে সামগ্রিকভাবে সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটাবে বলে আশা করা যেতেই পারে। (মূল রচনাঃ উত্তম বিশ্বাস)