দেশের অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়নে পৌঁছে দিতে সরকারের NIP কর্মসূচির ঘোষণা

For Sharing

কেন্দ্র ১০২ লক্ষ কোটি  মূল্যের জাতীয় পরিকাঠামো পাইপ লাইন NIP কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা, আগামী পাঁচ বছরে ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরে আমূল পরিবর্তন আনার সরকারের প্রতিশ্রুতির বিষয়েই ইঙ্গিত দিল।  স্বাধীনতার পর, সরকারী অনুদানে একাধিক প্রকল্পের বিকাশ  হয়েছে এবং এর ফলে জনগন উপকৃত হয়েছে। NIP কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ৫ ট্রিলিয়ান অর্থনীতিতে পৌঁছে দিতেও সহায়ক হবে। NIP কর্মসূচি, এই ধরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচির মধ্যে প্রথম প্রকল্প। এই কর্মসূচির ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং জীবনধারণের মান উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তাঁর ভাষণে, আগামী পাঁচ বছরে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ১০০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছিলেন।  এই লক্ষ্যে ২০১৯ সালে অর্থ দপ্তরের সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্ক ফোর্স চার মাসের মধ্যে ১০২ লাখ কোটি টাকা মূল্যের কর্মসূচি  চিহ্নিত করে।

এই কর্মসূচির আওতায় সড়ক পথ থেকে রেলপথ,  জ্বালানি, শহরাঞ্চলীয় সেচ  ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, NIP-এর আওতায় বন্দর এবং বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৫ লাখ টাকা, ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি ২ লাখ, সেচ, গ্রামীণ, কৃষি এবং খাদ্য প্রকল্পের জন্য ১৬ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সড়ক প্রকল্পে প্রায় ২০ লাখ কোটি এবং রেলওয়ে প্রকল্পে ১৪ লাখ কোটি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও, জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ২৫ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মোট ১০২ লাখ কোটি টাকা মূল্যের প্রকল্পের মধ্যে ৪২.৭ লাখ কোটি অর্থ ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং ৩২.৭ লাখ গড়ে ওঠার পর্যায়ে রয়েছে।

যদিও বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত এই কর্মসূচি সময়মত রূপায়ণের বিষয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ তবুও সরকার এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর। আগামী পাঁচ বছরে এই সমস্ত প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য একটি নজরদারি ব্যবস্থাও গঠন করা হবে।

সরকার এই প্রকল্পের বিষয়ে উৎসাহী হলেও মনে রাখতে হবে  NIT  কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র সরকারের আয়ত্তাধীন নয়। বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং বিদেশি সংস্থা সহ বহু বেসরকারি সংস্থাকেও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কেন্দ্র ও  রাজ্য সরকারের ৩৯ শতাংশ করে সমান অংশীদারিত্ব  থাকবে। অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলির ২২ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে, তবে সরকার আশা করছে ২০২৫ সালের মধ্যে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ শতাংশ হবে।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল সারা দেশে উন্নত মানের পরিকাঠামো ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে দেশের আর্থিক বিকাশ হার বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান বিশ্বের আর্থিক মন্দা পরিস্থিতিতে ভারতের আর্থিক বিকাশের ক্ষেত্রে NIP  বিশেষ সহায়ক হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে, আর্থিক বিকাশ হার ৮ শতাংশে পৌঁছে দিতে  এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ভারতে  পরিকাঠামো ক্ষেত্রে  ৪.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের  প্রয়োজন রয়েছে।  NIP কর্মসূচির ফলে এই লক্ষ্য পূরণের  যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।  নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে NIP কর্মসূচির কাজ সম্পূর্ণ হলে  দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে ।

( মূল রচনাঃ শঙ্কর কুমার)