করোণা পরবর্তী ভারতের রূপরেখা উপস্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী দেশ ব্যাপী লকডাউনের শুরু থেকে চতুর্থবার দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষনে বলেছেন যে ভারত কোভিড ১৯ ভাইরাসের  সংক্রমণ বন্ধ করতে দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছে। অনেক দেশের তুলনায় ভারত ভাল কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন এই ভাইরাস পুরো বিশ্বকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ সংকটের সম্মুখিন। মহামূল্যবান জীবন বাঁচাতে সারা বিশ্ব নিয়োজিত রয়েছে। আমরা কখনও এইরূপ সংকটের কথা শুনি নি। মানবজাতির কাছে এই সংকট নজীরবিহীন।

আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের খুব সাবধানতার সঙ্গে সমস্ত নিয়ম মেনে এগোতে হবে। সারা বিশ্ব যখন সংকটের মুখোমুখি আমাদের এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন রাষ্ট্র হিসেবে আজ আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে। কোভিড ১৯ একটি বার্তা এবং সুযোগ নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন যখন কোরোনা শুরু হয় আমাদের দেশে একটি পি পি ই কিটও তৈরি হতো না। এন-৯৫ মাস্ক খুবই অল্প পরিমাণে তৈরি হত।  কিন্তু আজ আমরা ২লাখ পি পি ই এবং দুলাখ এন-৯৫ মাস্ক প্রতিদিন তৈরি করছি। আমরা সংকটকে সুযোগে রুপান্তরিত করেছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

প্রধান মন্ত্রী বলেন স্বনির্ভর ভারতের সংকল্পও একইভাবে কার্যকর বলে প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন ভারতের লক্ষ্য এবং কার্যকলাপের দ্বারা বিশ্বের কল্যাণ প্রভাবিত হয়। ভারতের অভিযান বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে। আন্তর্জাতিক সৌর আঁতাত বিশ্ব উষ্ণায়ণের বিরুদ্ধে ভারতের উপহার। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস চাপ কম করার জন্য ভারতের উপহার। ভারতীয় ওষুধ সারা বিশ্বের মানুষের জীবন দান করেছে। এইসব পদক্ষেপ ভারতের গৌরব বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে ভারত মানবজাতির কল্যাণের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে রূপরেখা প্রস্তুত করেন যা পাঁচটি স্তম্ভের ওপর দন্ডায়মান। তিনি বলেন এগুলি হল ভারতীয় অর্থনীতি, পরিকাঠামো, আমাদের ব্যবস্থা, আমাদের প্রাণবন্ত ডেমোগ্রাফি এবং চাহিদা। দেশে চাহিদা বৃদ্ধির জন্য এবং সেই চাহিদা মেটানোর জন্য সাপ্লাই চেনে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট সকলের ক্ষমতায়ণ দরকার।

প্রধানমন্ত্রী নতুন সংকল্পের সঙ্গে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেন। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানে এই প্যাকেজ গুরুত্বপূর্ণ শৃংখলা হিসেবে কাজ করবে।

এই অর্থনৈতিক প্যাকেজের মূল্য হল ২০ লক্ষ কোটি টাকা যা ভারতের জি ডি পির দশ শতাংশ। এর ফলে দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ সহায়তা পাবে। দেশের উন্নয়নী যাত্রায় এই প্যাকেজ নতুন গতি প্রদান করবে এবং স্বনির্ভর ভারত অভিযানে নতুন দিশা নির্দেশ করবে। স্বনির্ভর ভারতের সংকল্প সাকার করতে জমি, শ্রম, নগদ অর্থ এবং আইন এই সব কিছুর ওপর গুরুত্ব  দেওয়া হয়েছে।

ভারতের কুটির শিল্প, গৃহ শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প,এম এস এম ই সকলের জন্য এই অর্থনৈতিক প্যাকেজ। শ্রমিক, কৃষক, যারা দিন রাত দেশের মানুষের জন্য কাজ করে তাদের জন্য এই প্যাকেজ। ভারতীয় মধ্যবিত্ত যারা দেশের উন্নয়নের জন্য কর প্রদান করে তাদের জন্য এই অর্থনৈতিক প্যাকেজ। ভারতীয় শিল্প যারা ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলতে দৃঢ় সংকল্প তাদের জন্য এই অর্থনৈতিক গুচ্ছ ব্যবস্থা।

এখন স্বনির্ভর ভারত গড়তে সাহসী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশকে এগিয়ে যেতে হবে। এই সংস্কার হবে যুক্তিবাদী কর ব্যবস্থার, সরল এবং স্পষ্ট আইনের, উন্নত পরিকাঠামোর, সক্ষম এবং দক্ষ মানব সম্পদের এবং মজবুত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার। এই সংস্কার ব্যবসা বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং মেক ইন ইন্ডিয়ার জন্য আমাদের সংকল্পকে আরো মজবুত করবে। (মূল রচনাঃ কৌশিক রায়)