প্যারিস চুক্তির আওতায় ধনী দেশগুলির কাছে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আবেদন ভারতের

For Sharing

 এখন থেকে পাঁচ মাস পর ডিসেম্বরে ১৯৭টি দেশের ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি সম্পাদনের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এই চুক্তিতে বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারকে প্রাক-শিল্প স্তরের দু ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে সীমিত রাখার কথা বলা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই সীমা বাড়িয়ে ১ ডিগ্রি করার কথা। এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য প্রতিটি স্বাক্ষরকারী দেশ নিজেদের জাতীয় পরিকল্পনা পেশ করে, যাতে কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য স্থির করা হয় এবং এই লক্ষ্য অর্জনের উপায়ও স্থির করা হয়।

চুক্তির আওতায় ধনী এবং বিকশিত দেশগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বকে আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।

প্রতি বছর প্যারিস চুক্তির পূর্ণ রূপায়ণ এবং বিশ্ব জলবায়ু সংক্রান্ত ব্যবস্থার প্রতি অব্যাহত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন এবং অগ্রগতি শুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রিম আলোচনার জন্য একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। করোনা ভাইরাস অতিমারির প্রেক্ষিতে, এবছরের বৈঠক ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল চতুর্থ অধিবেশন। ইওরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, এবং ক্যানাডা এর সহ-সভাপতিত্ব করে।

জলবায়ু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চতুর্থ মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন তিরিশটি দেশের মন্ত্রী এবং প্রতিনিধিরা। এদের মধ্যে রয়েছে জি-২০ এবং রাষ্ট্র সংঘ জলবায়ু আলোচনার অন্যান্য প্রধান পক্ষগুলি। বৈঠকে প্যারিস চুক্তি এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রাধান্য পায় গ্রীন রিকভারি।

ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। ভারত বিকশিত দেশগুলির প্রতি UNFCCC এবং প্যারিস চুক্তির সংস্থান অনুযায়ী বিকশিত দেশগুলির প্রতি উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। তারা  উল্লেখ করে যে ২০২০র মধ্যে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি এখনও পালন করা হয় নি। ভারত আশা করে যে প্রতিশ্রুত অর্থ সংগৃহীত হবে এবং বিকাশশীল দেশগুলির জলবায়ু ব্যবস্থাপনা আরো মজবুত করার লক্ষ্যে এবছরের শেষ নাগাদ সেই অর্থ প্রদান  করা হবে।

ভারত এই চুক্তির প্রতি নিজের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যদের তাদের অবদান যোগেতে বলেছে। ভারত বিশ্ব মঞ্চের সামনে তাদের গ্রীণ ব্যবস্থা তুলে ধরে। ভারত বলেছে তারা ২০০৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ২১শতাংশ কার্বন নির্গমন হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের প্রাক-২০২০ স্বেচ্ছামূলক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

মার্চ ২০১৫ থেকে মে ২০২০র মধ্যে জীবশ্ম বহির্ভুত উৎস থেকে ৭.২ শতাংশ অধিক বিদ্যুৎ  উৎপাদন করেছে। নবীকরণ যোগ্য জ্বালানী শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অগ্রণী দেশ হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেছে এবং এই ক্ষেত্রে আরো বিনিয়োগ করছে। গত ৫ বছরে ভারতের নবীকরণযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন ক্ষমতা ২২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই পরিমাণ ৮৭ গিগাওয়াটের বেশি। দেশের লক্ষ্য হল এই পরিমাণ ৪৫০ গিগাওয়াটে বৃদ্ধি করা।

সরকার জনগণকে স্বচ্ছ রান্নার জ্বালানী এবং স্বাস্থ্য কর পরিবেশ প্রদান করেছে। ভারতের মোট বনাঞ্চল বর্তমানে ৮০৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার। উজালা প্রকল্পের আওতায় ৩৬০ মিলিয়ন  এল ই ডি বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে। এরফলে বছরে ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুতের সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে এবং ৩৮মিলিয়ন টন কার্বন ডাইওক্সাইড হ্রাস পাচ্ছে। এল পি জির  সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর প্রকল্পের আওতায় ৮০ মিলিয়ন এল পি জি কানেকশন দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ এলাকায়।

সবুজ প্রয়াসের আওতায় ভারত ৪০০টাকা কোল সেস বসিয়েছে। এখন এটি পণ্য ও পরিষেবা করের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভারত অধিকতর স্বচ্ছ জ্বলানী ব্যবহারের প্রয়াসের কথা উল্লেখ করে। ভারত স্মার্ট সিটি মিশনের আওতায় ক্লাইমেট স্মার্ট সিটিস এ্যাসেস্মেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৯ চালু করেছে।  এর লক্ষ্য হল জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ভারতে বিভিন্ন  শহর এবং শহুরে ভারতের জন্য স্বচ্ছ রূপরেখা প্রদান করা।

বৈঠকে প্যারিস চুক্তির সঙ্গে বিশ্ব পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার সামঞ্জস্য বিধান এবং ভবিষ্যৎ সংকটের বিরুদ্ধে শক্তি বৃদ্ধি করার প্রতি আলোকপাত করা হয়।  (মূল রচনা কে ভি ভেঙ্কটসুব্রাহ্মনিয়াম)