কোভিড ১৯এর সময় ভারতের পরিপূর্ণ খাদ্যভান্ডার স্বস্তির কারণ

For Sharing

সারা দেশে লকডাউন এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপের স্লথ গতির মধ্যে একটি আশার কথা হল খাদ্য শস্যের মজুদ ভান্ডার পর্যাপ্ত পরিমানে রয়েছে; যাতে সহায় সম্বলহীন দরিদ্র মানুষ এর ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। সরকার এই পরিপূর্ণ শস্য ভান্ডারের যথোপযুক্তভাবে ব্যবহার করার সংকল্প নিয়েছে।

১লা এপ্রিল ২০২০ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান অর্থ বছরের শুরুতে কেন্দ্রিয় ভান্ডারে খাদ্য শস্যের পরিমাণ ছিল ৭৩.৮৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন।  এই পরিমাণ এযাবৎকালের মধ্যে সর্বাধিক এবং প্রয়োজনীয় ন্যুনতম সঞ্চয় ২১.০৪ মেট্রিক টনের তুলনায় এই পরিমান সারে তিন গুণ বেশি। চলতি লকডাউনের পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বিভিন্ন বৈঠকে বিশেষ করে চতুর্থ ডিজিটাল আলোচনায় সারা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য জরুরী সংস্কারের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ভারতের খাদ্য কর্পোরেশনের গুদামে যে খাদ্য শস্য মজুত রয়েছে তার মধ্যে আছে ৪৯.১৫ মেট্রিক টন চাল যা ১লা এপ্রিল ন্যুনতম প্রয়োজনীয় মজুতের তুলনায় ৩.৬ গুন বেশি এবং সঞ্চিত গমের পরিমান ২৪.৭ মেট্রিক টন যা প্রয়োজনীয় মাত্রা ৭.৪৬ মেট্রিক টনের চেয়ে ৩.৩ গুণ বেশি।

উল্লেখ করা যায় যে ভারত সরকারের সংগ্রহ নীতি উন্মুক্ত, এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকরা যে পরিমাণ ধান এবং গম নিয়ে আসে তা ক্রয় করা হয়। এফ সি আই বা রাজ্য সরকার বা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ন্যুনতম পরিপোষণ মূল্যে কেন্দ্রিয় ভান্ডারের জন্য ক্রয় করে যাতে কৃষকরা তাদের উৎপন্ন সামগ্রীর উপযুক্ত মূল্য পান এবং বিপর্যয় বিক্রয় করতে না হয়। কৃষি ক্ষেত্রে খাদ্য ভর্তুকীর মাধ্যমে কৃষকদের সমর্থনমূল্যের সামাজিক ব্যয় বহন করা হয়। সারা বছর দেশের জনগণকে খাদ্য বিতরণের জন্য শস্য ভান্ডার পরিপূর্ণ রাখতে কৃষি ক্ষেত্রের অবদানের জন্য এই ভর্তুকি দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে সরকার খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয় কারণ আগের দিনের মত দেশ আমদানি না করলে খাওয়া চলবে না এই অবস্থায় আর ফিরে যেতে চায় না। একটা সময় ছিল যখন দেশকে পুরোপুরি খাদ্য শস্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হত

সবুজ বিপ্লব, নানান উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ এবং বর্ষার ওপর  কৃষকদের সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠার বিভিন্ন ব্যবস্থার ফলে বছরের পর বছর ধরে দেশে ফসলের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। ২০০০-২০০১ সালে এই সহস্রাব্দের শুরুতে দেশে খাদ্য শস্যেরর উৎপাদন ছিল ১৯৭ এম টি, ২০১৯-২০ সেই পরিমান দাঁড়িয়েছে ২৯২ এম টি। সরকার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রকে নিরন্তর সহায়তা করে আসছে তার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। এই সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা, প্রতি বছর ছ’হাজার টাকার সরাসরি আয়, ২০১৯এর ফেব্রুয়ারী মাসে এই প্রকল্প চালু করা হয়। এছাড়াও রয়েছে প্রধানমন্ত্রী কিষান মান ধন যোজনা, এটি ৬০ বছর বয়স্ক কৃষকদের পেনশন সুবিধার মত একটি যোজনা।

২৯শে মার্চের প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ যোজনা ত্রাণ ব্যবস্থায় গরীব লোকেদের মধ্যে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনের আওতায় তিন চতুর্থাংশ গ্রামীণ এবং অর্ধেক শহুরে পরিবার অতিরিক্ত পাঁচ কিলো চাল বা গম পাবেন বিনামূল্যে। এই সহায়তা হবে দুটাকা কিলো দরে পাচ কেজি গম বা তিন টাকা কিলো দরে পাঁচ কেজি চালের অতিরিক্ত। এই ব্যবস্থার ফলে গুদামজাত খাদ্য শষ্যের উপযুক্ত ব্যবহার হবে।

এই ধরণের সহায়ক নীতি থাকার দরুণ ভারতীয় কৃষকরা প্রাকৃতিক বিপর্যয় জনিত ভীতি কাটিয়ে সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে চাষের প্রতি মনোনিবেশ করতে পারছে যাতে দেশের মৌলিক প্রয়োজন পুরো করা যায়। যে কোনো আশংকার বিরুদ্ধে ভারতীয় কৃষকরাই হল আসল বাফার এবং সামনের সারির যোদ্ধা। (মূল রচনাঃ জি. শ্রীনিবাসন)