আফগানিস্তান সংক্রান্ত বিশেষ মার্কিন দূতের ভারতীয় আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

For Sharing

আফগানিস্তান আপোষরফার জন্য বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি জালমায় খালিজাদ ভারত সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন।  তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমর্থনের কথা বোঝানোর চেষ্টা করেন। শ্রী খালিজাদ শান্তি আলোচনার গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কছে আবেদন জানান এবং অবিলম্বে আফগানিস্তানে হিংসা কম করার এবং কোভিড ১৯ অতিমারীর বিষয়ে সহযোগিতার প্রতি জোর দেন।

মার্কিন বিদেশ বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল সমর্থন সংগ্রহ করা এবং মার্কিন-তালিবান চুক্তির পূর্ণ রূপায়ণ। জেলবন্দীদের মুক্তির বিষয়কে কেন্দ্র করে আফগান সরকার এবং তালিবানদের মধ্যে মত পার্থক্যের ফলে  চুক্তিতে অচলাবস্থা দেখা দেয়।

২০২০র ফেব্রুয়ারীতে দোহায় তালিবানের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদারের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করার পর থেকে মুখ্য মার্কিন আলোচনাকারী শ্রী খালিজাদ এই অঞ্চলের ঘটনাবলী সক্রিয়বাহবে  নিরীক্ষণ করছেন। চুক্তি বাঁচাতে অতিমারীর মধ্যেও ১২ এপ্রিল থেকে এটি তার দ্বিতীয় সফর।

ভারত এই শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে সরকার সহ আফগানিস্তানের সমস্ত পক্ষ এই দোহা চুক্তিকে সমর্থন করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে ভারতের নীতি হল আফগানিস্তানের শান্তি, নিরাপত্তা, এবং স্থিতিশীলতার উওযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।

শ্রী খালিযাদ ড. এস জয়শংকর এবং অজিত ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেন। আফগান হিন্দু ও শিখ সহ আফগানিস্তান সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের অধিকার সুরক্ষার এবং গণতন্ত্রকে মজবুত করার জন্য ভারতের অব্যহত সহায়তার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে হিংসা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে অস্ত্র বিরতির আহ্বান জানান।

নতুন দিল্লী  দাবী করে যে আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য জঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অবসান ঘটানো একান্ত প্রয়োজন। মার্কিন  পক্ষ আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পুনর্নিমাণ এবং মানবিক সহায়তায় ভারতের অবদানের কথা স্বীকার করেন। কোরণা ভাইরাসের মোকাবিলায় ভারত আফগানিস্তানে অত্যাবশক জীবন-দায়ী ওষুধপত্র সরবরাহ করছে। এর ফলে আফগান জনগনের প্রশংসা অর্জিত হচ্ছে।

 এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ভারত ও তালিবানদের মধ্যে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রস্তাব দিয়েছে যে ভারতের উচিত তালিবানদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করা । এতে বোঝা যায় যে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় ভারত বৃহত্তর ভূমিকা গ্রহণ করুক ওয়াশিংটন তাই চায়।

বর্তমানে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত আফগানিস্তানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ক্ষণভঙ্গুর শান্তি চুক্তি, সহায়তা হ্রাস, করোণাভাইরাস মহামারীর মত নানান সমস্যা একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে।

জঙ্গীরা হিংসা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য কাবুল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দোষারোপ করছে। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি আশরফ গণি এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লা আবদুল্লার মধ্যে দ্বন্দ্বের দরুণও আলোচনা বিঘ্নিত হচ্ছে। এরা দুজনেই বিতর্কিত সেপ্টেম্বর নির্বাচনে বিজয়ী বলে দাবী করছেন।

আন্তঃআফগান শান্তি আলোচনার সূত্রপাতে অগ্রগতি এই শান্তি চুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন আফগান গোষ্ঠীর মধ্যে বিশ্বাস ঘাটতির ফলে এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। মূল পরিকল্পনা অনুসারে কাবুল ৫০০০ তালিবান বন্দীকে মুক্তি দেবার পর ১০ মার্চ আন্তঃআফগান আলোচনা শুরু হবার কথা ছিল। অন্যদিকে জঙ্গী গোষ্ঠীর ১০০০ সরকারী কর্মচারীকে মুক্তি দেবার কথা ছিল। এযাবৎ আফগান  সরকার ৫০০০ এর মধ্যে ৯৩৩অন তালিবান বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে এবং তালিবানরা ১৫৫জন পণবন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সরকারী বাহিনীর ওপর তালিবানদের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আফগান শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিলতর করে তুলছে রাজনৈতিক সংকট, ক্ষণভঙ্গুর শান্তি চুক্তি, সহায়তা হ্রাস এবং করোণাভাইরাস জনিত সমস্যা। সেই কারণে দেশ বর্তমানে যে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন তা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হল আফগানিস্তানের সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শত্রুতা পরিহার করে  এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। (মূল রচনাঃ ড. স্মিতা)