সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে আলোচ্য বিষয়

For Sharing

সংসদের শীতকালীন অধিবেশন আগামীকাল ১৮’ই নভেম্বর শুরু হচ্ছে; এর সমাপ্তি ঘটবে আগামী ১৩’ই ডিসেম্বর। অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনার সম্ভবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে জারি করা দুটি কেন্দ্রীয় অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেবার বিষয়টিও এই অধিবেশনে নির্ধারিত রাখা হয়েছে।  অনেক দিক থেকেই সংসদের এই শীত কালীন অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে বিতর্ক বেশ জমে উঠবে বলেই অনুমান। বিরোধী শিবির যে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্নে সরকার পক্ষকে বেশ চাপে ফেলতে কোমর বাঁধছে, ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ঠ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।  গত দু বছর সংসদের  শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয় ২১’এ মভেম্বর ও তা সম্পন্ন হয় জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে।  এ দিক থেকে এ বছর শীতকালীন অধিবেশনের মেয়াদ বেশ কিছুটা কম হচ্ছে।

এবার এ বছরের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের ওপর  নজর ফেরানো যাক। এই অধিবেশনে তিন তালাক বিল,  মোটর গাড়ি আইন,ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা সংশোধনী আইন’এর মত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদের অনুমোদন পায়। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটির সার্বিক অর্থে জাতীয় মূল প্রবাহের সঙ্গে সংহতি সাধনের উদ্দেশ্যে  এই বাদল অধিবেশনেই সংবিধানের বিতর্কিত ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ রদ ও জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন  পাশ করা হয়। আগামী কাল থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে  ভারতীয় জনতা পার্টীর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন এন ডি এ, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি-NRC বিলটি আবার উত্থাপন করবে বলে অনুমান, কারণ এ বছরের ৮’ই জানুয়ারী এই সরকার তাদের প্রথম  কার্যকালের মেয়াদের শেষ দিকে সংসদে এই বিল উত্থাপন করে, তবে  বিলটি পাশ হবার আগেই সাধারণ নির্বাচনের সময় এসে যায়। উল্লেখ্য, এ বছরের আগস্টে  চূড়ান্ত NRC তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

কিছু দিন আগে যে দুটি কেন্দ্রীয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়, সে দুটি হল- আর্থিক মন্দার মোকাবিলায় নতুন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সংস্থার ওপর কোম্পানী করের পরিমাণ হ্রাসের ঘোষণা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও দ্বিতীয়টি, ভারতে  ই-সিগারেটের উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধকরণ অধ্যাদেশ। এই দুটি অধ্যাদেশই গত সেপ্টেম্বর মাসে জারি করা হয়। এই দুটি অধ্যাদেশকে চূড়ান্ত আইনের রূপ দিতে এই অধিবেশনে বিল উত্থাপন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বিরোধী শিবিরের কয়েকজন প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, এই অধিবেশনে তাঁরা দেশের অর্থনীতি এবং ও জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে সরকার পক্ষের কাছ থেকে কৈফিয়ত চাইবেন। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, তাঁর দল  পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাংক প্রসঙ্গটিও সভায় উত্থাপন করবে।

এদিকে আগামীকাল অধিবেশন শুরু হবার প্রাক্কালে রাজ্য সভার চেয়ারম্যান এম ভেংকাইয়া নাইডু আজ সর্ব দলীয় বৈঠক ডেকেছেন। গতকাল লোক সভার অধ্যক্ষ শ্রী ওম বিড়লা সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। অধ্যক্ষের আবেদনে সাড়া দিয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত সকল বিরোধী নেতা অধিবেশনকে ফলপ্রসূ করে তুলতে তাঁদের পক্ষ থেকে সরকার  পক্ষকে  সম্ভাব্য সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বিগত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম ক্ষমতাসীন জোট, রাজ্য সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে।  উল্লেখ করা যেতে পারে,  বিজু জনতা দল, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি ও ওয়াই এস আর কংগ্রেস দলের কাছ থেকে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন জোট, ইস্যূ-ভিত্তিক সমর্থন পাচ্ছে।

এই অধিবেশনে ইনসল্‌ভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপট্‌সি কোড-IBC বা সংক্ষেপে, দেউলিয়া আইনে সংশোধনী আনতে সভায় বিল উত্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর বলে ভারতের উৎপাদন সংস্থা, বিদেশ থেকে তাদের পাওনা অর্থ দাবি করতে পারবে; অনুরূপভাবে ভারতের কোম্পানীকেও  বিদেশের সংস্থার কাছে তাদের ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এই সংশোধনীর আর একটি সংস্থান অনুযায়ী, ভারতীয় ব্যাংকের বিদেশে অবস্থিত কোনও শাখাও, ভারত থেকে তাদের পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে পারবে।  এ ছাড়া ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক কোম্পানী-NBFC’র মত আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার স্বার্থ রক্ষা করতে কেন্দ্র, IBC’র  ২২৭ নম্বর অনুচ্ছেদটি সংশোধনীরও প্রস্তাব করেছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, সংসদের এই শীতকালীন অধিবেশন সকল দিক থেকেই প্রকৃত অর্থে উপভোগ্য হয়ে উঠবে বলেই সকল মহলের প্রত্যাশা। (মূল রচনাঃ–যোগেশ সুদ)