বিকাশের পথে ফেরার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক পুণরুজ্জীবন  

For Sharing

শরতকালের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেশে অর্থনীতির উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিতে  কিছুটা ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের প্রকাশিত সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সে কথা তুলে ধরা হয়েছে। 

কোভিড ১৯-এর ফলে ব্যাপক অনিশ্চয়তা হ্রাস করার সংগ্রামে অর্থনীতির  সবচেয়ে বিপর্যস্ত ক্ষেত্রগুলিকে জরুরি সহায়তাদানের প্রয়াসের পাশাপাশি সরকারকে কঠোর লকডাউন করতে হয়েছে। ওই সমীক্ষা  অনুসারে, এর ফলে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন পর্বে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার ২৩.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে অন্যদিকে লকডাউনের ফলে আমাদের দেশের বিপুল  জনসংখ্যার প্রেক্ষিতে অতিমারী জনিত মৃত্যুর হার বিশ্বের সর্বনিম্ন মৃত্যুহার সম্পন্ন দেশগুলির অন্যতম হিসাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। এই  সক্রিয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ফলে আমাদের অর্থনীতিতে “ভি-আকৃতি সম্পন্ন” পুণরুজ্জীবন লক্ষিত হচ্ছে। এই ভি আকৃতির অর্থ হল, অর্থনীতিতে একটি সংক্ষিপ্ত পর্বে হঠাৎ অবনতি ঘটলেও পুণরায় তাতে লক্ষ্যনীয়  পুণরুজ্জীবন ঘটছে।   

 ওই সমীক্ষায় আরো বলা হয়েছে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ জুলাই থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেছে। ভারতও খুব দ্রুত অর্থনৈতিক পুণরুজ্জীবনের দিকে এগিয়ে চলেছে। অটো, ট্র্যাক্টর, সার বিক্রয়, রেলপথে পণ্য  পরিবহন, ইস্পাত উত্পাদন ও ব্যবহার, ই-ওয়ে বিল, জিএসটি রাজস্ব সংগ্রহ, মহাসড়কে প্রতিদিনের শুল্ক সংগ্রহ, খুচরা আর্থিক লেনদেন, উত্পাদন সূচক -পিএমআই, মূল শিল্পগুলির কাজকর্ম, মূলধন প্রবাহ এবং রফতানির মধ্যে সেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও এর আগে রফতানি উন্নয়ন পরিষদ – ইপিসির একটি বৈঠকে বলেন, এপ্রিলে অতিমারীর ফলে ব্যপক অবনতির পর ক্রমে দেশের রফতানি ও আমদানি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।     

অর্থ মন্ত্রকের সমীক্ষায় আরো বলা হয়েছে, জুনের পর থেকে ঐ উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে ম্যাক্রো-ইকনমিক সূচকগুলিতে পুনরুজ্জীবন দেখা দিলেও অতিমারীর ফলে অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে। 

তবে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সংকটগুলির মতো অর্থনৈতিক কারণে নয়, বর্তমান অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে অতিমারী থেকে উদ্ভূত স্বাস্থ্যগত কারণ।  

এই অনিশ্চয়তা পুনরুজ্জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোভিডের প্রতিষেধক এসে গেলে এই অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং কোভিড পূর্ব পরিস্থিতিতে ফেরা সম্ভব হবে।   

বিশ্ব তথা দেশীয় ইক্যুইটি বাজারে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা ফিরে এসেছে। কোভিড পূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে এবং অধিকাংশ ক্ষয়ক্ষতি পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে। চলতি বছরে ভারতীয়  সংস্থাগুলি ইক্যুইটি মূলধন হিসেবে রেকর্ড ৩১ বিলিয়ন মার্কিন  ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম করেছে, ব্যাংকগুলি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জন্য প্রস্তুতি নিতে তাদের ব্যালান্স শীটকে আরও জোরদার করেছে, কর্পোরেট ক্ষেত্রও নগদ অর্থের যোগান বাড়ানোর প্রয়াস নিচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাসের মধ্যে ১০.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নতুন শেয়ার ক্রয় করেছে।  

কৃষি ক্ষেত্র একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে এপ্রিল-জুন মাসে ৩.৪ শতাংশ বিকাশ হার বজায় ছিল। বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্যের মূদ্রাস্ফীতি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।  

দেশের অর্থনীতিতে পুণরায় ধীরে ধীরে গতি সঞ্চার হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষেত্র আশাবাদী যে, সরকারের গৃহীত যথাযথ উৎসাহমূলক নীতি এ ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। 

(মূল রচনা – জি শ্রীনিবাসন)