ভূসম্পত্তি ক্ষেত্রের উন্নতিতে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ

For Sharing

আন্তর্জাতিক মন্দার ফলে অর্থনীতির বিকাশ যখন মন্থর, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রীক জোট সরকার ব্যাপকভাবে চাহিদা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূসম্পত্তি ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপ সঠিক দিশায় গৃহীত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

অর্থনীতির বিকাশের গতি উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাবার পথে যে সব বাধা রয়েছে তা দূর করতে সরকার ১৬০০ আবাসন প্রকল্পের ৪৫৮,০০০টি আবাসনকে পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫০ বিলিয়ন টাকা তহবিল মঞ্জুর করেছে। ব্যাংক যে সব কোম্পানীকে অনাদায়ী সম্পত্তি বলে শ্রেণী বিন্যাস করেছে অথবা যারা অসচ্ছলতা জনিত সমস্যায় ভুগছে সেই সব কোম্পানী সহ বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমণ আভাষ দিয়েছেন যে সারা দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসন প্রকল্পে যে সব গ্রাহক তাদের মাসিক কিস্তির টাকা দিতে পারছেন না, এর ফলে তারা উপকৃত হবেন।

বন্ধ হয়ে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবাসন প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করার জন্য সরকার ২০০ বিলিয়নের তহবিল গঠনের কথা ঘোষণা করার দু মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া করা হল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই পদক্ষেপ আবাসন ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবনে সহায়ক হবে কারণ বহু সংখ্যক নির্মাণকারী তাদের নতুন এ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করতে পারছে না। এর ফলে বাড়ির ক্রেতা এবং ভূসম্পত্তির কারবারী উভয়েই লাভবান হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত ভূসম্পত্তি ক্ষেত্র অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভারতে ভূসম্পত্তি ক্ষেত্রের আওতায় মূলত রয়েছে আবাসন এবং নির্মাণ ক্ষেত্রে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এর ভূমিকা অপরিসীম। ইস্পাত এবং সিমেন্ট সহ অর্থনীতির সকল স্তরে চাহিদা বৃদ্ধিতেও এই ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  অর্থনীতির ১৪টি বড় বড় ক্ষেত্রের মধ্যে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রভাব সৃষ্টির দিক থেকে ভারতীয় নির্মাণ শিল্পের স্থান তৃতীয়। ভূসম্পত্তি ক্ষেত্রকে বিকশিত করার লক্ষ্যে যে কোনো পদক্ষেপ পক্ষান্তরে মোট  অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গতি সঞ্চারিত করবে  এটাই স্বাভাবিক।

ভারতীয় অর্থনীতির আকার এবং পরিধির প্রেক্ষিতে ভারতের ভূসম্পত্তি ক্ষেত্র ২০৩০ সাল নাগাদ ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প নীতি এবং উন্নয়ন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের নির্মাণ বিকাশ ক্ষেত্রে এপ্রিল ২০০০-মার্চ ২০১৯ অবধিতে ২৫.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার  প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে।

উল্লেখযোগ্য হল, ভারতের শেয়ার এবং বিনিময় পর্ষদ সেবি রিয়াল স্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট প্লাটফর্মকে অনুমোদন দিয়েছে, ফলে সমস্ত বিনিয়োগকারী ভারতীয় ভূসম্পত্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। এতে আগামী কয়েক বছরে ১৯.৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ভারতীয় বাজার সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিশ্বায়ণের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় ভূসম্পত্তি কারবারীরা নিজেদের গতি পরিবর্তন করে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় তৎপর হয়ে উঠেছে।

ভূসম্পত্তির ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন শহরের একাধিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রী ও শ্রমশক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে লগ্নি বৃদ্ধি করছে। তারা প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, আর্কিটেকচার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর মত ক্ষেত্রে উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদারদের নিয়োগ করছে।

এই সব বিষয়ের বিবেচনায় ভারত এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে কোনোভাবেই  অবহেলা করতে পারে না কারণ ভারতীয় অর্থনীতিতে ভূসম্পত্তি ক্ষেত্রের ভূমিকা অপরিসীম। তাই ভারত সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ভূসম্পত্তি ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (মূল রচনাঃ আদিত্য রাজ ব্যাস)