ভারত শান্তি চায় তবে আঞ্চলিক সংহতি রক্ষা করতে প্রস্তুতঃ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

For Sharing

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং পূর্ব লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত বিশ্বাস করে যে ভারত-চীন সীমান্ত সম্পর্ক ধারাবাহিক চুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃত ভৌগলিক রীতিনীতি এবং একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ব্যবহার এবং অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে শত শত বছর ধরে বজায় রয়েছে। তবে চীনের অবস্থান হল উভয় দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি।
ভারত এবং চীন উভয়ই আনুষ্ঠানিকভাবে একমত হয়েছে যে সীমান্ত প্রশ্ন একটি জটিল সমস্যা যার জন্য ধৈর্য প্রয়োজন এবং দুটি দেশ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু, যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বার করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উভয় পক্ষ একমত হয় যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও সুস্থিরতা বজায় রাখা একান্তভাবে অপরিহার্য।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন চুক্তির আওতায় দু’পক্ষ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা(এলএসি) বরাবর শান্তি ও সুস্থিরতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। এই ভিত্তিতেই, আমাদের সামগ্রিক সম্পর্কে ১৯৮৮ সাল থেকে যথেষ্ট অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। ভারতের অবস্থান হল, সীমান্ত প্রশ্ন সমাধানের বিষয়ে আলোচনার সাথে সাথে সমান্তরালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিকশিত হতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সভায় জানান যে এপ্রিলের পর থেকে ভারত লক্ষ্য করেছে যে পূর্ব লাদাখ সংলগ্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চীনা পক্ষ সেনা ও অস্ত্রসস্ত্র মোতায়েন করে চলেছে। মে মাসের গোড়ার দিকে, চীনা পক্ষ গ্যালওয়ান উপত্যকা অঞ্চলে ভারতীয় সেনাদের স্বাভাবিক ও চিরাচরিত টহলদারীতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও প্রোটোকলের বিধান অনুসারে গ্রাউন্ড কমান্ডাররাও যখন এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিলেন, সেই সময় মে মাসের মাঝামাঝি চীনা পক্ষ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য অংশে এলএসি লঙ্ঘন বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা চালায়। এসবের মধ্যে রয়েছে কংকা লা, গোগড়া এবং প্যাঙ্গং লেকের উত্তর তীর। এই প্রচেষ্টাগুলি প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা হয় এবং ফলস্বরূপ আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যথাযথভাবে তার পালটা জবাব দেয়।
ভারত কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় চ্যানেলের মাধ্যমেই চীনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে পেইচিং একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা বদলানোর চেষ্টা করছে। এটি স্পষ্টতই জানানো হয় যে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শ্রী সিং বলেন, এই ঘটনাগুলি থেকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর আচরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে তারা প্ররোচনার সময়ও সংযম বা ধৈর্য বজায় রাখা সত্বেও তারা দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সমানভাবে “শৌর্য” বা বীরত্বের পরিচয় দেয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, সীমান্ত রক্ষায় ভারতের দৃঢ়তার বিষয়ে কারও কোনো রকম সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ভারত বিশ্বাস করে যে পারস্পরিক সম্মান এবং সংবেদনশীলতা প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি। তিনি বলেন, ভারত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান করতে চায়। চীনের সাথে আলোচনায়, ভারত তিনটি মূল নীতি বজায় রেখেছে যা নতুন দিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে: উভয় পক্ষের অবশ্যই এলএসি-কে কঠোরভাবে পালন করতে হবে; কোনো পক্ষের একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করা উচিত নয়; এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সমস্ত চুক্তি এবং বোঝাপড়া সম্পূর্ণরূপে পালন করতে হবে।
চীনের কার্যকলাপের ফলে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অবমাননা করা হচ্ছে। চীনের সৈন্য মোতায়েন পূর্ববর্তী চুক্তির পরিপন্থী। প্রকৃত নিয়ন্ত্র রেখা মেনে চলা সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ভিত্তি এবং ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে স্পষ্টভাবেই তা স্বীকৃত। যদিও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী একে অবিচ্ছিন্নভাবে সমর্থন করে, চীন এই ব্যবস্থার যর্থার্থ প্রতিদান দেয় নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে ভারত সীমান্ত সমস্যাগুলি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য বদ্ধপরিকর। এই উদ্দেশ্যেই তিনি মস্কোয় চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর সাথে গভীর আলোচনা করেছেন। এটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে , বিপুল সংখ্যক সৈন্য সমাবেশ করা, তাদের আক্রমণাত্মক আচরণ এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টার মত চীনা পক্ষের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ভারত উদ্বিগ্ন।
উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে, চীনা পক্ষ আন্তরিকভাবে তা রূপায়িত করলে, সীমান্ত অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণরূপে সৈন্য অপসারণ সম্ভব হবে এবং শান্তি ও সুস্থিরতা ফিরে আসবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সভায় আশ্বাস দিয়ে বলেন যে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল খুব উচ্চে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে আমাদের কমান্ডার এবং সৈন্যরা উপলব্ধি করে পারে যে সমগ্র দেশ তাদের সঙ্গে রয়েছে। শ্রী সিং আমাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য লাদাখের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে যারা মাতৃভূমিকে রক্ষা করে চলেছেন শ্রী সিং সেই সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে একটি প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানান। (মূল রচনা: পদম সিং)।