ভারত-চীন সীমান্তে সৈন্য হ্রাস

For Sharing

ভারত-চীন সীমান্ত প্রশ্নে দুজন বিশেষ প্রতিনিধির মধ্যে দীর্ঘ দু’ঘন্টা আলোচনার পর সৈন্য হ্রাসের ঘোষণার ফলে লাদাখে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এক বড় রকমের স্বস্তি দেখা দিয়েছে। গত ৫ই মে থেকে এই উত্তেজনা চলছে।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চীনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ঈ-র ওপর ভূখন্ডগত বিবাদ নিস্পত্তির এবং দুটি দেশের মধ্যে সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রশ্নের সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের ভার্চুয়াল আলোচনা সীমান্তের ওয়েস্টার্ন সেক্টরে ত্বরায় সম্পূর্ণ সৈন্য অপসারণের জন্য রাজনৈতিক পথ প্রদর্শন করে।

এই ঘোষণার ফলে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে সৈন্য অপসারণ এবং উত্তেজনা প্রশমন প্রক্রিয়ার  মাধ্যমে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে আরো বলা হয়েছে যে দুপক্ষকেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা মানতে হবে এবং সীমান্তে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের জন্য কেউই এক তরফা ব্যবস্থ আগ্রহণ করবে না।

বৈঠকের পরেই সৈন্য অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে গত কয়েকমাস ধরে ঐ এলাকায় যে উত্তেজনা দেখা দেয় তা থেকে সকলেই স্বস্তি লাভ করে। এই উত্তেজনার ফলে উভয় দেশ সৈন্য সমাবেশ করে এবং সামরিক সাজ সরঞ্জাম একত্রিত করে।

এই ধরণের সৈন্য অপসারণ এবং উত্তজনা প্রশমন প্রক্রিয়ার প্রতি কড়া নজর রাখতে হবে কারণ ভাতের অবস্থান হল স্থিতাবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা- এর অর্থ হল এপ্রিল ২০০০এর সময়কার বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা। ৫ মে থেকে ধস্তাধস্তি এবং পাথর ছোড়ার ঘটনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় নিয়মতি ঘটতে থাকে কারণ চীনা সৈন্য বিতর্কিত এলাকায় তাদের গতিবিধি বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং ভারতীয় পক্ষ তীব্র বাধা দেয়।

স্থিতাবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য চীনা সৈন্যকে কেবল প্যাংগং টিসো এবং ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে ৮ নয়;  গালওয়ানে পেট্রল পয়েন্ট ১৪, ১৫ এবং ১৭, গোগরা-হটস্প্রিং এবং দৌলত বেগ অল্ডি, দিপসাং প্লেন এবং গালওয়ান হাইটসের কাছে সম্প্রতি অনুপ্রবেশ করা স্থানগুলিও খালি করতে হবে। ওয়েস্টার্ন সেক্টরে কারাকোরাম অঞ্চল থেকে শুরু করে লাদাখের দক্ষিণ পূর্ব এলাকা পর্যন্ত ৬৫টি পেট্রো পয়েন্টের মধ্যে কয়েকটি অঞ্চলে সম্প্রতি উত্তেজনা দেখা দেয়।

সৈন্য অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে ১৯৯০ এ আস্থা বর্ধক ব্যবস্থাপনা সি বি এম উদ্ভাবনের পর থেকেই দুটি সেনা বাহিনীর মধ্যে আলোচনা চলে আসছে।  ৬ এবং ২২শে জুনও স্থানীয় কমান্ডারদের মধ্যে আলোচনা হয়; কিন্তু গালওয়ান পেট্রোল পয়েন্ট ১৪য় ১৫জুনের রাতে ২০জন ভারতীয় সেনা কর্মী  এবং চীনের পি এল এর ৪৩জন সেনার হত্যার ফলে সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

৩রা জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাদাখ সফরের প্রেক্ষিতে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়, সফরের  সময় তিনি সসস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। এর মাধ্যমে সমাধানের কড়া বার্তা পৌঁছোয়।

উভয় দেশ একাধিক সি বি এম ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে যেমন ১৯৯৩সালের শান্তি ও স্থিতিশীলতা চুক্তি, ১৯৯৬এর সামরিক ক্ষেত্রের সিবিএম, ২০০৫এবং ২০১৩র সীমান্ত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। তবে ২০১৭সালের ডোকলাম ঘটনা এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনা কেবল পশ্চিম ক্ষেত্রেই নয় সিকিম সেক্টরের নাকু লাতেও এই উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে যে পেইচিং সি বি এম পালন করছে না।

সীমান্ত প্রশ্নে দুটি এশিয় প্রতিবেশীর তাদের বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে যেমন স্বাগত জানানো হচ্ছে,  তেমনি বৈঠকের বিষয়ে চীনের  বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে চীন যেমন সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থার লক্ষ্যে কাজ করবে তেমনি তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বকেও দৃঢ়তার সঙ্গে রক্ষা করবে। এছাড়া, তারা বিকাশের সুযোগের প্রতি জোর দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট কৌশলের কথাও বলেছে।  তাৎপর্যপূর্ণভাবে চীন বলেছে যে সঠিক দিশায় জনমতকে নির্দেশিত করার প্রয়োজন রয়েছে যাতে দুটি দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমশ বাড়তে না পারে।

সীমান্তে রুদ্ধ অগ্রগতির অতীত অভিজ্ঞতা এবং তাদের সামরিক লজিস্টিক্স নির্মাণ ছাড়াও  চীনের আপত্তি এবং শর্তাদির নিরিখে এটাই বলা যায় যে আগামী সপ্তাহগুলিতে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনার প্রতি ভারতের যথেষ্ট সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। (মূল রচনাঃ অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লি)