উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তির আহ্বান ভারতের

For Sharing

গত শুক্রবার মার্কিন হামলায় ইরানের অল-কুদস বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল কাসিম সুলেমানির নিহত হওয়ার ঘটনার পরে, পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশ মন্ত্রী মহম্মদ জাভিদ জারিফের সঙ্গে কথা বলেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডঃ  জয়শঙ্কর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে উত্তেজনার মাত্রা নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং উভয়ে একে অপরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করার বিষয়ে একমত হন। উল্লেখ্য, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কয়েক সপ্তাহ আগেই দুদেশের মধ্যে ১৯তম যৌথ বৈঠকে যোগ দিতে তেহেরান গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রৌহানি সহ বিদেশ মন্ত্রী জারিফ ও শীর্ষস্থানীয় আধিকারকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আগামী ১৪ই জানুয়ারি থেকে প্রস্তাবিত রাইসিনা বৈঠকে যোগ দিতে শ্রী জারিফের এ দেশে আসারও কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সোলেমানির মৃত্যুর ঘটনার পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও  ইরানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রবল বাকযুদ্ধের প্রেক্ষিতে, শ্রী জয়শঙ্কর ও শ্রী  জারিফের মধ্যে দূরভাষে কথা হয়। প্রসঙ্গতঃ ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনের সঙ্গে তেহেরানের সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে জেনারেল সোলেমানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খোমেইনির পর সোলেমানিকেই ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বলে মনে করা হয়।

সুলেমানির মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানী নেতৃবৃন্দ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে  কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন। সে দেশের জনমানসে এই ঘটনাকে ঘিরে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, তারই প্রতিধ্বনি করে রেভলিউশনারি গার্ডের এক শীর্ষ স্থানীয় কম্যান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর প্রত্যুত্তরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ৫২টি লক্ষ্যবস্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিহ্নিত করেছে। তিনি আরো জানান, খুব শিঘ্রই ইরানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঐ লক্ষ্যস্থলগুলির ওপর এমন হামলা চালানো হবে যা এর আগে কখনও হয় নি। অন্যদিকে ইরান জানায়, তাদের সভ্যতা বহু অভিযান, অভিঘাত ও আগ্রাসন উপেক্ষা করে অগ্রসর হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯এ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই দীর্ঘ সময়ে সুলেমানির মৃত্যুর ঘটনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উপস্থিত হয়েছে। জন্মস্থান কেরমানে সুলেমানির অন্তেষ্টি ক্রিয়ার পর তেহেরান পদক্ষেপ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য দেশের মতোই ভারতও এই পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে। সুলেমানির হত্যার ঘটনার পরেই এক বিবৃতিতে নতুন দিল্লি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে  দিয়েছে এবং পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে না বলে আশাপ্রকাশ করেছে।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রী ডঃ জারিফের সঙ্গে কথা বলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ জয়শঙ্কর মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং ওমান ও সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর বিদেশ মন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন।

মূল প্রশ্ন হল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিক্রিয়া কি হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডের ওপর ইরান আঘাত হানলে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক মার্কিন প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে মধ্য প্রাচ্যে ইজরায়েল, ইরাক বা সৌদি আরবের মতো মার্কিন সহযোগী দেশসমূহ ইরানের লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

এই সমস্ত দেশগুলির সঙ্গে ভারতেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং পারস্য  উপসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনো ধরণের অস্থিরতা ভারতের পক্ষে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। জ্বালানি নিরাপত্তা, চাবাহার বন্দর এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগসূত্রের দিক থেকে ইরানের সঙ্গে ভারতের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ইরানের পাশে থাকারও বার্তা দিয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির বিচার করে সুলেমানির মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানকে আরো ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সমর্থনলাভের প্রয়াসে ভারতের উদ্যোগ ইরানকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

(মূল রচনাঃ পি আর কুমারস্বামী)