চীনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়- প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

For Sharing

প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বলটন বলেছেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক একবিংশ শতাব্দীতে আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেছেন, আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গির নিরিখে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থেকে যাবে। তিনি আমেরিকার ক্ষেত্রে চীনকে  বর্তমান শতকে এক বিপদ হিসেবেই চিহ্নিত করেন। অপরদিকে ভারত বিশ্ব অঙ্গনে আর এক প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে আসছে বলে জন বলটন মন্তব্য করেন।

ভারত ও আমেরিকা- বিশ্বের এই দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে   বহু অভিন্ন মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ কোরে তিনি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আমেরিকায় এসেছে, আর ভারতও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বাসভুমি, কাজেই সকল দেশই ভারতের প্রতি অধিক   মনোযোগ দিতে চাইবে। প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলির প্রকৃতি মূলত ভূ-রাজনৈতিক এবং সেগুলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজন। পূর্ব লাদাখ অঞ্চলে সম্প্রতি ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনার উল্লেখ কোরে তিনি বলেন, চীনের এই ধরণের আচরণ কেবল আমেরিকাই নয়, চীনের আশপাশের দেশের প্রতিটি নাগরিকের পক্ষেই উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন,

চীনের আছে বিশ্বের সব চেয়ে বড় সাইবার যুদ্ধ যোজনা; আছে মার্কিন নৌ বাহিনীকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে  বিতাড়নের উপযুক্ত অস্ত্র সম্ভার, এছাড়াও বেইজিং তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র সংখ্যা  ক্রমাগত বাড়িয়েই চলেছে। ভারত ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে চীনের লাগোয়া সীমান্তে বেইজিং’এর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ৩০/৪০ বছর ধরে বাকি বিশ্ব চীনের বিষয়ে ভুল নীতি অনুসরণ করেছে। বাকি বিশ্ব ভেবেছে, চীন তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মর্যাদা দেবে। এখন তা সবই ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, আমেরিকা এতদিন বিশ্বাস করে এসেছে, চীনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির  সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম থেকে প্রদেশ ও তার পর জাতীয় স্তরে লোকায়ত সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাও এখন ভুল প্রমাণিত।

সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ কোরে  জন বোলটন চীনের প্রেক্ষিতে সমগ্র বিশ্বের নীতি কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানান। তিনি রাষ্ট্রপতি শি চীন ফিং’কে চীনের সর্বাধিনায়ক আখ্যা দিয়ে বলেন, এই নেতা সব কিছু ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিনতে অগ্রসর হন। তিনি বলেন চীনের উত্থানের ইতিহাসই শান্তিপূর্ণ নয়; কাজেই এই দেশ বিশ্ব অঙ্গনে কতখানি দায়িত্বশীল আচরণ করবে সে বিষয়ে যথেষ্ঠ  সংশয় রয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চীন কার্যত দক্ষিণ চীন সাগরে তার আধিপত্য কায়েম করেছে; আর এই অঞ্চলে সামরিক ঘাটিও নির্মাণ করছে।

প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিষয়ে চীনের বিরুদ্ধে  সারা বিশ্বের কাছে তথ্য গোপনের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন আজ পর্যন্ত কেউই জানেনা, এই সংক্রমণ সে দেশে কতখানি মারাত্মক হয়েছে, কত মানুষের জীবন হানি ঘটেছে। আমেরিকা, ইউরোপ, ল্যাতিন আমেরিকা ও  ভারত সহ অন্যন্য দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ জনিত প্রাণ হানির সংখ্যার সঙ্গে  চীনের প্রকাশিত সে দেশের প্রাণ হানির সংখ্যা তুলনা করলে মনে হবে যেন দেশটি সম্পূর্ণরূপে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ কোরে ফেলেছে, বাস্তবে যা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক মহল একেবারেই জানে না এই মহামারির ফলে চীনের অর্থনীতির কতখানি ক্ষতি হয়েছে।

জন বোলটন বলেন, করোনা অতিমারির মূল কারণ  অনুসন্ধানের প্রশ্নেও চীনের আচরণ উদ্বেগজনক। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তা না হলে এতদিনে সে দেশের মহামারী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক মহল এই মহামারী সংক্রান্ত তথ্য বিশ্ববাসীর গোচরে আনতেন।

প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ZTE ও  Huawei-এই দুটি সংস্থার উল্লেখ করেন, যেগুলি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যে তথ্য সরবরাহ করে তা নয়, বরং  এদুটি সংস্থা রাষ্ট্রের দুটি বাহু হিসেবে ভূমিকা পালন কোরে থাকে। তিনি বলেন, এই দুটি সংস্থা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড যোজনার মত সারা বিশ্বে ওই দেশের  অর্থনৈতিক প্রভুত্ব বিস্তারের মাধ্যম। এটাই চীনের দীর্ঘ মেয়াদি রণকৌশল বলে জন বোলটন মন্তব্য করেন। (মূল রচনাঃ- সিদ্ধার্থ  রায়)