মহাকাশে ভারতের সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি

For Sharing

ভারত ভূপর্যবেক্ষণ ও চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত তৃতীয় প্রজন্মের অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ কার্টোস্যাট – থ্রি সাফল্যের সঙ্গে কক্ষপথে স্থাপন করেছে। গতকাল সতীশ ধওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের ১৭ মিনিটের মধ্যেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা – ইসরোর পোলার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযান PSLV-C47, মহাকাশে ভারতের ‘সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি’ কার্টোস্যাট-থ্রিকে সাফল্যের  সঙ্গে কক্ষপথে স্থাপন করে। এখনও পর্যন্ত অসামরিক প্রয়োজনে এটিই ইসরোর উৎক্ষেপন করা সর্বাধিক ক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ। এই উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত যান PSLV-C47, PSLV’র সর্বাধিক ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্করণ। কার্টোস্যাট – থ্রি ছাড়াও ভারতের মহাকাশ সংক্রান্ত বিভাগের নিউ স্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে দুটি মার্কিন সংস্থার আরো ১৩টি ন্যানোস্যাটালাইটও কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।

উল্লেখ্য, ইসরো ২০০৫ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৮টি কার্টোস্যাট উৎক্ষেপণ করেছে। এর মধ্যে কার্টোস্যাট – ১ একটি এবং  কার্টোস্যাট -২ সিরিজের ৭টি কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। এরমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কার্টোস্যাট – ২ সিরিজের শেষ ৪টি উপগ্রহ গত তিন বছরে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আগের ৮টির থেকে কার্টোস্যাট – থ্রি’র ওজন দ্বিগুণেরও বেশী। এতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন  ক্যামেরা, দ্রুত তথ্য গ্রহণ ক্ষমতা, অত্যাধুনিক কম্পিউটার ব্যবস্থা ও নতুন পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্স সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও রয়েছে।

কার্টোস্যাট – ৩, তৃতীয় প্রজন্মের কৃত্রিম উপগ্রহ সিরিজের নবমতম কৃত্রিম উপগ্রহ। এর সাহায্যে অত্যন্ত স্পষ্ট চিত্রগ্রহণ ও  নিপুণভাবে মানচিত্র তৈরি ছাড়াও সীমান্তে নজরদারি আরো জোরদার করা সম্ভব হবে। মার্কিন ম্যাক্সার সংস্থার কৃত্রিম উপগ্রহ ওয়ার্ল্ড ভিউ – থ্রি’র থেকেও কার্টোস্যাট – থ্রি আরো বেশী ক্ষমতাসম্পন্ন বলে জানানো হয়েছে। কার্টোস্যাট – থ্রি ৫০০ কিলোমিটার উপর থেকে ২৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের লক্ষ্যবস্তুর ছবিও তুলতে সক্ষম।

ইসরো জানিয়েছে, কার্টোস্যাট থেকে গৃহীত ছবির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি, পরিকাঠামো পরিকল্পনা, উপকূল অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা ছাড়াও সড়ক ও জল সম্পদ বন্টন ব্যবস্থাপনা আরো ভালোভাবে করা সম্ভব হবে।

কার্টোস্যাট – থ্রির ক্ষেত্রে আরো একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, স্যাটেলাইটের পরীক্ষণ ও নির্মাণ কাজে বেসরকারি শিল্পসংস্থার যোগদান। ইসরো আশাপ্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে বেসরকারি সংস্থাগুলিও সম্পূর্নভাবে কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণে সক্ষম হবে। বর্তমানে ইসরো বছরে ১২ থেকে ১৮টি কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ করে থাকে। আগামী ৩ বছরে ইসরো মোট ৩৬টি কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে ২৭টি নির্মাণের লক্ষ্যে এই সংস্থাগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ইসরো এখনও পর্যন্ত PSLV’র সহায়তায় যে ৪৯টি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে, তার মধ্যে মাত্র দুবার ১৯৯৩ এবং ২০১৭ সালে তা সফল হয় নি। চন্দ্রযান -১ এবং মঙ্গল অভিযানেও PSLV ব্যবহার করা হয়েছে।

ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পুর্তীর প্রাক্‌কালে ২০২২’এ মহাকাশ অভিযানে ইসরো ভারতের মহাকাশচারী পাঠানোর লক্ষ্যে বর্তমানে কাজ করছে। অতীতের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের প্রেক্ষিতে ইসরোর আশা তারা এই লক্ষ্য অর্জনেও সফল হবে।

(মূল রচনাঃ বিমান বসু)