দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্ত বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ

For Sharing

১২.১০.২০১৯

২০১০ থেকে ১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বিশ্ব ব্যাঙ্ক গত সোমবার এক রিপোর্টে  জনিয়েছে, দারিদ্র দূরীকরণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। রাজধানী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সোমবার বিশ্ব ব্যাঙ্ক বাংলাদেশ ও ভুটানের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক মার্সি টেম্বন বলেন, গত ১০ বছরে দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে।  রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন এখনও দারিদ্র এবং সমাজের দরিদ্র শ্রেণির অর্ধেক মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটান। ন্যূনতম খাবারটুকুও তারা পান না। তাই দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে বাংলাদেশকে আরও চেষ্টা করতে হবে। দেশের পূর্ব এবং পশ্চিমাংশের মধ্যে দারিদ্যের ঐতিহাসিক ব্যবধান আরও বেড়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এ এইচ এম মুস্তাফা কামাল বলেন, আগামী ১০ বছরে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য এবং ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সরকারের প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।

 

ঢাকায় গত সোমবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনলজির ছাত্র আবরার ফারহাদকে খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। মুক্ত চিন্তার প্রকাশের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাক স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকার, কোনওভাবেই তা খর্ব হতে দেওয়া যায় না। ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, এই হত্যা অত্যন্ত নিন্দাজনক। ব্রিটেন বাক স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং আইনের শাসনের পাশে সব সময় রয়েছে। বিরোধী বিএনপি বলেছে, সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ফেণী জল বন্টন নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, তার বিরোধিতা করায় আবরারকে খুন করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে, শেখ হাসিনা বলেছেন, আবরারকে যারা হত্যা করেছে তাদের চরম শাস্তি দেওয়া হবে। এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের রেয়াদ করা হবে না। পুলিশ এপযন্ত এই ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলিগের ওই শাখার সাধারণ সম্পাদকও রয়েছে।

 

মায়ানমার রোহিঙ্গাদের দমনপীড়ন বন্ধের ব্যবস্থা করতে পারেনি। সেজন্য রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য ওই দেশ নিরাপদ নয়। এমনই একটি রিপোর্ট রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় পেশ করা হয়েছে। মায়ানমার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ তদন্তকারি ইয়াংশি লি তার রিপোর্টে বলেছেন, উত্তর রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যাচাই করার পর রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার যে প্রতিজ্ঞা মায়ানমার সরকার করেছিল তা তাদের নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান নয়। লি মায়ানমার সেনার অধীনস্থ সংস্থাগুলির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এইসব সংস্থাই ২০১১ থেকে রোহিঙ্গাদের দুঃখ দুর্দশার জন্য দায়ী।

 

কড়া নিরাপত্তায় ও উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে মণ্ডপের সংখ্যা ৩১ হাজারেরও বেশি, গত বছরের তুলনায় ৫০০ টি বেশি। খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, নারায়ণগঞ্জ ও কক্স বাজার হাজার হাজার মণ্ডপে পূজা দিতে জড়ো হন অসংখ্য মানুষ। শুধুমাত্র ঢাকাতেই ২৩৪টি মণ্ডপে এবার পূজার আয়োজন হয়েছে। শহরের প্রাচীন ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, রমনা পার্ক ও বনানীর মণ্ডগুলি সেজে উঠেছিল অনন্য সাজে। ঢাকার বেশ কয়েকটি প্যান্ডেলে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অয়োজন করা হয়েছিল। ঢাকা থেকে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার দূরে বাগের হাটে বাংলাদেশের সব থেকে বড় পূজামণ্ডপটিতে দেবীর ৮০০টি মূর্তি রয়েছে। শিকদার বাড়ি পুজামণ্ডপ নামে পরিচিত এই পূজা শুরু হয় ২০১১ সালে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গাপুজো উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মানুষের ধর্ম পৃথক হলেও, উৎসব সকলের। দেশবাসীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব যাতে তৈরি না হয়, তারজন্য দেশ সচেষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তিনি। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় বিজয়া দশমীও উদযাপিত হয়েছে দেশের সর্বত্র। রাজধানী ঢাকায় সেদিন মানুষের ভীড় চোখে পড়ে। বহু মণ্ডপে কীর্তনের আয়োজন করা হয়। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন মহিলারা। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মহম্মদ আব্দুল হামিদের সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রিভা গাঙ্গুলি দাস।

 

বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী এস এম সুলতানের ২৫ তম প্রয়াণ বার্ষিকীতে নানা অনুষ্ঠানে তাকে স্মরণ করা হয়। এই উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আলোচনাসভা ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তিনি লাল মিয়াঁ নামে পরিচিত ছিলেন। প্রাকৃতিক শোভা ও গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ ছিল এস এম সুলতানের ছবি আঁকার মূল বিষয়। বাংলাদেশী চিত্রকলার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯২৩ সালে নারাইলে জন্মগ্রহণ করেন, ১৯৯৪ সালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৮২ সালে একুশে পদক সহ সুলতান বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন। কলকাতা আর্ট স্কুলেও শিক্ষাও শিক্ষালাভ করেছিলেন তিনি।

(মূল রচনা – প্রসার ভারতীর বিশেষ সংবাদদাতা রাজেশ ঝা)