SCO’তে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

For Sharing

এ বছরের শেষের দিকে SCO প্রধানদের কাউন্সিলের সভাপতিত্ব গ্রহণ করার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে ভারত, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা SCO’র উপর তার ভূমিকা প্রসারিত ও সমৃদ্ধ করছে। গত তিন বছর ধরে SCO’ পরিষদে ভারতের ভূমিকা যথেষ্ট আশানুরূপ এবং আত্মনির্ভর ভারতের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ।
গত দুই দশকে SCO ইউরেশিয় অঞ্চলের জন্য একটি প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইউরেশিয় সদস্য দেশগুলির সমষ্টিগত GDP, বিশ্বের মোট GDP’র এক তৃতীয়াংশের সমান।
এই সংস্থায় নতুন দেশগুলির অন্তর্ভুক্তির ফলে স্থায়ী এবং পর্যবেক্ষক উভয় সদস্য হিসাবেই এই সংস্থার কেবলমাত্র সীমানা প্রসারিত হচ্ছে তা নয়, এর ব্যাপ্তি ও কার্যকারিতা আরও প্রশস্ত করতে সহায়ক হচ্ছে। আঞ্চলিক সমন্বয়ের বৃদ্ধির ফলে সাধারণ সুরক্ষা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও শক্তির সম্পর্ক স্থাপন বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ে আর্থ-সামাজিক প্রভাব হ্রাস করতে এই সহযোগিতার বিষয়টি সম্প্রতি স্পষ্ট হয়েছে।
২০০৫ সালে ভারত এই সংস্থায় পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে স্থান লাভ করে এবং ২০১৭ সালে পুর্নাঙ্গ সদস্য পদ লাভ করে। এই আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের যোগদান এই সংস্থার প্রতি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে। এর ফলে এস সি ও ভারতের জন্য নিজের বিশাল প্রতিবেশী অঞ্চলকে পুনরায় যোগ করার একটি মঞ্চ প্রদান করছে যাদের সঙ্গে ভারত দীর্ঘকালীন স্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ। ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইউরেশীয় দেশগুলি ঘনিষ্ঠভাবে জুড়ে আছে। হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণকারীরা সমুদ্র পথে ব্যবসা করত এবং বিস্তৃত ইউরেশীয় অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম বিস্তার লাভ করেছিল। ভারত ও মধ্য এশিয়ার ইতিহাসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। মানুষের যাতায়াত, পণ্য এবং আধ্যাত্মিক ধারনার মাধ্যমে উভয় দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। ভারতীয় চলচ্চিত্র, সংগীত এবং শিল্পের প্রতি মধ্য এশিয়ার গভীর আগ্রহ ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালবাসারই প্রকাশ।
এই অবিচ্ছেদ্দ বন্ধনকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরিতে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার প্রেক্ষিতে SCO’র চলতি প্রকল্পগুলিতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ গ্রহণ করতে পারে।
ভারত স্টার্ট আপ ও উদ্ভাবন, পারম্পারিক ওষুধ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-এই তিনটি নতুন সহযোগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতকে স্টার্ট আপ ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে SCO’র নতুন একটি বিশেষ কার্যকরী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং পরম্পরাগত ওষুধ ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি নতুন সহযোগী গোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং যুব বিজ্ঞানীদের জন্য SCO আলোচনা সভার নেতৃত্ব দেবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন দিল্লি এসসিও-র মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করার জন্য আরও সক্রিয় চেষ্টা করছে। ভারত এ বিষয়ে SCO’র সদস্য দেশগুলির সমর্থন পেয়েছে। নভেম্বর মাসে ভারতে সরকারী সভায় এসসিও প্রধানদের সামনে এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা করবে।
ভারত মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগে উৎসাহ দিয়ে একে অপরের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় করতে ইচ্ছুক। এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বন্ধন এই ক্ষেত্রকে একজুট করতে সক্ষম হবে।
নতুন দিল্লি সর্বদা এই অঞ্চলের বৃহত্তর সমৃদ্ধি ও কল্যাণে SCO’র বিষয়সূচিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সর্বদা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
( মূল রচনাঃ পদম সিং)