মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির  

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউএস ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফোরাম – ইউএসআইএসপিএফ’এর তৃতীয় লিডারশীপ শিখর সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউএস-আইএসপিএফ ২০২০ সালের ইউএস ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষজনকে একত্রিত করতে পেরেছে।  তিনি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সম্পর্ক আরো মজবুত করার ক্ষেত্রেইউএস-আইএসপিএফের ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বছরের মূল ভাবনাটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক – নতুন চ্যালেঞ্জগুলির চালনা।  ২০২০ সাল যখন শুরু হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে পরিস্থিতি এমন হবে।  বিশ্বব্যাপী অতিমারীর অভিঘাত সবার উপরেই পড়েছে। আমাদের  স্থিতিস্থাপকতা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে।  

এবারের শিখরসম্মেলনের মূল বিষয় ছিল ‘নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা’। কোভিড -১৯ অতিমারী থেকে ভবিষ্যত – এরকম একাধিক বিষয় উল্লেখ করে শ্রী মোদি  স্পষ্ট  জানান যে, এই স্বাস্থ্য সঙ্কট ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারত প্রস্তুত। ভবিষ্যত এমন হওয়া উচিত যেখানে সবার মধ্যে  সহযোগিতার মনোভাব থাকবে। তিনি বলেন, এই বিশ্বব্যাপী অতিমারীর অভিঘাত সমস্ত দেশ এবং মানুষজন কে প্রভাবিত করেছে। এটি অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলির জন্য পরীক্ষার সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে  মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ প্রয়োজন।  

এই অতিমারীর মোকাবেলায় রেকর্ড সময়ে ভারত স্বাস্থ্যপরিসেবার সুবিধাগুলি বাড়াতে সফল হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,ভারত সেই সব দেশগুলির অন্যতম যেখানে শুরু থেকেই জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসাবে মুখোশ এবং মুখ ঢাকা দেওয়ার ওপরে গুরুত্ব দিয়েছে এবং  সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচার চালিয়েছে। তিনি বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও  ভারতে কোভিড -১৯ এ মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন। আরোগ্য হারও দ্রুত বাড়ছে। ভারত প্রতিষেধক তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে সহযোগিতা করছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) কিট উত্পাদক। অতিমারী ছাড়াও ভারত বন্যা, দুটি ঘূর্ণিঝড় এবং পঙ্গপাল আক্রমণ ইত্যাদির  মতো একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও মোকাবেলা করেছে। তবে, ভারত এই সব বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অতিমারী ও অন্যান্য দুর্যোগের প্রেক্ষিতে সরকার দরিদ্রদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সরকার  অতিমারীর সময় প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনার মাধ্যমে ৮০ কোটি মানুষকে সহায়তা করছে , এর আওতায় বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বন্টন করা হচ্ছে।  

ভবিষ্যতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ৬৫ শতাংশ ৩৫ বছরেরও কম বয়সী জনসংখ্যা সহ ভারত একটি দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। ভারতের জনগণের লক্ষ্য একটিই – একটি ‘আত্মমানির্ভর’ ভারত গঠন যা এমন একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র যেখানে স্থানীয়কে বিশ্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়। মূল লক্ষ্য হল, ভারতকে নিষ্ক্রিয় বাজার থেকে বিশ্বজুড়ে সরবরাহের সক্রিয় উৎপাদকে রূপান্তর করা।  ভারত বারবার প্রমাণ করেছে যে, তার লক্ষ্যটি বিশ্বের জন্যও ভাল। উদাহরণ স্বরূপ শ্রী মোদী জানান, স্থানীয় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ভারত বিশ্বকে ওষুধ  সরবরাহ অব্যহত রেখেছে। 

ভারত সরকার ব্যবসা ও শ্রম বিষয়ক আইনের সরলীকরণ এবং কর ব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে দেশের যুব সম্প্রদায়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করছে।

ভারতে একটি স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশসমূহ, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলিকে ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেসরকারী ও সরকারী উভয় ক্ষেত্রেই এখানে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।  এর মধ্যে  মূল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং সামাজিক ক্ষেত্রগুলিও রয়েছে। ভারত কয়লা, খনি, রেলপথ, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং পরমাণু ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে আশাবাদী।  ভারত একদিকে যেমন সক্ষমতা বাড়াতে আগ্রহী অন্যদিকে দরিদ্র জনগণের সুরক্ষা ও  নাগরিকদের ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করতেও কাজ করছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম আবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়িত করছে। নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ব্যবসস্থারও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এই  সমস্ত উদ্যোগে বিশ্বমানের প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থার ব্যবহার করা হচ্ছে।   করোনা  ভাইরাস অতিমারী বিশ্বকেও দেখিয়েছে যে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থাগুলির বিকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র ব্যয় নয়, আস্থার উপরে নির্ভর করে। শুধু ভৌগলিক বিষয় নয়, সংস্থাগুলি এখন নির্ভরযোগ্যতাও সন্ধান করছে। ভারত স্থিতিশীলতার পাশাপাশি এ সমস্ত কিছুই ভারতের রয়েছে। 

( মূল রচনা – স্তুতি ব্যানার্জি )