প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আত্ম-নির্ভরতাই অগ্রগতির পথ

For Sharing

 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আকাশবাণীর মন কী বাত অনুষ্ঠানে বলেছেন মন কী বাত এখন ২০২০র অর্ধেক যাত্রাপথ সম্পন্ন করেছে। এই সময়ের মধ্যে স্বভাবতই  সম্প্রচারের বেশিরভাগ বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক মহামারী কেন্দ্রিক; এই বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হয়েছে সারা বিশ্বের মানুষকে। প্রধানমন্ত্রী জানান এখন মানুষ চায় এই বছরটি  তাড়াতাড়ি শেষ হোক।

মাত্র ৬-৭ মাস আগেও আমরা এই করোনার ভয়াবহতার ব্যাপারে কিছুই জানতাম না এবং কেউ অনুমানও করতে পারে নি যে এতদিন পর্যন্ত আমাদের এইভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। দিনের পর দিন দেশকে একের পর এক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হয়েছে। পূর্ব উপকূলে আম্ফানের মত ভয়াবহ ঘূর্ণি ঝড়, পশ্চিম উপকূলে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ।  অনেক রাজ্যে আমাদের কৃষকরা পঙ্গপালের উপদ্রবের শিকার হন। দেশের বিভিন্ন অংশ বার বার ভূকম্পে কেঁপে ওঠে। এসবের মধ্যে আমাদের শিকার হতে হয় প্রতিবেশী কিছু দেশের দুরভিসন্ধির। আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পড়েছি যখন ছোট ছোট ঘটনাকেও এই সব চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

শ্রী মোদি বলেন প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং বিপর্যয় আমাদের সামনে আসতে পারে, তবে ঐতিহাসিকভাবে ভারত সর্বদাই উজ্জ্বলতর  এবং অধিকতর শক্তিশালী রূপে আত্ম প্রকাশ করেছে; ফলে সমস্ত বিপর্যয় এবং চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে আমরা সক্ষম হয়েছি। বহু শতাব্দী ধরে অনেক স্বৈরাচারী আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, আমাদের নিঃশেষ করে দেবার চেষ্টা করেছে কিন্তু ভারত সব দুঃসময় পার করে আরো গৌরবান্বিত হয়ে উঠেছে। ভারতীয়রা আমাদের এই প্রবাদ বাক্যের সঙ্গে সুপরিচিত-“সৃষ্টি স্থায়ী…সৃষ্টি নিরন্তর’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন আমাদের সামনের বিপর্যয় যত ভয়াবহই হোক না কেন আমাদের সংস্কার আমাদের নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার প্রেরণা দেয়। দুঃসময়ে ভারত বিশ্বের প্রতি তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। শান্তি এবং উন্নয়নের প্রতি ভারতের ভূমিকাকে তুলে ধরা হয়েছে। সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষার ভারতের প্রতিশ্রুতি এবং শক্তি সমগ্র বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। যারা লাদাখে ভারতীয় ভূখন্ডের প্রতি তাদের কুদৃষ্টি দিয়েছিল তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। ভারত বন্ধুত্বের আদর্শকে সম্মান করে কিন্তু তারা শত্রুদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতেও সক্ষম। আমাদের বীর সৈন্যরা প্রমাণ করেছে যে দেশ মাতৃকার গৌরব ও সম্মানকে যারা খুন্ন করার চেষ্টা করবে তাদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।।

শ্রী মোদি বলেন সারা দেশ লাদাখের শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঐক্যবদ্ধ  হয়েছে। আমাদের সীমান্ত রক্ষায় আমাদের আরো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। স্বনির্ভর ভারত গড়ে তোলাই হবে শহীদদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধাঞ্চলি।

স্বাধীনতার আগে প্রতিরক্ষার দিক থেকে আমাদের দেশ বিশ্বের অনেক দেশের থেকে এগিয়ে ছিল। তখন যে সব দেশ আমাদের থেকে পিছনে ছিল তারা এখন এগিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর পূর্ব অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের প্রতি আমাদের প্রয়াস চালানো উচিত ছিল কিন্তু তা আমরা করতে পারি নি। কিন্তু আজ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবার জন্য ভারত নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

জনগণের অংশ গ্রহণ ব্যতিরেকে কোনো মিশন সফল হতে পারে না বলে তিনি জানান। স্বনির্ভর ভারতের পথে এগিয়ে যেতে নাগরিক হিসেবে আমাদের সম্মিলিত সংকল্প ও সমর্থন একান্ত আবশ্যক। যখন আমরা স্থানীয় জিনিস ক্রয় করি,  স্থানীয় পণ্যের প্রচার করি, তখন আমরা দেশকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করি।

দেশ লক ডাউন থেকে আনলকের পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন আমাদের দুটি বিষয়ের ওপর দৃষ্টিকে নিবদ্ধ রাখতে হবে; করোনাকে পরাস্থ করা এবং অর্থনীতিকে উন্নত করা। আমাদের এখন আরো সতর্ক থাকতে হবে। এই সতর্কতাই  করোনা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।  সকলকে মাস্ক পরতে হবে, দু গজের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং অন্যান্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি এই সব বিষয়ে অবহেলা না করে নিজেদের এবং অন্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আবেদন জানান। (মূল রচনাঃ পদম সিং)

 

 

 

____________