ভারত সংস্কার, সম্পাদন এবং রূপান্তরের জন্য প্রস্তুতঃ প্রধানমন্ত্রী

For Sharing

 প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইন্ডিয়া গ্লোবাল উইক ২০২০তে ভাষণ দেন। বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন, ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রী ডোমিনিক রাব এবং  ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের মত রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন শিল্পোদ্যোগী এবং সমাজের  বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষজন। প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ইন্ডিয়া ইঙ্কের প্রশংসা করেন। শ্রী মোদি বলেন, এই ধরণের অনুষ্ঠান বিশ্বের দর্শকের কাছে ভারতের সুযোগ বৃদ্ধি করে। তিনি ভারত ও ব্রিটেনের মজবুত সম্পর্কের প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন বর্তমান সময়ে পুনরুজ্জীবনের কথা বলা স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে বিশ্বের পুনরুজ্জীবনের সঙ্গে ভারতকে যুক্ত করাও স্বাভাবিক। বিশ্বাস করা হয় যে বিশ্বের পুনরুজ্জীবনে ভারত এক বড় ভূমিকা পালন করবে। শ্রী মোদি বলেন ভারতের মেধা শক্তির অবদানের স্বাক্ষী রয়েছে বিশ্ব।

ভারতের পেশাদার, চিকিৎসক, নার্স, ব্যাংকার, আইনজীবী, বিজ্ঞানী, অধ্যাপক এবং আমাদের কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভারতের প্রযুক্তি শিল্প এবং প্রযুক্তি পেশাদারদের কথা কারো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ভারতের সংস্কার এবং পুনরুজ্জীবন লাভের ক্ষমতা অপরিসীম। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীরা সংস্কারসাধক। ইতিহাস দেখিয়ে দিয়েছে যে ভারত সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম-তা সে সামাজিক বা অর্থনৈতিক যাই হোক না কেন। ভারতের সেই সংস্কার ও পুনরুজ্জীবনের শক্তি আজও অব্যাহত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন ভারত বিশ্ব অতিমারির সঙ্গে কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে; তাতে জনস্বাস্থ্যের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। একইভাবে ভারত অর্থনীতির প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। ভারত যখন পুনরুজ্জীবনের কথা বলে তার অর্থ, যত্ন, অনুকম্পা সহ পুনরুজ্জীবন এবং পরিবেশ এবং অর্থনীতি উভয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পুনরুজ্জীবন।

শ্রীমোদি বলেন মোট আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, রেকর্ড সংখ্যক আবাসন এবং পরিকাঠামো নির্মাণ, ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করা, জি এস টি সহ সাহসী কর সংস্কার এবং আয়ুষ্মান ভারতের মত প্রকল্পের মাধ্যমে গত ছ’ বছরে প্রভূত লাভবান হয়েছে। এই সাফল্য পরবর্তী দফার উন্নয়নী প্রয়াসের বুনিয়াদ রচনা করেছে।

অতিমারির সময়ে ভারত সরকার তার নাগরিকের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করছে এবং পরিকাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছে। সরকার অর্থনীতিকে অধিক উৎপাদনশীল, বিনিয়োগ অনুকূল এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।

সরকারের ত্রাণ ব্যবস্থায় সবচেয়ে গরীব লোকেদের সবচেয়ে অধিক সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির ফলে প্রতিটি পয়সা সরাসরি লাভার্থীদের কাছে পৌঁছে গেছে। এই ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে কোটি কোটি মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য সষ্য প্রদান এবং আরো অনেক কিছু। ভারতে আনলক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার   সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র বিশ্বের বৃহত্তম জন-কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু করেছে যাতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা করা যায়। এর ফলে কেবল গ্রামীণ অর্থনীতিরই উন্নতি হবে না; গ্রামীণ এলাকায় স্থায়ী পরিকাঠামোও নির্মিত হবে।

ভারত বিশ্বের উন্মুক্ত অর্থনীতিগুলির অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী বলেন সরকার বিশ্বের বড় বড় কোম্পানীগুলিকে ভারতে বিনিয়োগের জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানায়। আজ ভারতে যে ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে তা  বিশ্বের খুবকম দেশেই দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের  কৃষিক্ষেত্রে সাধিত সংস্কার আকর্ষনীয় বিনিয়োগের সুবিধা প্রদান করেছে। ভারত সরাসরি কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদের সামনে  দরজা উন্মুক্ত করছে।

শ্রী মোদি বলেন এম  এস এম ই ক্ষেত্রে প্রভূত সংস্কার ঘটেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও ভারতে প্রযুক্তি এবং স্টার্ট-আপ ক্ষেত্র প্রাণবন্ত। ডিজিটাল ক্ষমতাপ্রাপ্ত লোকেদের জন্য এখানে এক বিশাল বাজার রয়েছে।

শ্রী মোদি বলেন, অতিমারি দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের  ওষুধপত্র শিল্প কেবল ভারতের নয়-সারা বিশ্বের সম্পদ। সমগ্র বিশ্বের শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকার দুই তৃতীয়াংশ তৈরি করে ভারত। আজও আমাদের বিভিন্ন কোম্পানী কোভিড ১৯ এর টিকা উদ্ভাবন এবং তৈরীর জন্য আন্তর্জাতিক প্রয়াসে সক্রিয় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন ১.৩ বিলিয়ন ভারতবাসী আত্মনির্ভর ভারতের ডাক দিয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত বিশ্বের সরবহার শৃংখলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং ভোগের সমন্বয় ঘটায়। দক্ষতা, সমতা এবং সহনশীলতা বৃদ্ধির নীতি অনুসরণ করে চলবে।

সমগ্র বিশ্বের মঙ্গল এবং সমৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই ভারত করবে। এটি এমন এক ভারত যেখানে সংস্কার, সম্পাদন, এবং রূপান্তরের কাজ ঘটে চলেছে। এটি এমন এক ভারত যেখানে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এটি এমন এক ভারত যেখানে উন্নয়নের মানব কেন্দ্রিক ও সর্বাত্মক দৃষ্টিভঙ্গী গৃহীত হচ্ছে। (মূল রচনাঃ কৌশিক রায়)