আইওয়া ককাস: মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত

For Sharing

মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রায় বর্ষব্যাপী দীর্ঘ এক প্রক্রিয়া যেখানে দুটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রচার অভিযান শুরু করে। ডেমক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় রাজনৈতিক দল।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি যেহেতু রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প তাই ধরে নেওয়া যায় তিনিই রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হবেন। নভেম্বর ২০২০র রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক ডেমক্রেটিক পার্টির সদস্য দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ পর্যন্ত দলের জাতীয় সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির প্রার্থীপদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়, যেখানে বিভিন্ন প্রাইমারি এবং ককাস বা দলীয় সমিতিতে নির্বাচিত দলীয় প্রতিনিধিরা সমবেত হন এবং স্থির করেন কে দলের মনোনীত প্রার্থী হবেন।

অ্যামেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় রয়েছে প্রাইমারি এবং ককাস। প্রাইমারিতে বিভিন্ন প্রদেশে দলীয় সদস্যরা জমায়েত হন এবং জাতীয় সম্মেলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। গোপন ভোটদানের মাধ্যমে এই নির্বাচন হয়। কিন্তু ককাসে প্রতিনিধি নির্বাচন হয় গণনা বা হাত তোলার মাধ্যমে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ককাস সবার প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় আইওয়াতে এবং প্রথম প্রাইমারি নির্বাচন হয় নিউ হ্যাম্পশায়ারে। সাধারণত এই দুটি নির্বাচনে যে সব প্রার্থী ভাল ফল করেন তারাই জাতীয় সম্মেলনে স্থান করে নেন।

৩রা ফেব্রুয়ারী ২০২০এ আইওয়ায় ডেমক্রেটিক পার্টির ককাস হয়। প্রাথমিকভাবে ২৮জন প্রার্থী ছিলেন। আইওয়া ককাস অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা কমে ১২তে নেমে আসে। আইওয়ার ককাস নির্বাচনে ডেমক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ৪১জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।

ফলাফল জানাতে বিলম্ব হওয়ায় আইওয়া ককাসে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফলাফল জানানোর জন্য ডেমক্রেটিক পার্টির একটি অপরীক্ষিত এবং সস্তা মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সিদ্ধান্তের ফলেই এটি হয়। ডেমক্রেটিক পার্টি সবকিছু সুশৃংখল বলে জানালেও এই সিদ্ধান্ত তাদের ভাবমূর্তি আংশিকভাবে হলেও ক্ষুন্ন করেছে।

২০২০র মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতি বিশ্ব আগ্রহ সহকারে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে। এর মূল কারণ হল অ্যামেরিকার রাষ্ট্রপতি দ্বিতীয় কার্যকালের মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বলা হয় তিনি মার্কিন রাজনীতি এবং সমাজকে প্রভাবিত করেছেন এবং এমনকি অ্যামেরিকার অনেক মিত্রদেশকেও বিচলিত করেছেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হয়। সমগ্র ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া দলীয় রূপ নেয় কারণ ডেমক্রেটিক পার্টির প্রাধান্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি সভা রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইম্‌পিচ করে এবং রিপাবলিকান প্রাধান্য বিশিষ্ট সেনেটে তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়।

মার্কিন জনগণ ৩রা নভেম্বর ২০২০ তারিখে যখন তাদের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন তখন ট্রাম্প কিভাবে তাদের মুখোমুখি হবেন সেটাই দেখার বিষয়।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে মার্কিন অর্থনীতির, বিকাশ হার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নিরিখে তুলনামূলকভাবে ভাল অবস্থায় রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প সারা বিশ্বে মার্কিন সামরিক পেশীর প্রদর্শন করেছে-শত্রু এবং মিত্র উভয়ের বিরুদ্ধেই। গত নির্বাচনের সময় তিনি মার্কিন নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি আবার আমেরিকাকে মহান দেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। এখন তিনি দাবি করছেন যে তিনি তা করে দেখিয়েছেন এবং এবার সংকল্প করছেন যে তিনি সে পথেই চলবেন।

সংবাদপত্র, সোস্যাল মিডিয়া এবং সমস্ত প্রচার মাধ্যমে ইউক্রেনের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার বিষয়ে খবর প্রচার হওয়া সত্বেও তিনি নির্দোষ বলে সেনেট   সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এই বিষয়টিকে মার্কিন ভোটাররা কিভাবে দেখবেন সেটা বলা সত্যি কঠিন।

উল্লেখ্য, ২০১৬র মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যখন শ্রী ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী হন তাতেও রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ সামাজিক প্রশ্নগুলি অ্যামেরিকানদের ভোটদান অনেকটাই প্রভাবিত করে। শ্রী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিতভাবে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্বস্তি বোধ করতেই পারেন। তিনি দাবিও করতে পারেন যে তিনি আমেরিকান সামরিক বাহিনীকে বিদেশী জট থেকে দূরে রেখেছেন।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ডেমক্রেটিক রাষ্ট্রপতির পদ প্রার্থী প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জো বিডেন আইওয়া ককাসে ভাল করতে পারেন নি। সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একজন ভাল বক্তা। ২০২০এর নভেম্বরের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সামনা সামনি হচ্ছেন কোন্‌ ডেমক্রেটিক প্রার্থী তা এখনও পরিস্কার নয়।

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হওয়ায় একথা বলাই বাহুল্য যে  আগামীদিনে তার কৌশলগত অংশীদার এবং বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা ঘনিষ্টভাবে কাজ করতে আগ্রহী হবে সেটাই স্বাভাবিক। (মূল রচনাঃ অধ্যাপক চিন্তামণি  মহাপাত্র)