প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অর্থনীতিতে ‘সবুজের আভাস’ দেখা যাচ্ছে

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘আনলক ওয়ান’ বা লক ডাউন উঠিয়ে নেওয়ার প্রথম পর্ব শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং কোভিড – ১৯  অতিমারী মোকাবিলার ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলের উপরাজ্যপালদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন।  দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি এই ধরণের ষষ্ঠ বৈঠক। এর আগে ২০শে মার্চ, ২রা এপ্রিল, ১১ই এপ্রিল, ২৭শে এপ্রিল এবং ১১ই মে এই ধরণের আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই অতিমারীর মোকাবিলায় গৃহীত সময়োচিত পদক্ষেপ, দেশ জুড়ে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে অনেকাংশে কার্যকরী হয়েছে।

করোনায় সবচেয়ে কম মৃত্যুহার সম্পন্ন দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। নিয়মানুবর্তী হয়ে সমস্ত নিয়মকানুন মেনে চললে করোনার প্রতিকূল প্রভাব অনেক কম হবে, এই উপলব্ধি আমাদের কাছে বড় শিক্ষা বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি, বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার বা মুখ ঢাকার ওপরে গুরুত্ব দেন। ‘দো গজ কি দূরি’ – এই মন্ত্র এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের আবশ্যিকতার কথাও তিনি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ম অনুসরণে সামান্য শিথিলতায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াই’এ আমরা দূর্বল হয়ে পড়ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের প্রয়াসে অর্থনীতিতে ‘সবুজের ঝলক’ চোখে পড়ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বিদ্যুতের ব্যবহার আবার বাড়ছে যা গত কয়েকদিনে হ্রাস পেয়েছিল। মে মাসে সার বিক্রির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছরে খারিফ শস্য রোপনের পরিমাণও বেড়েছে। দু চাকার গাড়ীর উৎপাদন বেড়েছে, খুচরো বিক্রয়ের ওপর ডিজিটাল পেমেন্ট লকডাউনের আগের অবস্থায় ফিরেছে, মে মাসে কর সংগ্রহের পরিমাণ এবং রপ্তানিও পূর্বাবস্থায় ফিরছে। এই সমস্ত সংকেতই বিশেষ উৎসাহব্যাঞ্জক।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের আওতায় কৃষি, মৎসচাষ এবং ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ – MSME’র ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,  MSME’র জন্য ঋণ সুলভ হলে তারা আরো দ্রুত তাদের  উদ্যোগ শুরু করতে পারবে, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগও। তিনি মনে করিয়ে দেন, ব্যবসা বাণিজ্যের বিকাশে একযোগে কাজ করা বিশেষভাবে প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাজ্যের কিছু কিছু অর্থনৈতিক কেন্দ্র ২৪ ঘন্টা সক্রিয় রাখতে হবে,  কাজ দ্রুততর করতে হবে যাতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে আরো গতি আসে।

বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই আলোচনা ছিল দুদিনব্যাপী আলোচনার প্রথম পর্ব। পাঞ্জাব, আসাম, কেরালা, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খন্ড, ছত্তিসগড়, ত্রিপুরা, হিমাচল প্রদেশ, চন্ডীগড়, গোয়া, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, লাদাখ, পুডুচেরী, অরুনাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিসোরাম, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দাদরা ও নগর হাভেলী, দমন দিউ, সিকিম এবং লাক্ষাদ্বীপ ‘এর মুখ্যমন্ত্রী ও উপরাজ্যপালগণ এই  আলোচনায় অংশ নেন।

তাঁরা এই রকম একটি সংকটময় সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং নিজ নিজ রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পরিস্থিতির মোকাবিলায় গৃহীত প্রয়াসগুলির কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। বৈঠকে জাতীয় স্তরে গৃহীত ব্যবস্থাগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। রাজ্যগুলি করোনার মোকাবিলায় সচেতনতা প্রচার, ঘরে ফেরা শ্রমিকদের জন্য গৃহীত ব্যবস্থা, আরোগ্য সেতুর অ্যাপের ব্যবহার এবং রাজ্যে অর্থনীতির পুণরুজ্জীবনে গৃহীত প্রয়াসগুলির বিষয় তুলে ধরে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী গত ১৩ই জুন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীগণ এবং শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে দেশে কোভিড – ১৯ মোকাবিলার বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। এর থেকে দেখা যায়, দেশে মোট সংক্রমণের দুই তৃতীয়াংশ ঘটেছে ৫টি রাজ্যে এবং মূলতঃ বড় শহরগুলিতে।

প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় শহর ও জেলা স্তরে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা পূরণে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর সুপারিশগুলি খতিয়ে দেখেছেন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলির সঙ্গে পরামর্শক্রমে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকরা জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রককে বর্ষা মরশুমের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সুনিশ্চিত করার কথা বলেছেন।

(মূল রচনা – কৌশিক রায়)