এস সি ও বৈঠকে ভারত-চীন আলোচনা

For Sharing

সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন এস সি ওর প্রতি ভারতের সংকল্প ইউরেশিয়ার সঙ্গে তার সহযোগিতা মজবুত করার বিষয়ে প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে। এই আঞ্চলিক গোষ্ঠী ভারতের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে নানান সুযোগ সৃষ্টি করে। সংযোগের অভাবে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ স্থাপন এবং অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সুযোগ সুবিধা প্রদান করে। সেই কারণে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এস সি ও বিদেশ মন্ত্রীদের দশম বৈঠকে যোগ দিতে মস্কো সফরে যান। কোভিড ১৯ অতিমারীর ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যে যখন অনিশ্চিত অবস্থা দেখা দিয়েছে এবং লাদাখে উত্তেজনা চলছে সেই সময় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই অঞ্চলের অভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজে বার করার জন্য ভারত ঐতিহাসিক সংযোগ এবং সমন্বয়কে ব্যবহারের পরিকল্পনা করে। আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরের মত প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আঞ্চলিক মঞ্চ হিসেবে এস সি ও এই উদ্দেশ্যগুলিকে স্বাগত জানায়। এর ফলে ভারতের এস সি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার সঙ্গে মধ্য এশিয়া নীতি সংযোগ সাধনের সুবিধে হবে। সেই কারণেই ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে এইসব মাল্টি মডেল পরিবহন এবং জ্বালানি শক্তি প্রকল্পগুলি। এছাড়া আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শুধু এই অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এর ফলে প্রভাবিত হয়েছে। এই বিষয়ে এস সি ও রিজিওনাল এ্যান্টি টেররিজম স্ট্রাকচার এর মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণ ভারতকে কেবল জঙ্গী কার্যকলাপ সংক্রান্ত ডাটাবেসে প্রবেশের অনুমতি দেয় না বরং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনায় সহযোগিতা করে।

অতিমারির ফলে বিভিন্ন দেশের ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে, সেই কারণে ভারত অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার জন্য নতুন নতুন পথে অগ্রসর হচ্ছে কোভিড ১৯এর মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রভাবে বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপ বিকল্প সক্রিয় সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এখানে বিভিন্ন সদস্য দেশ এই মহামারীর মোকাবিলায় সহায় সম্পদ একত্র করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার স্পুটনিক’ ভি টিকার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ভারত বর্তমানে এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষণ এবং উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে। এস সি ওর মহাসচিব ভ্লাদিমির নরভ ২০২০র জানুয়ারিতে ভারত সফরে এলে টিকা গবেষণা এবং উন্নয়নে ভারতের অংশগ্রহণ এবং ভূমিকার স্বীকৃতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৯এ কিরগিজস্তানের বিশকেক শিখর সম্মেলনে সহযোগিতার জন্য HEALTH ফরমেট মজবুত করার প্রস্তাব দেন ( এইচ-স্বাস্থ্য পরিচর্যা সহযোগিতা, ই- অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এ- বিকল্প জ্বালানির উৎস, এল- সাহিত্য ও সংস্কৃতি, টি- সন্ত্রাসবাদ মুক্ত সমাজ, এইচ- মানবিক সহযোগিতা। প্রস্তাবের অগ্রবর্তী ক্ষেত্র হিসেবে স্বাস্থ্য পরিচর্যা সহযোগিতার ওপর সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নগুলি এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জগুলি ছাড়াও বিদেশ মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণ হয় লাদাখে উত্তেজনা প্রবণ সামরিক পরিস্থিতি এন্মগ শত্রুতার অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে।

বৈঠকের অবসরে ড.জয় শংকর চীনের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশ্নে সমাধানের উপায় খুঁজে বার করতে বৈঠকে মিলিত হন। আশা করা হয় যে উভয় দেশ অচলাবস্থার বিষয়ে কোন চুক্তিতে পৌঁছতে পারবে। উভয় মন্ত্রী ভারত-চীন সীমান্ত এলাকার ঘটনাবলী এবং ভারত ও চীনের মধ্যে বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা এবং গঠনমূলক আলোচনা করেন।
.
দুই মন্ত্রী ভারত চীন সম্পর্কে বিষয়ে নেতাদের মধ্যে যেসব ঐকমত্য গড়ে ওঠে সেখান থেকে শিক্ষালাভ করতে রাজি হন। মতপার্থক্যকে কোনভাবেই বিবাদের রূপ না দেওয়ার বিষয়ে তারা ঐকমত্য পোষণ করেন। উভয় পক্ষ একমত হন যে বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি কোন দেশের পক্ষেই অনুকূল নয়, সেই কারণে তারা একমত হন যে উভয় পক্ষের সীমান্ত সৈন্যদের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে, সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে যাতে উত্তেজনা প্রশমন করা যায়।

উভয় পক্ষ এই বিষয়েও রাজি হয় যে তারা ভারত চীন সীমান্তের বিষয়ে উপলব্ধ বর্তমান চুক্তি মেনে চলবে, শান্তি বজায় রাখবে এবং উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি করতে পারে এমন কোন কাজ করবে না। নতুন দিল্লি এবং পেইচিং আরো রাজি হয়েছে যে ভারত-চীন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যোগাযোগ এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে। তারা এ বিষয়ে একমত হয় যে ভারত চীন সীমান্ত প্রশ্নে পরামর্শ এবং সহযোগিতার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উভয় মন্ত্রী একমত হন যে পরিস্থিতি যেমন যেমন সহজ হবে উভয় পক্ষ তেমনি সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং তা বজায় রাখতে আস্থা বর্ধক নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (মূল রচনা: ড. এম এস প্রতিভা)