ভারত–শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে  পারস্পরিক উদ্বেগের  আঞ্চলিক ও  আন্তর্জাতিক বিষয় সহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এই দুই প্রতিবেশী দেশ বহুকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনের আবদ্ধ রয়েছে।

উভয় নেতাই ২০১৯-এর নভেম্বর মাসে এবং ২০২০র ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপক্ষের সরকারি ভারত সফরের কথা স্মরণ করেন । এই সফরগুলি দুই দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী ও সম্পর্কের ভবিষ্যতের প্রতি এক সুস্পষ্ট দিশানির্দেশ করে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণকালে এই অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহায়তা ও সমর্থনের ভিত্তিতে সংক্রমণ প্রতিহত করার লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী যে শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়েছেন তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী রাজাপক্ষ। উভয় নেতাই সহমত পোষণ করে বলেন যে বর্তমান পরিস্থিতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক বাড়তি সুযোগ এনে দিয়েছে।  অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কোভিড অতিমারির প্রভাব কম করতে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী, শ্রীলঙ্কাকে সব ধরণের  সম্ভাব্য সহায়তা করার বিষয়ে নতুন দিল্লীর অঙ্গীকারের কথা জানান।

এই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে, উভয় নেতাই  গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, মৌলবাদ দমন এবং  আস্থা বৃদ্ধি সহ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা  ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার অগ্রাধিকার ক্ষেত্র অনুসারে ফলপ্রসূ ও  কার্যকর উন্নয়নের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখতে এবং ২০২০-২০২৫ সময়কালে উচ্চ প্রভাবযুক্ত সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলির রূপায়নের জন্য সমঝোতার আওতায় কাজ করার বিষয়েও উভয় নেতা সম্মত হয়েছে।

দুই দেশই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৭ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কা সফরের সময় ঘোষিত ১০,০০০ গৃহ নির্মান দ্রুত সম্পূর্ণ করতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি কার্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে ও  সাম্প্রতিক অতিমারির ফলে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এক সুসংহত সরবরাহ চেইন আরও মজবুত করতে সম্মত হয়েছেন।

নতুন দিল্লী ও কলম্বো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগিতা অংশীদারিত্বের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বন্দর ও জ্বালানী ক্ষেত্র  সহ পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের দিশায়  কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের আওতায় সৌর প্রকল্প সহ পুনর্নবীকরণযোগ্য  শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও মজবুত করতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রাজাপক্ষ বৌদ্ধ ধর্ম, আয়ুর্বেদ ও যোগাভ্যাসের মতো অভিন্ন ঐতিহ্য সম্পন্ন সভ্যতার এই দুই দেশের মধ্যে জনসম্পর্ক মজবুত করার ওপর জোর দেন। বৌদ্ধ ধর্মের তাৎপর্যকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হিসেবে উন্নীত পবিত্র শহর কুশীনগরে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানটি আসবে শ্রীলঙ্কা থেকে বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের প্রতিনিধি দলকে নিয়ে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে একটি এয়ার বাবল তৈরিতে সম্মত হয়েছেন।

রাষ্ট্র সঙ্ঘের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্য সহ বর্তমান পরিকাঠামো ও অংশীদারিত্বে লক্ষ্যের ভিত্তিতে দ্বিপাকিক পর্যায়ে ও নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে মৎসজীবী সম্পর্কিত সমস্যার মোকাবিলায় উভয় দেশ আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

দুই দেশের মধ্যে বৌদ্ধ সম্পর্ককে তুলে ধরতে ভারতের দেড় কোটি  মার্কিন ডলার অনুদানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী যে ঘোষণা করেছেন শ্রী রাজাপক্ষ সেটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই অনুদান বৌদ্ধ বিহার নির্মান ও তার সংস্কার, সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, প্রত্নতাত্ত্বিক সহযোগিতা,বৌদ্ধ ধর্মের পন্ডিতদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা সহ দুই দেশের মধ্যে জনসম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তুলতে সহায়তা করবে।

 প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী, শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী রূপায়নের সঙ্গে সঙ্গে সেদেশে বসবাসরত তামিল জনগণের পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সহ তাদের সাম্য, ন্যায়বিচার, শান্তি ও সম্মানের আকাঙ্খাগুলি মেটানোর আহ্বান জানান। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রাজাপক্ষ প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান যে শ্রীলঙ্কার  জনাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সাংবিধানিক সংস্থান অনুযায়ী তামিল সহ সমস্ত জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যাশা ও আশা-আকাঙ্খা পূরণের লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করবেন।

উভয় নেতা, সার্ক, বিমস্টেক আইওআরএ ও রাষ্ট্র সঙ্ঘের কাঠামোর মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ক্রমবর্ধমান সংহতিকে স্বীকার করেন। বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চেও একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন উভয় নেতাই।

[মূল রচনা – কৌশিক রায়]