গিলগিট-বাল্টিস্তানে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালতের  কোনো এক্তিয়ার নেই জানালো ভারত

For Sharing

গিলগিট বাল্টিস্তান এ্যাসেম্বিলিতে নির্বাচন করানোর জন্য কেয়ারটেকার সরকারের জন্য ২০১৮র গিলগিট-বাল্টিস্তান আদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার অনুমতি চেয়ে পাকিস্তান সরকারের করা একটি দেওয়ানী মিসলেনিয়াস আবেদন সি এম এর শুনানী গ্রহণ করেছে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত গত সপ্তাহে। সরকারের মামলাটি শুনানীর পর এক সংক্ষিপ্ত আদেশে প্রধান বিচার পতি গুলজার আহমেদের নেতৃত্বে  সাত বিচার পতির বেঞ্চ তাদের সম্মতি প্রদান করে।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট এর আগে ২০১৯এর জানুয়ারী মাসে তাদের এক্তিয়ার গিলগিট-বাল্টিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে এবং জি বি সুপ্রীম এ্যাপিলেট আদালতের খারিজ করা একটি আদেশ বহাল করে। একই সঙ্গে ২০১৮র আদেশের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে তারা সারতাজ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সংশোধনী খসড়া আদেশ তৈরি করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়। পূর্ববর্তী পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজ সরকারের গঠিত এই কমিটি স্থানীয় আশা আকংখ্যার বাস্তবায়নের জন্য আইনী ব্যবস্থার সুপারিশ করে।

ভারতের পররাষ্ট্রু মন্ত্রক তথা কথিত গিলগিট-বাল্টিস্তান জি বি-র বিষয়ে একজন বরিষ্ঠ কূটনীতিবিদকে রাজনৈতিক শাস্তি প্রদান করে এবং তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে গিলগিট বাল্টিস্তান সহ সমগ্র জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংগ।

তারা জোর দিয়ে বলে যে পাকিস্তান সরকার বা তাদের বিচারবিভাগের  অবৈধভাবে দখলকৃত ভূখন্ডের ওপর কোনো এক্তিয়ার বা অধিকার নেই। ভারতীয় ভূখন্ড  জম্মু ও কাশ্মীরের পাকিস্তানী অধিকৃত এলাকায় কোনো রকম বাস্তব পরিবর্তনের কোনো রূপ কার্যকলাপ ভারত সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে।

গত বছর ভারত পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে এই গিলগিট বাল্টিস্তানের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করে। ২০১৫সালের ৮ই জুনও অনুরূপ প্রতিবাদ জানানো হয়।
সুতরাং ভারত অনবরত বলে আসছে যে পাকিস্তান অবৈধভাবে যে অঞ্চল দখল করে রয়েছে তা খালি করতে হবে। নতুন দিল্লী সর্বদাই প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং বিচারবিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের অধিকৃত ভূখন্ড আত্মসাত করার পাকিস্তানী নীতির নিন্দা করেছে।

পাকিস্তান অনবরত ভারতের প্রতিক্রিয়া অবহেলা করেছে এবং অধিকৃত ভূখন্ডে নিজেদের অবৈধ অধিগ্রহণ মজবুত করার অপচেষ্টা করেছে। ভারতের  ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার সিদ্ধান্তের ফলে  পাকিস্তানের বিশেষ করে সামরিক নেতৃত্বের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। তারা সর্বদাই পাকিস্তানী জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার দোহাই দিয়ে এই বিষয়টিকে ব্যবহার করেছে।

রাজনৈতিক স্তরে তারা অধিকৃত ভূখন্ড-তথা কথিত আজাদ জম্মু এবং কাশ্মীর এবং গিলগিট -বাল্টিস্তানে তাদের দৃষ্টিভঙ্গীকে নতুন করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানী নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির জন্য এ জে কে সংবিধান সংশোধিত হয়েছে। জি বির ওপরও নিয়ন্ত্রণ মজবুত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় অসন্তোষ সামাল দেবার লক্ষ্যে কৃত্রিম সাংবিধানিক পরিবরতন আনা হচ্ছে যাতে পাকিস্তান এই অঞ্চলকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। পঞ্চম প্রদেশ হিসেবে অধিগ্রহণ করে পাকিস্তান এই অঞ্চলের ওপর নিরংকুশ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা করছে।
গিলগিট-বাল্টিস্তানের দাবী পাকিস্তান দীর্ঘ দিন থেকে অবহেলা করে আসছে।  সেখানকার জনগণের প্রয়োজন হল ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের মত  চাকুরী, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং উন্নত জীবন যাত্রা।  ভারতকে সজাগ থাকতে হবে এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের যে কোনো রকম দুরভিসন্ধিকে বাঞ্চাল করতে হবে। (মূল রচনাঃ ড. অশোক বেহুরিয়া)