ভারত-জাপান ২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠক

For Sharing

ভারত জাপান ২+২ বিদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠক নতুন দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। জাপানের বিদেশ মন্ত্রী শ্রী তোশিমিৎসু মোটেগি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী তারো কোনো ভারতের বিদেশ মন্ত্রী ড.জয়শংকর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এর সঙ্গে আলোচনা করেন। ২+২ বৈঠকের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ঘনিষ্টতা আরো গভীরতর হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে ভারত-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈঠক যৌথ কর্মী গোষ্ঠীর মধ্যে সরকারী পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১০ থেকে এই বৈঠক হয় সচিব পর্যায়ে, কিন্তু বর্তমানে এটি মন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

প্রথমে এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং ২০০০-২০০১ এ প্রাক্তন জাপানী প্রধানমন্ত্রী ইয়াশিরো মোরির কার্যকালে। তারপর এই গতি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এক যৌথ বিবৃতিতে নতুন দিল্লী এবং টোকিও উভয়ে জানিয়েছে যে পাকিস্তানের বাইরে যে সব জঙ্গী তৎপরতা চালানো হচ্ছে তা আঞ্চলিক শান্তি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় রকমের আশংকা সৃষ্টি করেছে। এতে উত্তর কোরিয়াকে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী গণ বিধ্বংসী সমস্ত অস্ত্র সস্ত্র এবং সমস্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নষ্ট করে ফেলতে বলা হয়েছে।

এমাসের পরের দিকে ভারত-জাপান বার্ষিক শিখর সম্মেলনের সময় জাপানী প্রধানমন্ত্রী শিঞ্জো আবের প্রস্তাবিত ভারত সফরের নিরিখে ২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ থেকে বার্ষিক বৈঠক ক্রমশঃ উন্নত হচ্ছে। ভারত-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রথম নতুন রূপ পরিগ্রহ করে ২০০৬ সালে, তারপর ২০০৭ সালে যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ অংগ ছিল মালাবার মহড়া। জাপান ২০১৫ থেকে সদস্য হিসেবে মালাবার মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

গত বছর ভারতীয় এবং জাপানী স্থল সেনা বাহিনী প্রথমবার যৌথ মহড়া চালায়, এটি ছিল সন্ত্রাস বিরোধী মহড়া। যৌথ বিমান মহড়ার জন্যও আলোচনা চলছে, ২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই জঙ্গী বিমান মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছ’টি দেশের সঙ্গে জাপানের ২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্পর্ক রয়েছে; ভারত কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গেই এই ধরণের সম্পর্কে আবদ্ধ। তবে এবছর সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সাধারণ সভার অবসরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিদেশ মন্ত্রীরা প্রথমবার নিউ ইয়র্কে কোয়াড আলোচনায় মিলিত হন। পক্ষকাল আগে, কোয়াডের চারটি দেশের সকলে সন্ত্রাস দমন নিয়ে প্রথম বাস্তব টেবিল-টপ অনুশীলনে অংশ নেয়। এর ফলে কোয়াড গোষ্ঠী আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে ২+২ বৈঠকের আলোচনায় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এবছর ব্যাংককে পূর্ব এশিয়া শিখর বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। সেখানে তিনি নেভিগেশন, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার স্বাতন্ত্রের জন্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমুদ্র প্রয়াসের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

উচ্চ গতির ট্রেনের মত একাধিক প্রকল্পের ফলে ভারত-জাপান সম্পর্ক ক্রমশঃ উন্নত হচ্ছে। একাধিক প্রতিরক্ষা প্রকল্প রূপায়িত হবার পথে, তাই এই ক্ষেত্রটিও ধীরে ধীরে জোরদার হয়ে উঠছে। ২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সময় উভয় পক্ষ ত্বরায় এ্যাকুইজিশন এ্যান্ড ক্রস সার্ভিসিং  এগ্রিমেন্ট সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এর ফলে দুটি দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো মজবুত হবে। গুরুগ্রাম ভিত্তিক ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার-ইন্ডিয়ান ওসেন রিজিয়নে একজন জাপানী জন-সম্পর্ক আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। ২০১৮র ডিসেম্বরে এই সেন্টার শুরু হয়েছে।

২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে চতুষ্কোণীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা বিদ্যমান। ২০১০ সালে এটির সূত্রপাত হয়। এর মাধ্যমে রোবোটিক্স এবং মনুষ্যবিহীন ভূতল যানবাহনের মত প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ডি আর ডি ও একাধিক বিষয়ে জাপানের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।

২+২ মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় দক্ষিন চীন সমুদ্রের বিষয়টিও উত্থাপিত হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নেভিগেশন, ওভার-ফ্লাইট, প্রতিবন্ধকতাহীন বৈধ বাণিজ্য এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদ নিস্পত্তির স্বাধীনতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। (মূল রচনাঃ সুমন শর্মা)