মালদ্বীপকে ভারতের সহায়তা

For Sharing

কোভিড অতিমারির মধ্যেই মালদ্বীপকে ভারতের সহায়তা বিশ্ব ব্যাপী করোনা সংক্রমণ জনিত সংকটের মধ্যেই ভারত তার প্রতিবেশি দেশ মালদ্বীপের সামাজিক তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। এ সপ্তাহে ভারত মালদ্বীপের ৬১ টি দ্বীপ অঞ্চলে আউটডোর ফিটনেস উপকরণ দিয়ে সাহায্য করল। ২০১৯’এর মার্চ মাসে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ ইব্রাহিম সোলিহ’র নতুন দিল্লি সফর কালে ভারত সে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নী প্রকল্পের  জন্য ৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা ঘোষণা করে। প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম স্থানীয় সংস্থার মাধ্যমে রূপায়ণযোগ্য সমষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প।

ভারতের এই উন্নয়নী সহায়তা প্রসঙ্গে মালদ্বীপ সংসদের অধ্যক্ষ মহম্মদ নাশিদ ভারতের সঙ্গে তাঁর দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি এই সম্পর্ককে তাঁর দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ভারতের মত এক প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সু সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বদা ওয়াকিবহাল থাকতে তাঁর দেশের অন্যন্য নেতাদের অনুরোধ করেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, মালদ্বীপের ৬৮ টি দ্বীপে শিশুদের জন্য উদ্যান নির্মাণের জন্যেও ভারত আগামী চার মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবে। মালদ্বীপের গত সাধারণ নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ ইব্রাহিম সোলিহ’র সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। ভারতের এই সহায়তা সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। ২০১৮’র নভেম্বরে মালদ্বীপে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্কে এক গুণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুটি দেশের মধ্যে উচ্চ স্তরীয় সরকারী প্রতিনিধি স্তরে  নিয়মিত সফর বিনিময় হচ্ছে। ভারত তার এই প্রতিবেশি দেশের জন্য ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করে । এ ছাড়া ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানায়। দুটি দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বার্থের মধ্যে সাযুজ্য বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

মালদ্বীপকেও, বিশ্বের প্রায় সকল দেশের মতই করোনা অতিমারির মোকাবিলা কোরতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সে দেশে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২৮০০ জনের বেশি। ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত মালদ্বীপ দেশটি ছোট বড় প্রায় সহস্রাধিক দ্বীপ নিয়ে গঠিত। করোনা সংক্রমণে আক্রান্তদের ব্যাপারে তথ্য জানতে প্রতিটি দ্বীপের মানুষের কাছে পৌঁছনো সরকারের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই অতিমারির ফলে দেশটির পর্যটন শিল্প অভাবনীয় সংকটে। অথচ এই পর্যটনই মালদ্বীপের বলতে গেলে অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড বিশেষ।

মালদ্বীপের যে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভারত সব সময়ে দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে। ২০২০’র জানুয়ারীতে ভারত মালদ্বীপকে হাম জ্বরের তিরিশ হাজার ভ্যাকসিন জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করেছে। আর বর্তমান কোভিড অতিমারি সংকট মোকাবিলায় সহায়তা হিসেবে ভারত পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা সহ মিশন ‘সাগর’এর আওতায় ৬০০ টন খাদ্য শস্য পাঠিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ জনিত সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য মালদ্বীপ দক্ষিণ এশিও আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতি- ‘সার্ক’ নেতৃবৃন্দের বৈঠকে অংশ নেয়।

রাষ্ট্রপতি মহম্মদ ইব্রাহিম সোলিহ প্রধানত পর্যটন ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল তাঁর দেশ করোনা সংক্রমণ জনিত পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক দিক থেকে কতখানি বিপর্যস্ত তা বৈঠকে তুলে ধরেন। করোনা অতিমারির জেরে ২০২০ সালে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে।  আর এতে কম বেশি সকল দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে; আর যে কটি দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে তার মধ্যে স্বাভাবিক কারণেই মালদ্বীপের নাম সামনের সারিতে এসে যায়।   আর এই কারণেই আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল -(IMF) মালদ্বীপের আন্তর্জাতিক লেনদেনে ঘাটতি পূরণ ও আর্থিক প্রয়োজন  মেটাতে দ্রুত ঋণ সুবিধার আওতায় মালদ্বীপকে ২৮.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।

খবরে প্রকাশ,মালদ্বীপের পর্যটন বাবদ আয় বাড়াতে ভারত সে দেশে একটি এয়ার ট্রাভেল ব্রিজ তৈরি করছে। মালদ্বীপ করোনা অতিমারির কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর প্রতিকূল প্রভাব ন্যূনতম রাখতে তার পররাষ্ট্র নীতির পুনর্বিন্যাস করছে। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি। বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে বৃহৎ শক্তিগুলির মধ্যে সংঘাত ও ভারত-চীন বর্তমান উত্তেজনার মত একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয় ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ( মূল রচনাঃ- ডঃ এম সামাথা)