গালওয়ান উপত্যাকা নিয়ে চীনের দাবি খারিজ করলো ভারত

For Sharing

 

১৫ই জুন ভারত চীন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতীয় ভূখন্ড রক্ষার সময় ২০জন ভারতীয় সৈন্য এবং একজন আধিকারিকের নৃশংস হত্যার পর চীন লাদাখে গালওয়ান উপত্যাকা নিজেদের বলে মিথ্যা দাবি জানায়। এই অঞ্চল ভারতের সার্বভৌম ভূখন্ডের অন্তর্গত এ বিষয়ে কোনো বিবাদ নেই। চীনের প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার ফলে তাদের আগের অবস্থান থেকে পেইচিং সরে আসায় এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। চীনের এই অসঙ্গত দাবি ভারত সরকার তীব্রভাবে খন্ডন করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে গালওয়ান উপত্যাকার বিষয়ে ভারতের সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক অবস্থানের কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে। নতুন দিল্লী বলেছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বিষয়ে চীনা পক্ষের অবাঞ্চিত এবং অন্যায় দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। চীনের নিজের অবস্থানেরই পরিপন্থী এই দাবি।

এই অঞ্চল বাস্তবিকভাবে কেবল ভারতের দখলেই নয়, ব্রিটিশ-ভারতের একজন স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রসুল গালওয়ানের নামে এই উপত্যাকা নামাংকিত। সমস্ত তথ্য প্রমাণ থাকা সত্বেও পেইচিং অনাবশ্যকভবে এই এলাকা তাদের এক্তিয়ারে বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু চীনের চাঞ্চল্যকর আগ্রাসনের অপপ্রয়াস ইতিহাস, ভূগোল এবং আইনের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য প্রমান মিটিয়ে ফেলতে পারবে না। আসল সত্যের অবমাননা করে পি এল এর ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড ১৬ই জুন সমগ্র গালওয়ান উপত্যাকার ওপর চীনের ভূখন্ডগত সার্বভৌমত্ব দাবী করে একটি বিবৃতি জারী করে। এরপরই ১৭ই জুন চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিবৃতি দেয়।

চীনের দুমুখো নীতির প্রেক্ষাপটে এই সব করা হয়। তারপর ভারত বলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ভারতীয় দিকে চীনা সৈন্যদের কাঠামো নির্মাণের কাজে ভারতীয় সৈন্য বাধা দিলে ১৫ই জুনের এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। চীনের এই কাজের ফলে সময় সময় দুটি দেশের মধ্যে স্বীকৃত আস্থা বর্ধক ব্যবস্থার অবমাননা হয়েছে বলে ভারত জানায়।  ভারত আরো উল্লেখ করে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য ৬ই জুন দু পক্ষের সিনিয়র মিলিটারী কমান্ডারগণ একমত হন।

 

নতুন দিল্লি জানিয়েছে, উভয় পক্ষ স্থিতাবস্থা পরিবর্তন না করার এবং এল এ সি মেনে চলার বিষয়ে একমত হয়। কিন্তু চীনা পক্ষ গালওয়ান উপত্যকা এলাকায় এল এ সির বিষয়ে এই সমঝোতা ভঙ্গ করে এবং এল এ সির ভারতীয় দিকে কাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করে। যখন এই প্রয়াস বাঞ্চাল করা হয় তখন চীনা বাহিনী ১৫ই জুন হিংসার পথ বেছে নেয়, যার ফলে এত সৈন্য হতাহত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে ভারতীয় সেনা গালওয়ান উপত্যাকা সহ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার সব সেক্টরে এই সমঝোতা মেনে চলে এবং ভারতীয় সেনা এল এ সির ওপারে কখনও হস্তক্ষেপ করে নি। ভারতীয় সেনা কোনো রকম ঘটনা ছাড়াই দীর্ঘ সময় থেকে গোলান উপত্যাকায় টহলদারী চালিয়ে আসছে।

নতুন দিল্লি আরো জানিয়েছে, আমরা আশা করি যে দুটি দেশের বিদেশ মন্ত্রীদের মধ্যে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যে বোঝাপড়া হয়েছে চীন নিষ্টা সহকারে তা পালন করবে, কারণ আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির জন্য এটি একান্ত আবশ্যক।

ভারত-চীন সীমান্তে চীনা আগ্রাসনের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে চীনের নিন্দা করা হচ্ছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পিও সীমান্ত সংঘাতের জন্য চীনের প্রতি দোষারোপ করে পেইচিং কে দুষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। আমস্টার্ডামের দক্ষিণ এশিয় সমীক্ষা সংক্রান্ত ইওরোপীয় ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে বলেছে এটি স্বেচ্ছাকৃত, পূর্ব পরিকল্পিত এবং বর্বরোচিত আক্রমণ এবং অনেক দশক আগে দুদেশের মধ্যে স্বীকৃত চুক্তির স্পষ্ট লংঘন বলে তারা জানিয়েছে। এর ফলেই প্রায় অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম এল এ সিতে এত জওয়ানের মৃত্য হল। তারা আরো জানিয়েছে চীনের ক্রমবর্ধমান দৃঢ়চেতা মনোভাবের ফলেই ভারতীয় সৈন্যদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। দক্ষিন চীন সমুদ্র হোক বা তাইওয়ান অথবা হংকং সেখানেই হোক না কেন চীন সর্বত্র তাদের পেশী শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা ক্রে চলেছে।  (মূল রচনাঃ রূপা নারায়ন দাস)