উন্নয়ন মুখী কেন্দ্রীয় বাজেট

For Sharing

গতকাল সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমণের পেশ করা ২০২০-২১’এর কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতীয় অর্থব্যবস্থার বর্তমান মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে উন্নয়নমুখী একগুচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল-জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে কৃষি ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য একাধিক ব্যবস্থা, ও দেশে ব্যবসা অনুকূল পরিবেশকে শক্তিশালী করতে কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর ধার্য করের বিলোপ সাধন।  আর্থিক ক্ষেত্র বর্তমানে যে সব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, সেগুলির মোকাবিলায় শ্রীমতী সিতারমণ মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধির বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার উল্লেখ করেছেন। এর অঙ্গ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা ও জল সংরক্ষণ ক্ষেত্রে সম্পদ সৃজনের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের রূপায়ণকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। 

আগামী পাঁচ বছরে রূপায়ণযোগ্য ১০২ লাখ কোটি টাকার ‘জাতীয় পরিকাঠামো পাইপলাইন প্রকল্পের’  অধীন চলতি অর্থ বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। 

বাজেটে ২০১৯-২০’র জন্য আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ আগের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩.৮ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এর আগে এই পরিমাণ GDP’র ৩.৩ শতাংশের মধ্যেই সীমিত রাখার প্রস্তাব ছিল। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে আর্থিক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতেই আর্থিক ঘাতির পরিমাণে এই বৃদ্ধির প্রয়োজন ছিল।

কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ ক্ষেত্রের উন্নয়নে বিশেষ গতি সঞ্চার করতে বাজেটে আগামী অর্থ বছরের জন্য ১৫ লাখ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বরাদ্দ ও সারা দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যায় মজুত ভাণ্ডার ও হিম ঘর গঠনের যোজনার উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেটে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য ৯৯ হাজার ৩০০ কোটি ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে ৩২০০ কোটি টাকা ধার্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 ২০২০-২১’এর এই কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়কর দাতাদের মুখে হাসি ফোটানোর মত একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে।  করদাতাদের ওপর করের বোঝা কমিয়ে তাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বাজেটে একটি সরলীকৃত নতুন কর ব্যবস্থার সুপারিশ করেছেন। কর সংক্রান্ত যাবতীয় বিবাদ নিষ্পত্তির মাধ্যমে কর দাতাদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা টুটট রাখার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, এ বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে বিবাদমূলক  বকেয়া কর মিটিয়ে দিলে সেই পরিমানের ওপর সুদ ও জরিমানা মকুব করা হবে। বাজেটে GST বাবদ আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরলীকৃত GST রিটার্ন ও সম্পূর্ণ স্বয়ংকৃয় রিফান্ড প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করা হবে।

শিল্প ও ব্যবসা ক্ষেত্রের কাজকর্মকে উৎসাহ দিতে গত বছর পয়লা সেপ্টেম্বরে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কোম্পানীর ওপর ধার্য  করের পরিমাণ ১৫ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছিল। এখন এই সুবিধা দেশের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের জন্যেও প্রযোজ্য হবে। বাজেটে প্রস্তাব অনুযায়ী, Sovereign Wealth Funds (SWFs) সহ একাধিক শ্রেণির বিদেশী বিনিয়োগের ওপর করের ছাড় দেওয়া হবে। অন্যদিকে স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলি তাদের মোট ব্যবসার পরিমাণের ভিত্তিতে মুনাফার ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড়ের সুবিধা পাবে।  বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী অনাবাসী বিনিয়োগকারীরাও বিশেষ কয়েকটি শ্রেণির সরকারী শেয়ারে লগ্নী করতে পারবে। অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারের পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্পোরেট বন্ডে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগের সীমা ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।  

বাজেটে সমবায় সংস্থাগুলির জন্য সুবিধাজনক করের হার এবং অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য আগের তুলনায় বেশি আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশের উন্নয়নী কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের লক্ষ্যে সরকার প্রধানত তার রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থার বিলগ্নীকরণের এক বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেই অনুযায়ী, সরকারী সংস্থার বিলগ্নীকরণের মাধ্যমে আগামী অর্থ বছরের জন্য  দু লাখ দশ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। ২০১৯-২০ জন্য এই পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার কোটি টাকা। একটি সুষ্ঠু কর প্রণালী প্রণয়ন ও উৎপাদনশীল কাজকর্মে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বাজেটে আর্থিক বিকাশে গতি সঞ্চারের পর্যাপ্ত সংস্থান রাখা হয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান।  (মূল রচনাঃ-জি শ্রীনিবাসন)