কোভিড-১৯ সংকটে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির রূপরেখা  

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দেশে কোভিড-১৯ মহামারির এই সময় ভারতের  অর্থব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক গুচ্ছ সুবিধা ঘোষণা করলেন। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমণ এই গুচ্ছ সুবিধার আওতায় অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের কাজকর্মে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে তিনটি পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। প্রথম দফায় দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা-MSME এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান NBFC’তে পর্যাপ্ত সহায় সম্পদ যোগানের বিস্তারিত যোজনার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, আর্থিক  অনটন গ্রস্ত MSME’কে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা ও ৫০ হাজার কোটি টাকার ইকুইটি সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। আর NBFC’র জন্য ধার্য করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ অর্থ যোগান যোজনা।  দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এই উৎপাদন ক্ষেত্রকে বলিষ্ঠ কোরতে DISCOM’এর জন্য ৯০ হাজার কোটি টাকার অর্থ সহায়তা ধার্য করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ঘোষণায় দেশের ভূ সম্পত্তি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উৎপাদন সংস্থাকে প্রকল্প নথিভুক্তিকরণ ও রূপায়ণ সম্পূর্ণ কোরতে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে; এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সীমা আরও তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।   প্রত্যক্ষ কর ক্ষেত্রেও নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জন সাধারণের হাতে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পৌঁছুবে, যা তাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান যোগাবে।

এ মাসের ১৪ তারিখে দ্বিতীয় পর্যায়ে যে আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করা হয়, তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে নানা কর্মসূচির উল্লেখ।

রিজার্ভ ব্যাংক ছাড়াও অর্থমন্ত্রী যে প্রথম প্যাকেজ সুবিধা ঘোষণা করেছেন, তার প্রধান লক্ষ্য হল অর্থনীতিতে অর্থের যোগান বাড়িয়ে দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের হাতে  বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিমাণ অর্থ প্রদান। এ ছাড়াও ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আরও বিপুল পরিমাণ প্যাকেজ সুবিধা প্রদান অত্যন্ত জরুরি বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে ; এবং সেই অনুযায়ী সব ক্ষতিগ্রস্থ দেশ তাদের আর্থিক কর্মসূচি ঘোষণা করছে। এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ সুবিধা ঘোষণা করলেন।

করোনা মহামারির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে ও সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা এবং  জীবন হানি এড়াতে এই লক ডাউন এখন বিশ্বের সব কটি সংক্রমিত দেশের সামনে একমাত্র বিকল্প। তবে এর ফলে অর্থব্যবস্থা প্রায় থমকে গেছে, সমগ্র বিশ্ব ভয়ানক আর্থিক মন্দা পরিস্থিতির সম্মুখীন, মানুষের জীবন জীবিকা আজ ভয়াবহ সংকটে।

আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার-IMF’এর সমীক্ষা অনুযায়ী, করোনা অতিমারির জেরে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কমে গিয়ে মাইনাস তিন শতাংশ স্তরে নেমে যেতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিটি দেশের সামগ্রিক অর্থ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামোকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাতে পারে বলে এখন সকল মহলের আশংকা।

ভারত সরকার, এই পরিস্থিতির কার্যকর মোকাবিলায় দেশকে আত্ম নির্ভর  হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। চারটি বিষয় এই নীতির ভিত্তি, যেমন ভূসম্পত্তি, শ্রম, অর্থ প্রবাহ ও আইনী কাঠামো।

এর আগে আর্থিক মন্দা পরিস্থিতির মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রী নির্মলা সিতারমণ এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্রধান মন্ত্রী গরীব কল্যাণ যোজনা ঘোষণা করেছিলেন। এর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রতিটি জন ধন অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা জমা করা, উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীদের প্রত্যেককে মাসে একটি বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ, প্রভিডেন্ট ফান্ডে কর্মচারী ও মালিক উভয় পক্ষেরই দেয় ১২ শতাংশ অর্থ সরকারের পক্ষ থেকে জমা করা ইত্যাদি। এর জন্য খরচ হবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এবং উপকৃত হবেন ৭২ লাখ ২২ হাজার কর্মচারী।

এর পর গত ১২ তারিখে প্রধানমন্ত্রী যে ২০ লাখ কোটি  টাকার আর্থিক প্যাকেজ সুবিধার কথা ঘোষণা করেন, তার আওতায়  ১৩ তারিখে অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী সীতারমণ পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আগামী তিন মাস বিনা মুল্যে রেশন; ঠেলা ওয়ালা ও রেড়ি ওয়ালা বিক্রেতাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সুবিধা ও কৃষকদের হাতে প্রয়োজনীয় মুলধন পৌঁছে দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার জরুরিকালীন সহায়তা ঘোষণা করেছেন। ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে ২০ লাখ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ সুবিধা ঘোষণা করেছেন, তার মূল লক্ষ্য হল দেশকে আত্মনির্ভর বা স্ব নির্ভর করে গড়ে তোলা। এর জন্য তিনি দেশে তৈরি জিনিসপত্র ক্রয়ে উৎসাহ দানের কথা বলেছেন।  প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এই আর্থিক প্যাকেজ মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা GDP’র ১০ শতাংশের মত। কোভিড-১৯ সংক্রমণ জনিত ভয়াবহ পরিস্থিতি সত্বেও এই প্যাকেজ সুবিধা দেশের অর্থব্যবস্থাতে এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলেই সকল মহলের প্রত্যাশা। (মূল রচনাঃ- ডঃ লেখা চক্রবর্তী)