প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সংস্কার এগিয়ে যাবার একমাত্র পন্থা

For Sharing

রাজ্যপালদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় শিক্ষানীতি এন ই পি ২০২০ এবং তার গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রাম নাথ কোবিন্দ উপলক্ষে ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন জাতীয় শিক্ষানীতি এন ই পি কোনো একটি সরকারের নয়; এটি সমগ্র দেশের এবং যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তাকে অক্ষরে অক্ষরে এই নীতি রূপায়ন করতে হবে।
তিনি নীতি রূপায়নের বিষয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনার প্রতি গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পিতা-মাতার মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, কারণ এন ই পির সাফল্য নির্ভর করছে, সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উপর।

শ্রীমোদি বলেন যে এন ই পি এবং তার বিভিন্ন সংস্থান সম্পর্কে পরামর্শ প্রক্রিয়ায় যে ব্যপক এবং বিস্তারিত আলোচনা হয় সেই রকম ভাবেই ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এই নীতির সমস্ত সংস্থান এবং খুঁটিনাটি সম্পর্কে আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন মানুষের মনের সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে, তখনই এটি রূপায়িত হতে পারবে।

আমরা যখন কোনো পরিবর্তনের দিকে যাই, তখন মানুষের মনে নানান সন্দেহ এবং প্রশ্নের উদ্রেক হওয়া খুবই স্বাভাবিক। সাবজেক্ট স্ট্রিম তুলে দেওয়ার পদক্ষেপ তাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কতটা প্রভাবিত করবে সে বিষয়ে মাতা-পিতার সন্দেহ থাকতে পারে, শিক্ষকরা জানতে চাইতে পারেন এই ধরনের লেখাপড়ায় পাঠ্যক্রম কিভাবে স্থির করা হবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বলেন বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে এন ই পির উদ্দেশ্য পূরণে পর্যাপ্ত সহায় সম্পদ উপলব্ধ কি না সে বিষয়ে নানান প্রশ্ন থাকতে পারে। সম্মেলনে উপস্থিত সমস্ত রাজ্যপালদের তিনি সংশ্লিষ্ট লোকেদের মধ্যে এই নীতির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে তাদের নিজ নিজ রাজ্যে পচিশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠক করার অনুরোধ জানান।

এন ই পি সারাদেশে যাতে গ্রহণযোগ্য হয় তার জন্য শিক্ষা মন্ত্রক খসড়া প্রণয়ন যে ব্যাপক আলোচনা চালায়, তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই শিক্ষানীতিতে পেশাদারী প্রশিক্ষণ বা ভকেশনলাল ট্রেনিং এর প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি তার উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন প্রাকটিক্যাল ট্রেনিং এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ভারতকে আত্মনির্ভর করতে হলে আমাদের যুব সম্প্রদায়কে দক্ষ করে তুলতে হবে। কম বয়সে পেশাগত প্রশিক্ষণের ফলে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক চাকুরীর বাজারে আমাদের অংশ বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে ব্রেন ড্রেন সমস্যার সমাধানের কথা বলা আছে। বিশ্বের সর্বোত্তম বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যদি ভারতে আসে তবে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনা করতে চাইবে না। তাছাড়া বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশের ফলে তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আরো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন নতুন শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আমরা যত বেশি পড়বো এবং জানবো, এর রূপায়ণ এবং গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা ততই স্পষ্ট হবে। তিনি বলেন গত তিন চার বছর ধরে ধাপে ধাপে এই নীতি তৈরি হয়েছে এবং এর জন্য প্রচুর চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সারাদেশে আলোচনা হচ্ছে বিতর্ক হচ্ছে এবং পর্যালোচনা করা হচ্ছে, এর ফলে এই নীতির সফল রুপায়ন সম্ভব হবে এবং দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রধানমন্ত্রী জানান সংস্কারই হল এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ এবং এর ফলে কেবলমাত্র বর্তমান প্রজন্মই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও উপকৃত হবে। তিনি বলেন জাতীয় শিক্ষানীতি একবিংশ শতাব্দীর ভারতের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে এবং দেশকে এক নতুন যুগে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই নীতি আমাদের যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করবে তিনি আরো বলেন দ্রুততর শিক্ষা সংস্কার তরুণদের আরও দ্রুত শিক্ষা লাভের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

জাতীয় শিক্ষানীতিতে সকলের সুযোগ-সুবিধা এবং উপকারের কথা বলা হয়েছে এবং কোনরকম পক্ষপাতের কোন সুযোগ এই নীতিতে নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ের তালমিলিয়ে চলা এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার জন্য প্রতিনিয়ত সংস্কারের প্রয়োজন। (মূল রচনাঃ শাজি জা)