আর্থিক বিকাশ হারে গতি আনতে পরিকাঠামো বিনিয়োগে জোর

For Sharing

আর্থিক মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ও শিল্প বান্ধব নীতি প্রণয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার গত বুধবার এক বড় মাপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছর সময়ে দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন ক্ষেত্রে একশো লাখ কোটি টাকা লগ্নীর প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় রেল, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই প্রসঙ্গে বলেছেন,    বিমান ও জাহাজ পরিবহণ, সড়ক, মহাসড়ক, রেল, বন্দর,বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সহ দেশের সব পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন ,সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।

রেল মন্ত্রী, রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের এক বিস্তৃত যোজনার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, এ ক্ষেত্রে আগামী ১২ বছর সময়ে পঞ্চাশ লাখ কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ যোজনা রচনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পীযূষ গোয়েল জানান, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের আদর্শে এই যোজনা রূপায়ণ করা হবে। কাজেই এই যোজনায় বেসরকারী ক্ষেত্রের এক বড় মাপের ভূমিকা থাকবে।

সরকার, ২০২৪-২৫ সাল নাগাদ দেশের অর্থব্যবস্থাকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থব্যবস্থা-স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে গত পাঁচ বছর সময়ে দেশের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশকে এক মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বেশ কয়েকটি বড় ধরণের আর্থিক সংস্কারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে আছে আর্থিক প্রণালীকে সুষ্ঠু করতে ২০১৬’র ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংক্‌রাপট্‌সি আইন, বা দেউলিয়া আইন; সহজে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে পণ্য-পরিষেবা কর-জি এস টি রূপায়ণ; এবং শিল্প বিকাশে দেশের অভ্যন্তরীণ সহায় সম্পদকে যথাসম্ভব অধিক মাত্রায় কাজে লাগিয়ে বিশ্ব মানের পণ্য ও পরিষেবা প্রস্তুতির লক্ষ্যে  মেক-ইন-ইন্ডিয়া কর্মসূচি রূপায়ণ।

দেশের বিনিয়োগ কর্মসূচিকে উৎসাহ দানের লক্ষ্যে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ কর্পোরেট করের হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও জানান,  এর আওতায় দেশের নতুন নতুন উৎপাদন সংস্থার জন্য কর্পোরেট করের হার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। ইতিমধ্যে  ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক-রিজার্ভ ব্যাংক উৎপাদনশীল কাজকর্মে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ঋণকে আকর্ষণীয় করতে ২০১৯’এ রেপো রেটকে ধাপে ধাপে মোট ১.৩৫ শতাংশ হ্রাস করেছে।

নির্মলা সিতারমণ গত বুধবার দেশের অর্থব্যবস্থার ওপর এক আলোচনায়  বলেছেন, তাঁর সরকারের ঘোষিত এই একগুচ্ছ আর্থিক উৎসাহমূলক কর্মসূচি রূপায়ণের মাধ্যমে দেশের পরিকাঠামো ক্ষেত্রকে উন্নতির এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, যার অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে অভ্যন্তরীণ শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন,অত্যাধুনিক পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে শিল্প মহল কেবলমাত্র অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়,আন্তর্জাতিক বাজারেও তাদের উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার  প্রতিযোগিতা শক্তি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।

যে কোনও দেশের আর্থিক বিকাশ বহুলাংশে নির্ভর করে পরিকাঠামো  ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ওপর।  উদাহরণ স্বরূপ, অভ্যন্তরীণ সড়ক, রেল ও বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন-GDP’র মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক প্রায় (+)0.৯। এ বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে এই বিষয়টির বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টিকে সামনে রেখেই কেন্দ্র, দেশের অর্থব্যবস্থাকে পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থব্যবস্থা স্তরে উন্নীত করার ধার্য লক্ষ্য মাত্রায় পৌঁছুতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নয়নে এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে।  (মূল রচনাঃ-জি শ্রীনিবাসন)