বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত সঠিক পথে    

For Sharing

 

বিশ্বে নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ছ’মাস পর ভারত কেবল এর প্রকোপ বিলম্বিতই করে নি এর মারাত্মক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।  পজিটিভ কেসের দৈনিক বৃদ্ধির হার অনেকটাই কম করা গেছে এবং সুস্থতার হার ৬৩ শতাংশ চাড়িয়ে গেছে। ভারতের বিশাল জনসংখ্যার প্রতি যত্নবান হওয়ার লক্ষ্যে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যথা সময়ে প্রধানমন্ত্রীর লকডাউনের সিদ্ধান্তের ফলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়। জানুয়ারী মাসে ভারতের কেবল একটি ল্যাবরেটরি ছিল কোভিড ১৯ এর নমুনা পরীক্ষা করার মত। এখন সারা দেশে ১২০০র বেশি ল্যাবরেটরি তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার সুবিধা বাড়ায় সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ভারত ১২  মিলিয়ন নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর ফলে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ওপরও কার্যকর প্রভাব পড়েছে।

ভারতে কোভিড ১৯ পজিটিভ কেসের সংখ্যা ৯ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে; তবে ৬৩ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। স্বদেশে তৈরি টিকা ক্যান্ডিডেটের মানব দেহে পরীক্ষা চলছে, তাছাড়া বেশি প্রভাবিত দুটি শহর দিল্লি ও মুম্বাইয়ে এই রোগের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। ভারতের ২০টি রাজ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শর্ত অনুযায়ী দিনে প্রতি মিলিয়নে ১৪০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভারত প্রতি মিলিয়নে ৮,৭৬২.৭জনের পরীক্ষা করছে। যখন পজিটিভ কেস ৩৮শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তখন ভারত সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন এই হার কমে হয়েছে মাত্র ৩.২৪ শতাংশ।

এছাড়া, ভারতে কেস এবং মৃত্যুর হার প্রতি মিলিয়নে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম। ভারতে মৃত্যুর হার ২.৬২ শতাংশ; এটি খুবই স্বস্তির বিষয়। আরো বলা যায়, হাসপাতালে অনেক শয্যা খালি রয়েছে এটি নিঃসন্দেহে সন্তোষের বিষয়। ভারতের ফার্মা শিল্প কোভিড ১৯ রোগীদের উপযোগী নানান ধরণের ওষুধ তৈরি করেছে।    পি এম কেয়ার ফান্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত ভেন্টিলেটর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

নাগরিক সমাজ, সরকার বহির্ভুত সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবীরা যেভাবে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাও খুবই প্রশংসনীয়। তারা এই ভাইরাসের প্রকোপ কম করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করে যাতে পরীক্ষার কাজ সুবিন্যস্ত করা যায়।

গত শতাব্দীর সমান্তরাল অনুরূপ এই অতিমারি অর্থনীতি এবং জীবিকাকে  ব্যপকভাবে প্রভাবিত করেছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করতে হবে; সরকার বিনামূল্যে বিশ্বের বৃহত্তম  খাদ্যসষ্য বিতরণ প্রকল্প শুরু করেছে। এর আওতায় আনুমানিক দেড় লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে। লকডাউনের ফলে পরিযায়ী শ্রমিকরা সমস্যায় পড়ে এবং সরকার ৫০,০০০কোটি টাকার কর্মসংস্থান প্রকল্প নিয়ে ছ’টি রাজ্যে সময়মত তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। এই রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা সর্বাধিক।

অর্থনীতিকে পুনরূজ্জীবিত করতে সরকার ২০লক্ষ কোটি টাকার ত্রাণ ব্যবস্থা চালু করে, এতে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই উপকৃত হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পে ভারতের সবচেয়ে বেশি লোকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হয়। এই ক্ষেত্রের প্রতি সরকার যথোচিত দৃষ্টি দিয়েছে।

কৃষকদের স্থানীয় কৃষি বিপনন সমিতির হাত থেকে মুক্ত করতে কৃষি ক্ষেত্রের জন্য সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন তারা উৎসাহবর্ধনকারী মূল্য সংযোজন ব্যবস্থা ছাড়াও তাদের কৃষিপণ্য যেখানে খুশী বিক্রি করতে পারবে। আত্মনির্ভর প্যাকেজ যথার্থভাবেই করোনা সংকটকে সুযোগে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে ভারতকে স্বনির্ভর করে তুলছে।  উৎসে কর কেটে নেওয়ার পরিমাণ হ্রাস এবং সংগৃহীত করের মাধ্যমে ৫০০০০ কোটি টাকা সহ নগদ বৃদ্ধির লক্ষ্য হল ভারতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। (মূল রচনা মণিষ আনন্দ)