ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শ্রীলঙ্কা সফর

For Sharing

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর শ্রীলঙ্কায় নব নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি গতবায়া রাজপাকসের সঙ্গে সাক্ষাতের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিলেন। তিনি শ্রী রাজাপাকসেকে ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো আমন্ত্রণ বার্তা পৌঁছে দেন। নব নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং ২৯শে নভেম্বর ২০১৯’এ ভারত সফরে আসার কথা জানান। দায়িত্বভার গ্রহণের পর শ্রী রাজাপাকসের এটি প্রথম বিদেশ সফর।  শ্রী রাজাপাকসের সঙ্গে  পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ থেকে স্পষ্ট যে নতুন দিল্লি শ্রীলঙ্কার নবগঠিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে আগ্রহী। ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, ইরান এবং চীনও গতবায়া রাজাপাকসেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শ্রীলঙ্কার নবগঠিত সরকারকে এই দ্বীপ রাষ্ট্রে মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা রক্ষা করার আর্জি জানিয়েছে।

শ্রী রাজাপাকসের এই জয়ের ফলে ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার সংসদেও  শ্রীলঙ্কা পুডজানা পেরুমনা – SLPP দলের ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা গতাবায়া রাজাপাকসের ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হবেন বলে অনুমান। সেক্ষেত্রে ভারতকে এমন একটি সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হবে যারা অতীতে ভারত মহাসাগরে ভারতের অবস্থান এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলির বিষয়ে খুব বেশী আগ্রহ দেখায় নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এলাম যুদ্ধের সময় গতবায়া রাজাপাকসে শ্রীলঙ্কার বিদেশ সচিব হিসেবে ভারতীয় আধিকারিকারিকদের সঙ্গে কাজ একযোগে করেছেন। LTTE দমনে ভারতের সহযোগিতা ব্যবস্থাপনা যথেষ্ঠ সফল হওয়ায় ফলে শ্রীলঙ্কা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কলম্বোর জাতীয় নিরাপত্তা আরো মজবুত করার ক্ষেত্রেও ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

SLPP দলের নির্বাচনী ইস্তাহারেও এই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে তথা SAARC এবং BIMSTEC দেশগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। SLPP নির্বাচনের আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে তারা সমন্বয়সাধন এবং দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবকে সমর্থন করবে না। গত পাঁচ বছরে ভারত রাষ্ট্রসংঘে শ্রীলঙ্কাকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তবে এই জটিল বিষয়ের সমাধানে উভয় দেশকে একটি সমাধানসূত্র বার করতে হবে।

ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বন্দর পরিকাঠামো নির্মাণ এবং নজরদারির ক্ষেত্রে ভারতের প্রয়াসের বিষয়ে শ্রীলঙ্কার নতুন সরকার সংবেদনশীল মনোভাব পোষণ করবে বলে নতুন দিল্লির আশা। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ – BRI কার্যকর করার ক্ষেত্রেও শ্রীলঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ২০১৭’য় শ্রীলঙ্কার সিরিসেনা সরকারের হাম্বান্টোলা বন্দর  চীনকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার ঘটনার SLPP বিরোধিতা করেছিল এবং তারা ক্ষমতায় এলে এই বিষয়টি পুণর্বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

SLPP গল, কাংকেশানথুরাই ও ত্রিঙ্কোমালি বন্দর এবং মাত্তালা ও কাটুনায়েকে বিমানবন্দরের উন্নয়ন সহ দেশের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেয়। এগুলির বাস্তবায়নের জন্য শ্রীলঙ্কা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এর ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের কাজ করার সম্ভবনা আরো বাড়বে।

চীন গতবায়া রাজাপাকসেকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, চীন শ্রীলঙ্কার নতুন সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, চীন উন্নয়ন এবং কৌশলগত ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

শ্রীলঙ্কার বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল থেকে এটা স্পষ্ট যে, ২০১৫ থেকে গত পাঁচ বছরে সরকারের গৃহীত নীতি জনস্বার্থ অনুকূল হয় নি। এই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং বিদেশনীতির ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। ভারতকেও এই সুযোগের ব্যবহার করতে হবে। আগামী সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির ভারত সফর, এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক ও  আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে নতুন  আলোকপাত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

(মূল রচনাঃ ডঃ এম সামাথা)