স্টার্ট আপ অভিযান এগিয়ে চলেছে

For Sharing

৭১তম সাধারণতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজে স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া কর্মসূচি যথার্থভাবেই গৌরবের স্থানে অর্জন করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে ৩ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে; সারা ভারতে ২৬ হাজারের বেশি স্টার্ট আপ কাজ করছে। সরকারের লালিত এই ব্যবস্থায় স্টার্ট আপগুলিতে ভাল পরিমানে অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এখন ভারতে স্টার্ট আপ ক্ষেত্রের সামগ্রিক মূল্য ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

আজ ভারতের প্রথম সারির টেকনিক্যাল এবং ম্যানেজমেন্ট  প্রতিষ্ঠানের স্নাতকরা তাদের কর্ম ক্ষেত্র হিসেবে স্টার্ট আপকে বেছে নিয়েছে। এতে  দেশের শিল্পদ্যোগ ক্ষেত্রে মেধার সাফল্যই চোখে পড়ে।

সেই কারণেই সাধারণ তন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে স্টার্ট আপ দৃশ্য সজ্জা বিশেষভাবে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই দৃশ্য সজ্জায় সৃজনশীলতার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রাণবন্ত পরিবেশ ব্যবস্থাকে দর্শানো হয় যাতে রয়েছে কর ছাড় এবং স্টার্ট আপের জন্য মূলধনে অবাধ প্রবেশাধিকার এবং ধীরে ধীরে তা ফুলে ফলে পরিপূর্ণ বৃক্ষের মত বৃহৎ কর্পরেশনের আকার ধারণ করে।

স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া কর্মসূচি এখনও প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে কারণ মাত্র ২০১৬ সালে এর সূত্রপাত হয়। কিন্তু তা সত্বেও এর সাফল্য অতুলনীয়। বেশ কিছু নতুন কোম্পানী এক বিলিয়ন ডলারের গোষ্ঠীতে নিজেদের স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া সীমান্ত পেড়িয়ে অন্যান্য দেশেও অনেক সংস্থা তাঁদের উপস্থিতির জানান দিয়েছে।

এই ক্ষেত্রে শিল্প উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগের প্রদত্ত পরিসংখ্যান উৎসাহ ব্যঞ্জক। ২৮টি রাজ্য এবং সাতটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৫৫১টি জেলায় এই বিভাগে ২৬ হাজারের বেশি স্টার্ট আপ সংস্থা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছে। স্টার্ট আপগুলি কেবল প্রযুক্তি এবং খাবার পৌঁছে দেবার এ্যাপ্সের মধ্যেই তাদের সীমাবদ্ধ রাখে নি। বহু সংখ্যক স্টার্ট আপ দেশের গ্রামীণ ক্ষেত্রে কাজ করছে এবং কৃষকদের জীবন যাত্রার মানে রুপান্তর এনে দিয়েছে। এই সব স্টার্ট আপ ২০২৩ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার সরকারের উচ্চাকাংখ্যামূলক প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

বিনিয়োগকারীরাও ভারতীয় স্টার্ট আপকে কাছে টেনে নিয়েছে। ২০১৯ সালেই ভারতীয় স্টার্ট আপ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন স্টার্ট আপে দ্রুত মূলধন আসছে। জাপানী, চিনা এবং মার্কিন অর্থ বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি অধিক লাভের আশায় সাগ্রহে অপেক্ষা করছে। বৃহৎ ভারতীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিও স্টার্ট আপে বিনিয়োগ করে চলেছে। এইভাবে স্টার্ট আপ সংস্থাগুলি পরিচালন দক্ষতাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হচ্ছে এবং কারিগরী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তাদের কারবারকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে  চলেছে।

তা সত্বেও ব্যাপক বিদেশী বিনিয়োগ এবং অস্থায়ী বাণিজ্য অনুশীলনের ফলে বহু ক্ষেত্র লোকসানের শিকার হচ্ছে। নবাগত শিল্পদ্যোমীদের সামনে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সব শিল্পদ্যোগীদের কাছে অগ্রাধিকার হতে হবে সঠিক বাণিজ্যিক অনুশীলন এবং স্থায়ী লক্ষ্য।

একাধিক স্টার্ট আপ ভোগ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে লোভের শিকার হচ্ছে এবং একই স্থানে সকলে একসঙ্গে ভীড় করার সম্ভাবনা এড়ানো যাচ্ছে না। সেই কারণে স্টার্ট আপগুলিকে অভিনবত্বের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার কারিগরী প্রতিষ্ঠানগুলিতে গবেষণা এবং বিকাশের উন্নয়নে বেশকিছু প্রকল্প চালু করেছে। ভারতীয় স্টার্ট আপের সামনে আদর্শ হওয়া উচিত ল্যাবরেটরি থেকে সোজা ফ্যাক্টরির পথ। দেশের বিশাল জনসংখ্যার দরুণ বিদেশী বাজার দখল করার জন্য বৃহৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে উচ্চ বিকাশ হারের প্রতি স্টার্ট আপকে দৃষ্টি দিতে হবে। এটাই হবে স্টার্ট আপের পরবর্তী লক্ষ্য।

ভারতীয় স্টার্ট আপ আন্দোলনের সাফল্য প্রশংসনীয় কারণ তারা এই ক্ষেত্রে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডেরই পেছনে রয়েছে।  এই ক্ষেত্রে সরকার কর ব্যবস্থায় যে সুবিধা প্রদান করেছে তা নিঃসন্দেহে উৎসাহজনক। ব্যাংকিং ক্ষেত্রও স্টার্ট আপের জন্য তাদের সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে।  পরিবর্তীতে সরকাকারের যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা হল প্রতিটি শহরে অন্ততঃ একটি শাখাকে চিহ্নিত করা। তা হলেই স্টার্ট আপের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।  (মূল রচনাঃ মণীশ আনন্দ)