ভারতীয় অর্থনীতিতে উন্নয়নের গতি ফিরে আসছে

For Sharing

প্রাপ্ত অর্থনৈতিক সকল সূচকের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী ভারতীয় অর্থনীতি কোভিড ১৯ পূর্ববর্তী স্বাভাবিকরার দিকে ফিরে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে চাহিদার স্তর স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে উত্পাদনও বাড়ছে। গ্লোবাল সাপ্লাই চেনে ভারতের অবস্থানের প্রতি বিশ্বে্র যে আস্থা ফিরে আসছে,তাঁর প্রমাণ স্বরূপ ছয় মাস পর রফতানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এই রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রায় ৫.৩ শতাংশ। দু’চাকার গাড়ি, চার চাকার গাড়ি এবং ট্রাক্টর বিক্রিতে তেজী ভাব অর্থব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত শুভ সঙ্কেত বহন করছে।
অর্থনৈতিক কাজকর্মে তেজী ভাব কিছুটা হলেও যে ফিরে আসছে তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হল গত ছয় মাস ক্রমাগত হ্রাসের পর পণ্য ও পরিষেবা কর- (জিএসটি) সংগ্রহে গত সেপ্টেম্বরে বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধির হার অর্জিত হয়েছে চার শতাংশের মত। দীর্ঘ দিন লক ডাউন চলার পর অর্থনৈতিতে আন লক প্রক্রিয়া শুরু হবার ফলে আর্থিক কাজকর্মে যে ক্রমশ বৃদ্ধি হচ্ছে, (জিএসটি) সংগ্রহে এই বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে তারই প্রমাণ।
ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে কারখানা জাত উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্পাদন সূচকে বেশ কিছু দিন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের জন্য নিক্কি ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারের সূচক (পিএমআই) অনুযায়ী কারখানা জাত উপাদনের সূচক সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৫৬.৮ শতাংশ; আগস্টে যে সূচক ছিল ৫২।
সূচক ৫০’এর উপরে থাকায় এটি স্পষ্ট যে সরকার অর্থনীতির উন্নয়নী গতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে লক ডাউন চলার সময় যে আর্থিক প্যাকেজ সুবিধা ঘোষণা করে তার সুফল এখন ফলতে শুরু করেছে।

অর্থনৈতিক উন্নতির অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে রেলে মালপত্র পরিবহণ ১৫ শতাংশের মত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এই হারে ক্রমশ বৃদ্ধি বজায় রয়েছে। এ ছাড়াও অভিবাসী শ্রমিকদের তাদের কাজের জায়গায় ফিরে যেতে সহায়তা করার জন্য যে সব বিশেষ ট্রেন চালান হচ্ছে তার ফলেও অর্থনীতিতে তার অনুকুল প্রভাব পড়ছে।

লকডাউন চলাকালীন কৃষিক্ষেত্রে মোটামুটি স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়েছে ফলে গ্রামীণ চাহিদা স্থিতিশীল আছে যা অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রধানমন্ত্রীর কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের মত নানা কৃষক কল্যাণ মূলক যোজনার আওতায় কৃষকদের আয় বাড়ানোর জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি এক লক্ষ কোটি টাকার অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রামীণ চাহিদা বৃদ্ধিতে সরকারের এই যোজনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ট্রাক্টর বিক্রির সংখ্যায় যে বিশেষ বৃদ্ধি ঘটেছে, তা উত্পাদনকারীদের কাছেও আশাতীত ছিল। একটি ভাল বর্ষা সর্বদাই অর্থনীতির জন্য শুভ সঙ্কেত বহন করে। এ বছর তাও আশানুরূপ হয়েছে, বলতে গেলে একটু বেশিই হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে গত ৬১ বছর পর দেশে এই নিয়ে পর পর দু বছর বরুণদেব অকৃপণ হাতে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন।

ট্রাক্টর ছাড়াও অটোমোবাইল সেক্টরে কাজকর্মে গতি ফিরে এসেছে। কারণ গত মাসে দুচাকা গাড়ি ও চার চাকার গাড়ির বিক্রি গত বছর এই একই সময়ের বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে।
কোভিড -১৯ মহামারী প্রশমিত করতে মুখ্য ভূমিকার জন্য ভারতের ওষুধ শিল্পের ভুমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এই উৎপাদন ক্ষেত্রটি লকডাউনে প্রভাবিত না হওয়ায় আমেরিকার মত শিল্পোনত দেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে। । আগামী মাসগুলিতে, ভারত নিজেই কোভিড ভ্যাকসিন উত্পাদন কোরতে সক্ষম হবে বলে সকল মহলের প্রত্যাশা ।
ভারত অর্থনীতির প্রাণ শক্তি স্বরূপ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগকে সহায়তা করার বিভিন্ন ব্যবস্থা, স্থানীয় উত্পাদনে উৎসাহদান, এবং কৃষিক্ষেত্র থেকে শ্রম পর্যন্ত অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রের সংস্কার সাধন এবং এই মহামারির আবহেও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকারের ঘোষিত ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক উদ্দীপক প্যাকেজ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকোপের আশংকা অর্থনীতির সামনে নিঃসন্দেহে এক উদ্বেগের বিষয়; তাই নীতি নির্ধারকদের এখন থেকেই সম্ভাব্য সব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে। (মূল রচনাঃ- মনীশ আনন্দ)