LAC’তে চীনের প্ররোচনার যোগ্য জবাব ভারতের

For Sharing

চীন গত কয়েক দশক ধরে ভারত-চীন সীমান্তে সামরিক পরিকাঠামো ক্রমাগত শক্তিশালী করে চলেছে। জবাবে ভারতও সীমান্তের এপারে সামরিক পরিকাঠামো  শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেছে, তবে অনেক পরে, ২০১৪’র পর থেকে।

ভারত তার সীমান্ত প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কিলো মিটার সড়ক নির্মাণ করেছে। তিনটি পর্যায়ের এই প্রকল্পের প্রথমটি এখন সম্পূর্ণ হতে চলেছে। এর সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে ভারতের সেনা টহলদারি বাড়ানো হয়েছে;  ভারতের এই পদক্ষেপ চীনকে করে তুলেছে সন্ধিহান। তার মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।

ফলত, সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। দু পক্ষের সেনার মধ্যে এ বছরের ৫’ই’ মে তারিখে লাদাখে পাঙ্গং-শো ও উত্তর সিকিমের নাকুলা পাসে হাতাহাতির ঘটনায় দু দেশেরই সেনা আহত হয়।

ঘটনা এখানেই থেমে থাকে নি। চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা –LAC বরাবর একাধিক স্থানে, যেমন গালোয়ান উপত্যকা, ডেমচক ও দৌলত বেগ অলডি’তে সেনা সমাবেশ বাড়াতে শুরু করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতও সেনা সমাবেশ বাড়ায়। গালোয়ান উপত্যকা অঞ্চলে চীনা সেনা ভারতের সড়ক নির্মাণে আপত্তি জানায়। এ ছাড়াও সীমান্তে ভারতীয় সেনার গতিবিধি নিরীক্ষণের জন্যে চীন বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ চৌকি স্থাপন করে।

পরিস্থিতিতে অবনতি এড়াতে ২০২০’র ৬’ই জুন দু দেশের সেনার কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠক হয়; অংশ নেন লেহ’র ভারতীয় চতুর্দশ কোরের কম্যান্ডার  লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারিন্দার সিং ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কম্যান্ডার মেজর জেনারেল লিউ লিন। সিদ্ধান্ত হয় দু পক্ষেরই সেনা পিছিয়ে নেবার। তবে পরে লক্ষ্য করা যায়, চীন বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিপরীত আচরণ করছে। এই সময় গালোয়ানে দু পক্ষের সেনার মধ্যে দ্বিতীয় হাতাহাতির ঘটনায় ভারতের ২০ জন সেনা শহিদ হন,; অপরদিকে চীনা পক্ষের হতাহতের সংখ্যা ৪৫ বলে জানা যায়।

এদিকে চীনা সেনার আগ্রাসনমূলক আচরণের সামনে নতি স্বীকার না করে ভারত তার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এই সড়ক প্রকল্প সীমান্তের আরও অগ্রবর্তী অঞ্চলে সামরিক সংযোগ সাধন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করবে।  উদাহরণ স্বরূপ, সাসোমা ও  শাসের লা এলাকার মধ্যে সড়ক সংযোগ ভারিতীয় সেনাকে DBO’তে পৌঁছনোর বিকল্প রাস্তার সুবিধা দেবে। চীনের প্ররোচনা উপেক্ষা করে ভারত ২০১৯’এর মধ্যেই ডারবুক- শাইলক- DBO সড়ক নির্মাণ সম্পূর্ণ করেছে। সম্প্রতি ১৫ই জুন দু পক্ষের সেনার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার পরেই ভারত গালোয়ান নদীর ওপর  একটি সেতু নির্মাণ করেছে, যা সামরিক কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তৈরির ফলে ভারত প্রয়োজন অনুযায়ী এখন থেকে অতি সহজেই  LAC পর্যন্ত সাঁজোয়া গাড়ি ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ পাঠাতে পারবে।

 

বর্তমানে চীন ,ভারত-দু পক্ষই সেনা ও সামরিক উপকরণ সমাবেশ বৃদ্ধি করছে, ফলে সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের কোনও সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। LAC অঞ্চলে মে ও জুন মাসে চীন যে সব ধাঁচা তৈরি করেছে, সেগুলিতে সে ক্রমাগত সামরিক যান পাঠাচ্ছে। ভারতও তার সেনা সমাবেশ LAC’র আরও কাছাকাছি এনেছে; এবং এই অঞ্চলে ৩২ টি সড়ক নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে চীন, ২৪’এ জুন,২০২০’তে স্বাক্ষরিত চুক্তি মেনে না চললে বর্তমান ভারত-চীন উত্তেজনা প্রশমিত হবে না বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। (মূল রচনাঃ- ডঃ এম এস প্রতিভা)