CPEC নিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

For Sharing

২০১৩ সালে সূচনার পর থেকেই চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ – BRI, বিশেষ ক’রে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর – CPEC ভারতের  সার্বভৌমত্বের দিক থেকে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ভারত দৃঢ়ভাবে CPEC’র বিরোধিতা করেছে। প্রসঙ্গতঃ ভারতই প্রথম দেশ যারা BRI’এর বিরোধিতা করে এবং একমাত্র ভারতই চীনে আয়োজিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামে তাদের কোনো প্রতিনিধি পাঠায় নি। ২০১৩ থেকেই ভারত এই অবস্থানে অনড় রয়েছে। ভারত প্রথম থেকেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে BRI ফ্ল্যাগশীপ করিডোর CPEC’র বিরোধিতা করেছে। ভারতের মতে তাদের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখন্ডতার বিষয়ে উদ্বেগগুলিকে যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না CPEC তারই প্রতিফলন।

শুধু ভারতই নয় আরো বেশ কিছু দেশ BRI বিশেষতঃ CPEC’র বিষয়ে তাদের অসন্তোষ জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয় সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ বিদেশমন্ত্রী অ্যালিস ওয়েলস ওয়াশিংটনে বলেছেন, ভারত শুরু থেকেই BRI’এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভিত্তি নেই এমন প্রকল্পগুলির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সমর্থন করে বলেও তিনি জানান।

শ্রীমতী ওয়েলসের এর এই বিবৃতি BRI সম্পর্কে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন মনোভাবকেই তুলে ধরে। ভারত ও জাপান যৌথভাবে BRI’এর একটি বিকল্প সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামনে তুলে ধরার প্রয়াস নিচ্ছে। এই লক্ষ্যে জাপানের সহযোগিতায় এশিয়া-আফ্রিকা গ্রোথ করিডোর – AAGC এবং কলম্বো বন্দর এলাকায় গভীর সমুদ্রে কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সাম্প্রতিক স্বাক্ষরিত চুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

শ্রীমতী ওয়েলসের বিবৃতি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতাকেই তুলে ধরে। চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং  পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর দুদেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরো মজবুত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। চীন-পাকিস্তানের আঁতাতের প্রেক্ষিতে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি মার্কিন নীতিনির্ধারকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শ্রীমতী ওয়েলস পাকিস্তানের অর্থনীতির ওপর CPEC’র প্রতিকূল প্রভাব এবং সেদেশের জন্য এই করিডোরের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে ভাবনাচিন্তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।  তিনি এ ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন যে, এই প্রকল্প শুধুমাত্র চীনের জন্যই লাভদায়ক, পাকিস্তানের জন্য নয়। উল্লেখ্য, ২০১৯’এ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিকাশের হার ৩.৩ শতাংশ এবং ২০২০তে এই হার ২.৮ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ব্যয়সাপেক্ষ CPEC প্রকল্পের ফলে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮’য় পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার ৩১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৫’র মে মাসে পাকিস্তান দেশের আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের সঙ্গে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ গ্রহণের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে। পাকিস্তান CPEC ও BRI প্রকল্পের জন্য সৌদি আরব থেকেও অর্থ সহায়তা চেয়েছে। এদিকে চীন ও পাকিস্তান শ্রীমতী ওয়েলসের মন্তব্য খারিজ ক’রে দিয়ে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে দাবি করেছে।

(মূল রচনাঃ সানা হাসমি)