শান্তি প্রক্রিয়ায় তালিবানের আস্থার প্রমাণ চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 

For Sharing

আফগান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে  সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তালিবান আলাদা আলাদা  সময়সীমা নির্ধারণ করেছে যার ফলে আফগান শান্তি চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।  রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তালিবানের সম্মতি আদায়ের জন্য বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে জালমায় খলিলজাদকে নিযুক্ত করার পর থেকে উভয় পক্ষ বিভিন্ন ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে চলেছে। এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উভয় পক্ষের জন্যই আস্থার  পরীক্ষা হবে। আফগানিস্থানের মাটিতে      দু’পক্ষই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিরতির জন্য  দশ দিন সময়সীমা ধার্য করেছে কিন্তু তালিবানরা এর বিরোধিতা করে এই সময়সীমা সাত দিন ধার্য করতে বলেছে। এর ফলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প  আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি আশরাফ গনির পাশাপাশি তালিবানের  রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী দলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  আলোচনার জন্য স্বাগত  জানাতে রাজি হন। যদিও এই আলোচনার বিষয় উপেক্ষা করেই কাবুলের কাছে এক  সেনা  ছাউনি লক্ষ্য করে তালিবান হামলার ফলে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়।

চিন, রাশিয়া এবং সৌদি আরবের মত রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে পুনরায় এই শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হলেও  এখন আবার তা  সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেছে। তালিবান সূত্রে জানানো হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরেই খসড়া চুক্তি তৈরি করা হয়েছে এবং এতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই কারণ উভয় পক্ষের সম্মতিতেই এই খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে শান্তির পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী, মাইক পম্পেও বলেছেন, তালিবানরা শান্তি চুক্তিতে প্রবেশের পর যুদ্ধ বন্ধ করার উপযুক্ত  প্রমাণ আশা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

দীর্ঘদিন ধরে চলা আফগান যুদ্ধের অবসানের জন্য অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রক্রিয়া তৈরির বিষয়টি সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শান্তির জন্য প্রতিবদ্ধতার মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রের দাবি  আংশিকভাবে দীর্ঘকালীন  প্রভাবের ফল যা আফগানিস্তান এবং দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলে সমঝোতার কারনে পড়বে বলে মনে করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দোহা ও কাতার ভিত্তিক  এই গোষ্ঠীর রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী দলের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এখনও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবেই গণ্য তালিবানরা প্রধান রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে যাবে।

এ পর্যন্ত আফগানিস্তান সরকার শান্তি চুক্তি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে চলেছে। আফগানিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান অমরুল্লা সালেহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তালিবানের সমালোচনা করে বলেছেন, এই গোষ্ঠী ভরসার যোগ্য নয়। তিনি আরও বলেছেন, তালিবানদের প্রথমে হিংসার রাজনীতি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে।

রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প যিনি সম্প্রতি ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পেয়েছেন তিনি পুনরায় তালিবানদের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা পেয়ে অভ্যন্তরীণ কোপের মুখে পড়তে চাইবেন না। তাই মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পেওর তালিবানদের কাছ থেকে শান্তি প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত প্রমানের দাবি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সমাধানের লক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারত মনে করে যে কোন শান্তি প্রক্রিয়া আফগান নেতৃত্বাধীন এবং আফগান মালিকাধিন হওয়াই যুক্তিযুক্ত। ভারত সর্বদাই আফগানিস্তানের নিরপত্তা ও শান্তি কামনা করে। তবে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির ওপর নির্ভরতা বা আলোচনায় নতুন দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তালিবানের মধ্যে  শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কি হয় তাই এখন দেখার বিষয়।

(মূল রচনাঃ কল্লোল ভট্টাচার্য)