বিজ্ঞানের সহায়তায় গ্রামীণ বিকাশ

For Sharing

দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষক ও প্রযুক্তির উদ্ভাবকদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর সরকার  গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই এমন অনেক নতুন উদ্ভাবন শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজারের প্রসার এবং গ্রামাঞ্চলে জীবিকার প্রসারে বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। কিন্তু কৃষক এবং উদ্ভাবকদের মধ্যে দূরত্বের ফলে এখনও এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু এই বিষয়ের ওপর আলোকপাত  করেছেন। তিনি দেশের বৈজ্ঞানিকদের কৃষকদের আয়, শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি সহ অন্যান্য সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজে বার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, দেশের কল্যাণে কৃষক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাঁদের বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি বৈজ্ঞানিকদের শস্য উৎপাদনে জলবায়ু নির্ভরতা  হ্রাস, শস্যের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি এবং শস্য উৎপাদনে জলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে পন্থা পদ্ধতি খুঁজে দেখারও আহ্বান জানান। উপরাষ্ট্রপতি কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তির গুরুত্বের ওপরেও আলোকপাত করেছেন।

এই লক্ষ্যে ব্যাঙালুরুতে ১০৭তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের আওতায় কৃষকদের জন্য বিজ্ঞান কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। কৃষকদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি  উৎসাহব্যাঞ্জক উদ্যোগ। এই ধরণের মঞ্চের মাধমে কৃষক ও  বিজ্ঞানীদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা সম্ভব হওয়ায় নতুন উদ্ভাবনের পথ প্রশস্ত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১২০ জন কৃষক এই বিজ্ঞান কংগ্রেসে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিভিন্ন সময়ে কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, সার ও কীটনাশকের প্রয়োগ সহ কৃষির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বিষয়ে কৃষক-অনুকূল সমাধান খুঁজে বার করার জন্যও আর্জি জানান। প্রধানমন্ত্রী তরুণ বিজ্ঞানীদের কৃষি উন্নয়ন ক্ষেত্রে আরো বেশী করে কাজ করা এবং কৃষিক্ষেত্রের জন্য স্বল্প ব্যয়ে আরো উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় সরকারী কর্মসূচীগুলি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৭-১৮’য় খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ ২৮৪.৮৩ মিলিয়ন টনে পৌঁছয়। ২০১৮-১৯’এ সরকার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখে ২৮৫.২ মিলিয়ন টন। ২০১৮’য় ১০৫.৭৮ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে খারিফ শস্য চাষ হয়েছে। ফল উৎপাদনেও ভারত দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে দুগ্ধ উৎপাদন হয়েছে ১৬৫.২ মিলিয়ন টন।

ভারত থেকে কৃষি রপ্তানির হার ২০১৮য় ১৬.৪৫ শতাংশ বেড়ে ৩৮.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়। ২০১৯এ কৃষি রপ্তানির পরিমাণ হয়েছে ৩৮.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মশলা উৎপাদন ও রপ্তানিতেও ভারত অগ্রণী স্থানে রয়েছে। ২০১৭-১৮’য় ভারত থেকে মশলা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ২০১৭য় চা রপ্তানিতে ভারত ৩৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৪০.৬৮ মিলিয়ন কেজি এবং ২০১৭-১৮য় কফি রপ্তানি ৩৯৫, ০০০ টনে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ডিজিটালাইজেশন, ই-কমার্স, ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা গ্রামীণ জনগণের সহায়ক হয়েছে। স্বল্প ব্যয়ে কৃষি উৎপাদন এবং কৃষিক্ষেত্র থেকে কৃষিপণ্য সরাসরি গ্রাহকের পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রযুক্তি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

( মূল রচনাঃ বিমান বসু)