এ সপ্তাহে সংসদে

For Sharing

সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্য সভার ২৫০তম অধিবেশনের মধ্যে দিয়ে সোমবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে। এবার তিন সপ্তাহ দীর্ঘ অধিবেশনের  মূল উল্লেখযোগ্য বিষয় এটিই। এই উপলক্ষ্যে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় লক্ষ্য এবং আঞ্চলিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার আবেদন জানানা। তিনি সাংসদদের বলেন যে জনকেন্দ্রিক বিষয়গুলিকে তুলে ধরার জন্য বাধা সৃষ্টির পরিবর্তে তাদের আলচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি বলেন গণতন্ত্রে ভারসাম্য রক্ষার জন্য উচ্চকক্ষ থাকা একান্ত আবশ্যক। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন যে পরীক্ষা এবং প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সুক্ষ্ম পার্থক্য নিরুপণের প্রয়োজন রয়েছে। শ্রী মোদি স্মরণ করিয়ে দেন যে উচ্চ কক্ষে ভারতের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের সুন্দর প্রতিফলন ঘটেছে।

ভারতীয় সমাজে আইন সভার ভূমিকা এবং তার সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন সংবিধান নির্মাতাগণ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার লক্ষ্য স্থির করে গেছেন এবং এই দৃষ্টিভঙ্গী দেশের গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বলেন যারা নির্বাচনী রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চান রাজ্য সভা দেশ সেবার কাজে তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন রাজ্য পরিষদগুলি সাংসদদের সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।  এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন রাজ্যসভা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সমর্থকের ভূমিকা পালন করে যাবে। সভার চেয়ারম্যান এম ভেংকাইয়া নাইডু বলেন, রাজ্যসভা দেশের আর্থ-সামাজিক রুপান্তরে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কৃষ্ণা রেড্ডি বলেন জম্মু ও কাশ্মীর সরকার জানিয়েছে যে গত ছ’মাসে ১৩০০০ বিদেশী নাগরিক সহ ৩৫ লক্ষ পর্যটক জম্মু ও কাশ্মীর পরিদর্শন করেছেন। লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে একথা জানিয়ে তিনি বলেন রাজ্য সরকার এই সময়ে পর্যটনের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা আয় করেছে।

সংসদে জানানো হয় যে জম্মু ও কাশ্মীরে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের পর থেকে পাথর ছোড়ার ঘটনা কমেছে। এক লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন পাথর ছোড়ার ১৯০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা জোর দিয়ে বলেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ১৯৫টি থানা এলাকার সবগুলি থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়ে উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি রাজ্যসভায় অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন অনুচ্ছেদ ৩৭০ তুলে নেওয়া এবং রাজ্য বিভাজনের পর থেকে পুলিশের গুলিতে একটিও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে নি।

সরকার এক দেশ এক ভাষার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন সংবিধানে দেশের সমস্ত ভাষার প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সভায় এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন সংবিধানে সকল ভাষার মর্যাদ সমান।

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী ভি মুরলিধরণ বলেন চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট এবং সুদৃঢ়। তিনি বলেন সরকাররের উদ্বেগের কারণ হল তথাকথিত চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের ফলে ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখন্ডতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। কারণ অবৈধভাবে পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অংশ বিশেষের মধ্যে দিয়ে এই করিডোর অতিবাহিত হয়েছে। তিনি বলেন ভারত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সংযোগ সাধনের প্রয়াসের ভিত্তি হতে হবে সর্বজন স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নিয়ম বিধি।

 

লোকসভায় জাতীয় রাজধানীতে দূষণের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়েও বিতর্ক হয়। দল মত নির্বিশেষে সদস্যরা বলেন যে এটি খুবই গুরুতর বিষয় এবং রাজনীতির উর্ধে উঠে এই প্রশ্নের মোকাবিলা করতে হবে। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ফসলের অবশিষ্টাংশ জ্বালানো বন্ধ করার জন্য কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ণ এবং বায়ু বিশুদ্ধকরণ টাওয়ার নির্মাণের জন্য সাংসদদের স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে দু’ কোটি করে টাকা দেওয়ার মত পরামর্শ দেওয়া হয় সদস্যদের পক্ষ থেকে। (মূল রচনাঃ ভি মোহন রাও)