প্যারিস চুক্তি থেকে মার্কিন প্রত্যাহার উদ্বেগের বিষয়

For Sharing

২০১৫সালের উল্লেখযোগ্য প্যারিস চুক্তি থেকে সরকারীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার সমগ্র বিশ্বের জন্য এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। গত সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে একথা জানানোর পর থেকেই এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির জ্ঞাপণের এক বছর পর এটি কার্যকর হবে।

২০১৫ সালে প্রায় ২০০টি দেশ প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তাপমান বিপজ্জনক মাত্রায় যাতে বৃদ্ধি না পায় তার জন্য গ্রীণহাউস গ্যাস জি এইচ জি নির্গমন হ্রাস করাই ছিল এর লক্ষ্য। বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এক মাত্র দেশ যারা এই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করলো। চীনের পর তারাই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ যারা সর্বাধিক গ্রীণ হাউস গ্যাস ছড়ায়। তারা ২০১৫ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ হ্রাস করার অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানের পর এই চুক্তির আওতায় আগের ৯৭ শতাংশের পরিবর্তে এখন বিশ্বের কেবল ৮০ শতাংশের মত গ্রীন হাউস গ্যাস অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে জলবায়ু ব্যবস্থাপনার জন্য আর্থিক প্রবাহ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। ট্রাম্প প্রশাসন গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড জি সি এফ এ সব রকম অবদান বন্ধ করে দিয়েছে।

এখন বিশ্বের দৃষ্টি ভারত, চীন এবং অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস সৃষ্টিকারী দেশের প্রতি নিবদ্ধ হবে। স্বভাবতই এই দেশগুলি নির্গমন হ্রাসে অধিক তৎপর হবে বলে আশা করা হবে। অর্থ এবং প্রযুক্তির দিক থেকেও উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে তাদেরই এই শূন্যস্থান পূরণে অধিক অবদান যোগাতে হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ভাবেও নির্গমন হ্রাসে তাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভারত প্যারিস চুক্তিতে তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ভালো অগ্রগতি করছে। ভারত ঘোষণা করেছে যে ২০৩০এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ধার্য লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অধিকাংশ তারা আগামী দেড় বছরের মধ্যে অর্জন করতে সক্ষম হবে। প্যারিসে সি ও পি ২১এ ভারত চারটি প্রতিশ্রুতি দেয়।

জীবাশ্ম-বহির্ভুত জ্বালানী ভিত্তিক বিদ্যুৎ ক্ষমতার ৪০ শতাংশ অর্জন এবং ২০০৫এর তুলনায় ২০৩০এর মধ্যে ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ নির্গমন হ্রাসের জাতীয় অবদান এন ডি সি-র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারত অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই তারা এই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে এবং  ২০৩০এর মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। ভারত যে সব ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ করে চলেছে, তার মধ্যে রয়েছে নবীকরণযোগ্য জ্বালনী, বিশেষ করে সৌর শক্তি প্রকল্প স্থাপন। সৌর শক্তি ক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগের পর্যাপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে এর ফলে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রয়াস জোরদার হবে।

যদিও অনেক কিছুই করতে হবে, তবে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্গমন সীমিত রাখার লক্ষ্যে ভারত তাদের প্রতিশ্রুতি যথাসম্ভব পালন করে চলেছে।

মার্কিন প্রত্যাহার যদিও ভারতকে সরাসরি প্রভাবিত করবে না তবে এতে ভবিষ্যৎ জলবায়ু নীতির ওপর নিঃসন্দেহে প্রতিকূল প্রভাব পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের দিক থেকে ভারত সংবেদনশীল দেশ, তাই তাদের সামনের রাস্তা খুবই দুর্গম। এর ফলে দেশের উন্নয়নী প্রকল্পগুলিও প্রভাবিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

নবীকরণযোগ্য জ্বালানীর ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অগ্রণী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা জীবাশ্ম-বহির্ভুত জ্বালানীতে অধিক বিনিয়োগ করছে। ভারত জানিয়েছে যে তারা কার্বনডাই অক্সাইডের মাত্রা হ্রাস করার লক্ষ্যে ২০২০ নাগাদ দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে চলেছে। ধারাবাহিক অরণ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যার মোকাবিলার লক্ষ্যে তারা কাজ করে চলেছে।  ২০১৮র খসড়া জাতীয় অরণ্য নীতির লক্ষ্য হল বৈজ্ঞানিক উপায়ে ভৌগলিক এলাকার এক তৃতীয়াংশ অরণ্য অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা।

ভারতকে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সৌর জোটের মত নানান আন্তর্জাতিক প্রয়াসের নেতৃত্বে থেকে কাজ করতে হবে। লক্ষ্য পূরণে এখনও তাদের অনেকটা পথ চলতে হবে; তবে ভারত নিঃসন্দেহে দৃঢ়তার সঙ্গে ভবিষ্যৎ স্বচ্ছ জালানীর দিকে এগিয়ে চলেছে।  (মূল রচনাঃ কে ভি ভেংকটসুব্রাহ্মনিয়ম)