ভারত-মার্কিন বাহিনী ত্রয়ের মহড়া ২০১৯   

For Sharing

দ্বিতীয় মোদি সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্যতম হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। বৃহত্তর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং বিশ্ব মঞ্চে তার আশা আকাংখ্যা রুপায়ণের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অংশীদারিত্ব অতি আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই বিষয়টি সম্যকরূপে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৩ থেকে ২১ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের অদূরে ‘টাইগার ট্রায়াম্ফ’ নামের মানব সহায়তা এবং বিপর্যয়  ত্রাণ এইচ এ আর ডি মহড়ার আয়োজন করেছে। এটি এই ধরণের প্রথম মহড়া। এই মহড়ায় মার্কিন মেরিন কর্পস এবং বিশেষ বাহিনী, ভারতীয় নৌ বাহিনীর P8i দূর পাল্লার সামুদ্রিক নিরীক্ষণ ব্যবস্থা এবং সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধ বিমান অন্যদের মধ্যে অংশ নেবে। হারবার পর্যায় অনুষ্ঠিত হবে ১৩ থেকে ১৬ নভেম্বর বিশাখাপত্তনমে এবং দ্বিতীয় পর্যায় হবে কাকিনাড়ায় ১৭ থেকে ২১ নভেম্বর। সিগন্যাল, মেডিক্যাল এবং কমিউনিকেশন শাখা সহ ভারতীয় সেনা বাহিনীর প্রায় ৪০০ সৈনিক  মহড়ায় অংশ নেবেন। অতীতে ভারত কেবল রাশিয়ার সঙ্গেই এই ধরণের মহড়ার আয়োজন করেছে।

২০১৮র সেপ্টেম্বরে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে ২+২ আলচনায় বাহিনী ত্রয়ের মহড়া নিয়ে কথাবার্তা হয়। সেখানে দুটি দেশের সামরিক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে এই মহড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৯এর সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় টেক্সাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাওডি মোদি অনুষ্ঠানে টাইগার ট্রায়াম্ফ মহড়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প।

উভয় দেশ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার বিষয়ে   অভিন্ন অভিমত পোষন করে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ক্রমবর্ধমান সামঞ্জস্যের ফলে দুটি দেশের মধ্যে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এগুলিক হল লজিস্টিক্স এক্সেঞ্জ মেমরেন্ডাম অফ এগ্রিমেন্ট এবং কমিউনিকেশন কম্প্যাটিবিলিটি এবং সিকিউরিটি এগ্রিমেন্ট। বর্তমানে তাদের মধ্যে তৃতীয় চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। এটি হল বেসিক এক্সেঞ্চ এবং কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর পরস্পরের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে পঞ্চাশটির বেশি সহযোগিতামূলক  অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এছাড়া দুটি দেশ বছর একাধিক যুদ্ধ মহড়ারও আয়জন করে। এর মধ্যে রয়েছে নৌ বাহিনীর শীর্ষ স্থানীয়  মালাবার মহড়া এবং সেনা বাহিনীর মধ্যে জঙ্গী বিরোধী বজ্র প্রহার এবং যুদ্ধ অভ্যাস মহড়া। মালাবার মহড়ায় তৃতীয় অংশীদার হিসেবে জাপান অংশ গ্রহণ করে থাকে। এই সব মহড়ার ফলে দুদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী  পরিচালনগত কাঠামোর বিষয়ে বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়। বর্তমান ভারত-মার্কিন মহড়ার ফলে যুদ্ধের অবস্থায় যৌথ অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর অভিজ্ঞতা থেকে ভারত উপকৃত হবে। তাছাড়া ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য দুটি বাহিনীর যৌথ প্রস্তুতির সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যৌথ মহড়া খুবই গুরুত্বপুর্ণ কারণ এর মাধ্যমে দুটি দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীরতর হয়।

স্থল সীমা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রে যে আশংকা রয়েছে তার মোকাবিলায় ভারতকে তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য তাদের দরকার অত্যাধুনিক  প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম। ভারত মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়নের অগ্রণী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানানো হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে,  ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারত একটি সম্ভাব্য অংশীদার। ভারতের প্রতিরক্ষা বাজার অন্য আকর্ষণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে উন্নত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, বিভিন্ন সক্ষম কর্মসূচি এবং সেনা বাহিনীর  পরিচালনযোগ্যতার মাপকাঠিতে বিবেচনা করে থাকে। দুটি দেশ ২০১২ সালের ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক প্রয়াস সংশোধন করতে চলেছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে স্টার্ট আপ্স এবং তৃতীয় বিশ্বের  দেশগুলিকে রপ্তানি সম্ভাবনা অনুসন্ধানের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে গবেষনা এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে ২০১৮র ২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির প্রতি এখন আলোকপাত করার সময় এসেছে। (মূল রচনাঃ ড. স্তুতি ব্যানার্জী)