ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ যোজনা

For Sharing

ভারতীয় রেল ২০৩০’এর মধ্যে সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব যানবাহনের মাধ্যম হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। সম্পূর্ণ কার্বন নির্গমন রহিত যানবাহনের মাধ্যম হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে  ব্রডগেজ লাইনের বৈদ্যুতিকীকরণ, জ্বালানী সাশ্রয় ও পুনর্নবিকরণযোগ্য তেজঃশক্তি ব্যবহারের মত নানা পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণের বিস্তারিত যোজনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই যোজনার অঙ্গ হিসেবে ২০২৩’এর মধ্যে সব ব্রডগেজ লাইনের বৈদ্যুতিকীকরণ করা হবে। প্রতিটি বোগিতে বায়ো টয়লেট বা পরিবেশ বান্ধব শৌচালয় স্থাপন করা হবে।

সম্প্রতি রেল মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ভারতীয় শিল্পের কর্ণধারদের এক সভায় তাঁর ভাষণে বলেন, সমগ্র রেল ব্যবস্থার আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণ করা হবে; আর আগামী ৯/১০ বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ কার্বন নির্গমন বর্জিত করা হবে। তিনি আস্থার সঙ্গে বলেন, এই সব ব্যবস্থা গ্রহণের ফলস্বরুপ আগামী ২০৩০’এর মধ্যে আমরা , ভারতবাসীরা পাবো বিশ্বের প্রথম অন্যতম সর্ব বৃহৎ স্বচ্ছ,নির্মল, পরিবেশবান্ধব রেলব্যবস্থা। রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  ‘এক সূর্য, এক বিশ্ব, এক গ্রিড’ বিশ্বের ধারণা ব্যক্ত করেছেন।  এবং এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে  ভারত, আন্তর্জাতিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য তেজঃশক্তি ব্যবহার কারি দেশগুলির সম্প্রদায়ের মধ্যে শীর্ষ ভূমিকা গ্রহণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

পীযূষ গোয়েল বলেন, ভারত, তার  সহায় সম্পদ আহরণের উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা  ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শ্রম শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমণ জনিত অভাবনীয় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার শক্তি প্রদর্শন করেছে। এই চরম দুঃসময়ে দেশের সব জায়গায় খাদ্যশস্য, ওষুধপত্র, জীবনদায়ী চিকিৎসা সরমজাম,যেমন ভেন্টিলেটর, হাসপাতাল শয্যা, আইসোলেশান বেড,  করোনা সংক্রমিতদের সেবার কাজে নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ- পি পি ই,   সহ সব অত্যাবশ্যক পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করার যাবতীয় দায় দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন কোরে চলেছে। দেশের দূর দূরান্তের এলাকাতে দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক সামগ্রী পৌঁছে দেবার কাজেও ভারতীয় রেল নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সাধারণ ট্রেনের দৌর্ঘের তুলনায় তিন গুণ দৌর্ঘের ট্রেন- অ্যানাকোন্ডা ট্রেন এবং দেশের সব স্থানে সরবরাহ শৃঙ্খলটি অটুট রাখতে ওয়ান স্টপ পার্সেল ট্রেন ‘সেতু’র সূচনা করেছে এই রেল। এই সব অভিনব ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রেল প্রমাণ করেছে, গ্রাহক পরিষেবা ক্ষেত্রে সে নিজেকে পুরোপুরি অন  লাইন কোরতে পেরেছে।

দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠনগুলির অন্যতম ভারতীয় রেল কেবলমাত্র যাত্রী ও মাল পরিবহণ ক্ষেত্রেই নয়, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও প্রয়োজন মেটাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন কোরে থাকে। বিশ্ব ব্যাংকের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রেলের মোট ৬৮ হাজার ৪৪৩ কিলো মিটার রেলপথের নেট ওয়ার্ক ছিল। এর স্থান বিশ্ব্বের চতুর্থ সর্ববৃহৎ দীর্ঘ নেটওয়ার্ক ; প্রথম তিনটি রেল নেট ওয়ার্ক হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। তবে ভারতে প্রতি কিলো মিটার রেল ট্র্যাক, জার্মানি, রাশিয়া, চীন বা কানাডার তুলনায় কম ভৌগোলিক ক্ষেত্র জুড়ে আছে। ফলে এর সম্প্রসারণের এখনও পর্যাপ্ত সুযোগ আছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গেও যুক্ত ভারতীয় রেল  বর্ধিত মাল ভাড়া থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ কোরে  যাত্রী ভাড়ায় ভরতুকি দিয়ে সমাজ সেবার দায়দায়িত্ব পালন কোরে থাকে।  ভারতীয় রেলের এ পর্যন্ত ৪০ হাজার কিলো মিটার লাইনের বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। রেল বগির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে ৫০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

ভারতীয় রেল, অধিক মাত্রায় ট্রেন চালানোর লক্ষ্যে সমগ্র ব্যবস্থার কর্ম ক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি বিকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ধরণের একটি প্রচেষ্টার নাম রিয়েল টাইম ট্রেন ইনফরমেশান সিস্টেম,বা RTIS। এর আওতায় ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত GPS প্রণালী মারফৎ ট্রেনের সঠিক লোকেশান নির্দিষ্ট করা যেতে পারবে। ভারতীয় রেল, যাত্রী ট্রেন পরিচালনায় বেসরকারী ক্ষেত্রকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ভারতীয় রেল অন্যান্য প্রস্তাবিত উদ্যোগের অঙ্গ হিসেবে নতুন প্রজন্মের ট্রেনের সূচনা ও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। (মূল রচনাঃ- যোগেশ সুদ)