আফগান শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ক সম্মেলন

For Sharing

কাবুল আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ক একটি সপ্তাহব্যাপী ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করেছে। শান্তি এবং পুণর্মিলন প্রসঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানোর  লক্ষ্যেই এর আয়োজন করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৯টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। ইরান, ভারত, পাকিস্তান, আজারবাইজান, মিশর, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, কাতার, সৌদি আরব, রাশিয়া, তাজাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রসংঘ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংগঠন এতে অংশ নিচ্ছে। আফগানিস্তানের বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রী মহম্মদ হানিফ আটমার বৈঠকগুলির পৌরহিত্য করছেন। আফগান বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা আফগানিস্তানে হিংসা প্রশমন, তালিবান বন্দীদের মুক্তি, আন্তঃআফগান আলোচনা ও সংঘর্ষ বিরতি প্রসঙ্গে আলোচনা করছেন।

আফগান সরকার যদিও জানিয়েছে, সেদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং সংঘর্ষ অবসানের লক্ষ্যে অবিলম্বে ঐ আন্তঃআফগান আলোচনা শুরু করা হবে, তবে  শান্তি প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষেত্রে এখনও সেখানে একাধিক বাধা রয়েছে।   আলোচনায় বিলম্বের একটা বড় কারণ হল, এবছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালিবানদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানের  কারাগারে থেকে যে ৫ হাজার বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল তার মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুক্তি দিতে আফগান সরকারের অসম্মতি। আফগান সরকার জানায়, ঐ চুক্তি অনুসারে ৪১৫ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে বাকী ৫৯৭ জন গুরুতর নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত। আফগান সরকার আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালিবানদের সঙ্গে তাদের প্রথম শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে দেশে নিয়মিতভাবে হামলা, বোমা বিস্ফোরণ ও সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার ঘটনা ঘটে চলেছে।

২০২০’র ২৯শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালিবানদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেও বন্দী মুক্তি নিয়ে আফগানিস্তান সরকার ও তালিবানদের মধ্যে মতপার্থক্যের দরুন শান্তি এখনো অধরা রয়ে গেছে। এর ফলে ১০ই মার্চের মধ্যে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয় নি। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি  আশরফ গনি এবং তাঁর বিরোধী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, কোভিড – ১৯ অতিমারির দ্রুত বিস্তারের মধ্যে হিংসার ঘটনা, সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে আরো জটিল করে তুলেছে। রাষ্ট্রপতি গনি এবং আবদুল্লাহ আবদুল্লার মধ্যে ক্ষমতা বন্টন সংক্রান্ত সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে। কাবুলে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাপ্তিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সর্বতোভাবে স্বাগত জানিয়েছে। এর ফলে আন্তঃ আফগান শান্তি আলোচনায় এই দুই নেতা সক্রিয় হতে পারবেন।

আফগানিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একমাত্র তালিবানরাই লাভবান হয়েছে। আফগানিস্তানের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বর্তমানে তারা বৈধ শক্তি হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়াও তালিবানরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও একটি সমঝোতায় আসার ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছে। অথচ এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এর আগে তালিবানদের এই ব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে দেখতে প্রস্তুত ছিল না। তবে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুসারে তালিবানদের চরমপন্থী অংশ আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা অন্যান্য কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করছে। হাক্কানি নেটওয়ার্ক ইসলামিক স্টেট অব খোরাসানকে বিভিন্ন হামলার পিছনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কাবুলের গুরুদোয়ারায় গত মার্চ মাসের হামলার ঘটনা স্মরণ করা যায়।

ভারত আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখছে। এখনও পর্যন্ত ভারত এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে। নতুন দিল্লি ইতিমধ্যেই ঐ প্রাথমিক সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। ভারত গনি সরকারকে সমর্থন করে। ভারত চায়, তালিবানরা আফগানিস্তানের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামোকে স্বীকার করুক। বর্তমান কোভিড অতিমারির পরিস্থিতিতে ভারত তার সহায়তার নীতি অনুসরণ ক’রে সাধারণ আফগান নাগরিকদের স্বার্থে সেদেশে ঔষধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।

(মূল রচনা – ডঃ স্মিতা)