ভারতের অন্তর্জাতিক জনসংযোগ অব্যাহত

For Sharing

একদিকে কোভিড ১৯এর প্রেক্ষিতে ভারত জাতীয় লকডাউনের তৃতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করল এবং অন্যদিকে বিদেশের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব অব্যাহত রয়েছে। ভারত করোণাভাইরাসের সংখ্যা কেবল হ্রাস করার বিষয়েই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়; নতুন দিল্লী বিশ্বের অন্যান্য দেশকে সহায়তা করতে সর্বদাই প্রস্তুতও রয়েছে।

ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে সরকারের জনসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই প্রধানমন্ত্রী কোভিড ১৯ অতিমারীর প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় দেশ এই মহামারীর প্রভাব কম করতে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়কে পরস্পরকে অবহিত করেন।

এবছর মার্চ মাসে সার্ক নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সে যে সব বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়ে মতৈক্য হয়েছিল তা রূপায়ণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং শ্রীমতী হাসিনা সন্তোষ ব্যক্ত করেন। সার্কের কোভিড ১৯ জরুরী তহবিলে ১.৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ দেওয়ার জন্য শ্রী মোদি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এই অঞ্চলে কোবিড ১৯ এর মোকাবিলায় সমন্বিত প্রয়াসের নেতৃত্ব দেওয়ার এবং বাংলাদেশে সহায়তা পাঠানোর  জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।  ভারত চেন্নাই এবং কলকাতা থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের উদ্ধারের সুব্যবস্থাও করেছে।

দুই নেতা সড়ক, রেল, বিমান এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের মাধ্যমে সীমান্ত পারে অত্যাবশক সামগ্রীর সরবরাহ অব্যাহত থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শ্রী মোদি কোভিড ১৯এর মোকাবিলায় এবং এই অতিমারীর অর্থনৈতিক প্রভাব কম করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ভারত প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

শ্রী মোদি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর শ্রীমতী আং সান সু চির সঙ্গেও কথা বলেছেন। উভয় নেতা অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে কোভিড ১৯এর পরিদৃশ্য নিয়ে আলোচনা করেন। এই মহামারী প্রতিরোধে নিজেদের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা পরস্পরকে অবহিত করেন।

মিয়ানমারকে ভারতের ‘প্রথমে প্রতিবেশী’  নীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বলে উল্লেখ করে শ্রী মোদি মিয়ানমারকে কোভিড ১৯এর বিষয়ে সব রকম সহায়তার  আশ্বাস দেন।

বর্তমানে ভারতে উপস্থিত মিয়ানমারের নাগরিকদের সম্ভাব্য সব রকম সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছেন শ্রী মোদি। মিয়ানমারের ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরকে ধন্যবাদ জানান। উভয় নেতা কোভিড ১৯এর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় যোগাযোগ রেখে এক সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনারেল প্রায়ুত চান-ও-চা র সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন। শ্রী মোদি ২০১৯এর নভেম্বরে আসিয়ান এবং অন্যান্য শিখর বৈঠকে যোগদানের জন্য তার ব্যংকক যাত্রার কথা স্মরণ করেন।  তিনি থাই রাজ পরিবারের সদস্যগণ এবং থাই জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। উভয় নেতা কোভিড ১৯এর মোকাবিলায় নিজ নিজ দেশের গৃহীত ব্যবস্থাদি সম্পর্কে পরস্পরকে অবহিত করেন।

ভারতীয় এবং থাই প্রধানমন্ত্রী পরস্পরের দেশে উপস্থিত তাদের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদানের প্রশংসা করেন এবং এই ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

আঞ্চলিক এবং সম্প্রসারিত স্তরে ভারত প্রয়োজনের সময় তাদের অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। ভারত অনেক দেশে ত্রাণ সুবিধা প্রদান করেছে এবং চিকিৎসা সরবরাহ এবং বিভিন্ন দল পাঠিয়েছে। বিদেশী নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে পাঠাতে সহায়তা করেছে।

প্রয়োজনের সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের সহায়তার প্রশংসা করেছে বিভিন দেশ। করোণা পরবর্তী বিশ্বে কোভিড ১৯এর মানবিক প্রভাব হ্রাস করতে ভারতের নিঃস্বার্থ অবদান নিঃসন্দেহে ভারতকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে। (মূল রচনাঃ কৌশিক রায়)